মূল্যবৃদ্ধির বিক্ষোভ শুরুর আগেই ভর্তুকি ঘোষণা পাকিস্তানে
jugantor
মূল্যবৃদ্ধির বিক্ষোভ শুরুর আগেই ভর্তুকি ঘোষণা পাকিস্তানে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বিক্ষোভ-অসন্তোষ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রধানের পরামর্শ মতোই এগোচ্ছে পাকিস্তান সরকার।

গত সপ্তাহে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছিলেন, মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় পড়ে যাওয়া নিুবিত্তের বিক্ষোভ ঠেকাতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে ভর্তুকি দিতে হবে।

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জনঅসন্তোষ ঠেকাতে প্রকারান্তরে আইএমএফ-প্রধানের ফর্মুলা অনুসরণ করছে সরকার।

এক কোটি ৪০ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল। শনিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মন্ত্রী। ডন, এএফপি।

পাকিস্তানে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির দাম বেড়েছে লিটারপ্রতি ৩০ রুপি। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে বাস ভাড়াও। শুরু হয়েছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি। তেলের মূল্য বাড়ানোর পরপরই সরগরম হয়ে উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। জনগণের জ্বালাময়ী পোস্টগুলো দানা বাঁধতে থাকা বিক্ষোভেরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঠেকাতে ভর্তুকি দিয়ে শান্ত করার পথ বেছে নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘ত্রাণ প্যাকেজ’ আকারে এক কোটি ৪০ লাখ যোগ্য পরিবারকে ভর্তুকি দেওয়া হবে। মিফতাহ ইসমাইল জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ ঘোষণা করেছিলেন পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে জনসাধারণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য আসন্ন বাজেটে দুই হাজার ৮০০ কোটি রুপির প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত করবে।

এ প্যাকেজের বাইরেও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করতে সরকার প্রায় সাড়ে আট কোটি জনগণকে দুই হাজার রুপি করে দেওয়া হবে।

মিফতাহ জানিয়েছেন, বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামের (বিআইএসপি) সাত কোটি ৩০ লাখ মানুষ ইতোমধ্যেই দুই হাজার রুপি করে পেয়েছেন। সরকার ডাটাবেসে আরও ৭০ লাখ লোককে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে-যারা জ্বালানিভর্তুকি হিসাবে দুই হাজার রুপি করে পাবেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের অধীনে এমন কিছু পরিবার অন্তর্ভুক্ত হবে, যাদের মাসিক আয় ৩৫ হাজার রুপি বা তার কম। আর এতে উপকৃত হবে অন্তত সাড়ে আট কোটি মানুষ।’ পিপিপি-এর সিনেটর মুস্তফা নওয়াজ সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘একটি নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে আইএমএফ-এর কাছে যাওয়া উচিত।’

মুস্তফার সমর্থনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি ঠিক বলেছেন, নতুন সরকার আগামী বছর নতুন ম্যান্ডেটসহ আইএমএফের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি করবে।

এ চুক্তিতে জোট সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে এনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বর্তমানে আমরা পিটিআই সরকারের রেখে যাওয়া আইএমএফ প্রোগ্রামটি চালিয়ে যাচ্ছি।’

লোডশেডিং নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকার এলএনজি সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করেনি এবং এখন আমরা বেশি দামে এলএনজি কিনছি। তাই বর্তমানে লোডশেডিং বন্ধ করা সম্ভব নয়। জাতীয় কোষাগার খালি।’ ‘এ কারণে’, অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফ-এর সঙ্গে পিটিআই সরকারের চুক্তি অনুসারে সব ভর্তুকি অপসারণ করা হয়েছে।

ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে, বিক্রয় কর আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে বেড়ে গেছে জ্বালানি তেলের মূল্যও।’ এক প্রশ্নের জবাবে মিফতাহ জানান, ১ জুন থেকে আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি-না, তা তিনি জানেন না।

মূল্যবৃদ্ধির বিক্ষোভ শুরুর আগেই ভর্তুকি ঘোষণা পাকিস্তানে

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বিক্ষোভ-অসন্তোষ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রধানের পরামর্শ মতোই এগোচ্ছে পাকিস্তান সরকার।

গত সপ্তাহে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছিলেন, মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় পড়ে যাওয়া নিুবিত্তের বিক্ষোভ ঠেকাতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে ভর্তুকি দিতে হবে।

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জনঅসন্তোষ ঠেকাতে প্রকারান্তরে আইএমএফ-প্রধানের ফর্মুলা অনুসরণ করছে সরকার।

এক কোটি ৪০ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল। শনিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মন্ত্রী। ডন, এএফপি।

পাকিস্তানে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির দাম বেড়েছে লিটারপ্রতি ৩০ রুপি। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে বাস ভাড়াও। শুরু হয়েছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি। তেলের মূল্য বাড়ানোর পরপরই সরগরম হয়ে উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। জনগণের জ্বালাময়ী পোস্টগুলো দানা বাঁধতে থাকা বিক্ষোভেরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঠেকাতে ভর্তুকি দিয়ে শান্ত করার পথ বেছে নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘ত্রাণ প্যাকেজ’ আকারে এক কোটি ৪০ লাখ যোগ্য পরিবারকে ভর্তুকি দেওয়া হবে। মিফতাহ ইসমাইল জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ ঘোষণা করেছিলেন পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে জনসাধারণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য আসন্ন বাজেটে দুই হাজার ৮০০ কোটি রুপির প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত করবে।

এ প্যাকেজের বাইরেও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করতে সরকার প্রায় সাড়ে আট কোটি জনগণকে দুই হাজার রুপি করে দেওয়া হবে।

মিফতাহ জানিয়েছেন, বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামের (বিআইএসপি) সাত কোটি ৩০ লাখ মানুষ ইতোমধ্যেই দুই হাজার রুপি করে পেয়েছেন। সরকার ডাটাবেসে আরও ৭০ লাখ লোককে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে-যারা জ্বালানিভর্তুকি হিসাবে দুই হাজার রুপি করে পাবেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের অধীনে এমন কিছু পরিবার অন্তর্ভুক্ত হবে, যাদের মাসিক আয় ৩৫ হাজার রুপি বা তার কম। আর এতে উপকৃত হবে অন্তত সাড়ে আট কোটি মানুষ।’ পিপিপি-এর সিনেটর মুস্তফা নওয়াজ সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘একটি নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে আইএমএফ-এর কাছে যাওয়া উচিত।’

মুস্তফার সমর্থনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি ঠিক বলেছেন, নতুন সরকার আগামী বছর নতুন ম্যান্ডেটসহ আইএমএফের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি করবে।

এ চুক্তিতে জোট সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে এনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বর্তমানে আমরা পিটিআই সরকারের রেখে যাওয়া আইএমএফ প্রোগ্রামটি চালিয়ে যাচ্ছি।’

লোডশেডিং নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকার এলএনজি সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করেনি এবং এখন আমরা বেশি দামে এলএনজি কিনছি। তাই বর্তমানে লোডশেডিং বন্ধ করা সম্ভব নয়। জাতীয় কোষাগার খালি।’ ‘এ কারণে’, অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফ-এর সঙ্গে পিটিআই সরকারের চুক্তি অনুসারে সব ভর্তুকি অপসারণ করা হয়েছে।

ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে, বিক্রয় কর আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে বেড়ে গেছে জ্বালানি তেলের মূল্যও।’ এক প্রশ্নের জবাবে মিফতাহ জানান, ১ জুন থেকে আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি-না, তা তিনি জানেন না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পাকিস্তানে অস্থির রাজনীতি