প্লাস্টিকের ফাঁদে পাখির জীবন
jugantor
প্লাস্টিকের ফাঁদে পাখির জীবন

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকৃতির অন্যতম সৌন্দর্য আকাশে উড়ে বেড়ানো রঙ-বেরঙের নানা জাতের পাখি। পাখি ছাড়া প্রকৃতি যেন একেবারেই বেমানান। অথচ মানুষের ফেলে দেওয়া বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী বিশ্বের জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমেরিকান প্রকৃতিবিদ রজার টরি পিটারসনের কথায়, প্রকৃতির এ অনন্য নিদর্শন পাখিরা যদি কোনো সমস্যায় পড়ে তবে এটা জানা উচিত যে আমরাও শিগগিরই সমস্যায় পড়তে চলেছি। পাখিদের নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশেই প্লাস্টিকের মধ্যে বাসা বাঁধছে পাখি। এমনকি প্লাস্টিকের মধ্যেই বিচরণ তাদের। ঘর বানাতে ব্যবহার করছে প্লাস্টিকের দড়ি, প্লাস্টিকের বরশির সুতো, মাছ ধরার জালে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বেলুন আর রিবন কিংবা ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের স্যান্ডেল। আসলে প্লাস্টিকের ফাঁদে আটকা পড়ছে তারা। প্লাস্টিকের বর্জ্য এবং পাখিদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে অনলাইনে ‘বার্ডস অ্যান্ড ডেবরিস’ নামে গবেষণা পরিচালনা করা হয়। চার বছর ধরে চলা এই প্রজেক্টে সাধারণ মানুষের কাছে তার এলাকার জীববৈচিত্র্যের ছবি আহ্বান করা হয়।

প্রায় এক শতাংশ ছবিতে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ ফেস মাস্ক জমেছে পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্রে, যা কোভিড মহামারির দুই বছরে ফেলে দিয়েছে মানুষ। পাখিরা সেগুলো দিয়ে বাসা বানাচ্ছে। এমনও ছবি দেখা গেছে যেখানে মাস্কের ফিতা তাদের গলা বা মুখে আটকে আছে। গবেষণায় যুক্ত লন্ডনের নেচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক ড. অ্যালেক্স বন্ড বলেন, ‘যে পাখি লম্বা আঁশের উপকরণ যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল, ডালপালা বা নলখাগড়া দিয়ে বাসা বানায়, এখন তার বাসায় মানুষের ফেলে দেয়া বর্জ্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল।’

২০২০ সালের এপ্রিলে কানাডার একটি গাছে মাস্কের সঙ্গে আটকে একটি পাখি ঝুলছিল, ওই দৃশ্য পরে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের মানুষ খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিবেশের কতটা ক্ষতি করছে এসব ছবিতে সেটিই ফুটে উঠেছে।

প্লাস্টিকের ফাঁদে পাখির জীবন

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকৃতির অন্যতম সৌন্দর্য আকাশে উড়ে বেড়ানো রঙ-বেরঙের নানা জাতের পাখি। পাখি ছাড়া প্রকৃতি যেন একেবারেই বেমানান। অথচ মানুষের ফেলে দেওয়া বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী বিশ্বের জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমেরিকান প্রকৃতিবিদ রজার টরি পিটারসনের কথায়, প্রকৃতির এ অনন্য নিদর্শন পাখিরা যদি কোনো সমস্যায় পড়ে তবে এটা জানা উচিত যে আমরাও শিগগিরই সমস্যায় পড়তে চলেছি। পাখিদের নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশেই প্লাস্টিকের মধ্যে বাসা বাঁধছে পাখি। এমনকি প্লাস্টিকের মধ্যেই বিচরণ তাদের। ঘর বানাতে ব্যবহার করছে প্লাস্টিকের দড়ি, প্লাস্টিকের বরশির সুতো, মাছ ধরার জালে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বেলুন আর রিবন কিংবা ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের স্যান্ডেল। আসলে প্লাস্টিকের ফাঁদে আটকা পড়ছে তারা। প্লাস্টিকের বর্জ্য এবং পাখিদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে অনলাইনে ‘বার্ডস অ্যান্ড ডেবরিস’ নামে গবেষণা পরিচালনা করা হয়। চার বছর ধরে চলা এই প্রজেক্টে সাধারণ মানুষের কাছে তার এলাকার জীববৈচিত্র্যের ছবি আহ্বান করা হয়।

প্রায় এক শতাংশ ছবিতে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ ফেস মাস্ক জমেছে পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্রে, যা কোভিড মহামারির দুই বছরে ফেলে দিয়েছে মানুষ। পাখিরা সেগুলো দিয়ে বাসা বানাচ্ছে। এমনও ছবি দেখা গেছে যেখানে মাস্কের ফিতা তাদের গলা বা মুখে আটকে আছে। গবেষণায় যুক্ত লন্ডনের নেচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক ড. অ্যালেক্স বন্ড বলেন, ‘যে পাখি লম্বা আঁশের উপকরণ যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল, ডালপালা বা নলখাগড়া দিয়ে বাসা বানায়, এখন তার বাসায় মানুষের ফেলে দেয়া বর্জ্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল।’

২০২০ সালের এপ্রিলে কানাডার একটি গাছে মাস্কের সঙ্গে আটকে একটি পাখি ঝুলছিল, ওই দৃশ্য পরে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের মানুষ খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিবেশের কতটা ক্ষতি করছে এসব ছবিতে সেটিই ফুটে উঠেছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন