ইউক্রেনে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পুতিনের!
jugantor
ইউক্রেনে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পুতিনের!

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জোরে চলছে ঘড়ির কাঁটা। শুক্রবার ইউক্রেনীয় চার অঞ্চলকে সংযুক্ত ঘোষণার মধ্য দিয়েই যেন পাততাড়ি গোটাতে শুরু করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যেন তার লক্ষ্য পূরণ হয়ে গেছে। এখন ছুটছেন শান্তির খোঁজে। ‘বিজয়োৎসব’র সেদিনই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনায় বসার আহ্বান জানায় ইউক্রেনকে। এর ঠিক একদিন পরই দনেৎস্কর দখলকৃত অঞ্চল ছেড়ে পালাল তার সেনারা। এরপরও টুঁ শব্দ নেই পুতিনের। অসময়ের এই গভীর নীরবতায় মাথাচাড়া দিচ্ছে নানান সংশয়। তিনি কি পালানোর পথ খুঁজছেন? নাকি দিশা হারিয়ে ঘটের শেষ সম্বল পারমাণবিক হামলা! কেউ কেউ আবার বলছেন, এবার সত্যি সত্যিই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পুতিনের? সিএনএন। মস্কোতে ক্রেমলিন-সমর্থিত রাশিয়ান আন্তর্জাতিক বিষয়ক কাউন্সিল পরিচালনাকারী আন্দ্রে কর্তুনভ সিএনএনকে জানিয়েছেন-কেন প্রেসিডেন্ট পুতিন দ্রুত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের নিষ্পত্তি চান। এই বিশেষজ্ঞ যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ৩ লাখ সৈন্যের জন্য পুতিনের সাম্প্রতিক ‘চাহিদাপত্র’ কখনোই যুদ্ধক্ষেত্রে তার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে না। তাছাড়া ওই সেনাদের সংগঠিত করার আগেই তার দেশ থেকে লোকজন পালাতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জর্জিয়া এবং কাজাখস্তানের সরকারি তথ্য অনুসারে ‘সংঘবদ্ধকরণ’ ঘোষণার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার রাশিয়ান তাদের সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। ইইউ বলেছে, চলতি সপ্তাহে সম্ভাব্যভাবে তাদের অংশে প্রায় ৬৬ হাজার রুশ নাগরিক প্রবেশ করেছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। স্বাধীন রাশিয়ান মিডিয়া রাশিয়ার সংশোধিত কেজিবি, এফএসবিকে উদ্ধৃত করে মোট বহির্গমনের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছে। তারা বলেছে, যুদ্ধ করার বয়স হয়েছে এমন পুরুষ পালিয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার। আর এখন যুদ্ধের মাঠে রয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার রাশিয়ান। কর্তুনভ বলেছেন, ক্রেমলিনে কী চলছে তা তিনি জানেন না। তবে জনগণের মেজাজ আঁচ করে তিনি বলেছেন, যুদ্ধে বিপুল ব্যয়, এত প্রাণহানি বিষয়ে তাদের মাথাব্যথা রয়েছে। যুদ্ধকে উটকো ঝামেলাই মনে করছেন তারা। কারণ, এটা তাদের কোনো স্বাধিকার আন্দোলন নয়। তিনি বলেন, ‘এখন পুতিনের যৌক্তিক বিকল্প হচ্ছে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে শর্তহীনভাবে যুদ্ধের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানো। এতে অন্তত তিনি বলতে পারবেন-আমাদের মিশন সম্পন্ন হয়েছে।’ পশ্চিমা নেতারা পুতিনের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত। গত রোববার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করে, তাহলে মস্কোকে এর বিপর্যকর পরিণতি ভোগ করতে হবে। সে বিষয়ে স্পষ্ট ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

ইউক্রেনে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পুতিনের!

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জোরে চলছে ঘড়ির কাঁটা। শুক্রবার ইউক্রেনীয় চার অঞ্চলকে সংযুক্ত ঘোষণার মধ্য দিয়েই যেন পাততাড়ি গোটাতে শুরু করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যেন তার লক্ষ্য পূরণ হয়ে গেছে। এখন ছুটছেন শান্তির খোঁজে। ‘বিজয়োৎসব’র সেদিনই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনায় বসার আহ্বান জানায় ইউক্রেনকে। এর ঠিক একদিন পরই দনেৎস্কর দখলকৃত অঞ্চল ছেড়ে পালাল তার সেনারা। এরপরও টুঁ শব্দ নেই পুতিনের। অসময়ের এই গভীর নীরবতায় মাথাচাড়া দিচ্ছে নানান সংশয়। তিনি কি পালানোর পথ খুঁজছেন? নাকি দিশা হারিয়ে ঘটের শেষ সম্বল পারমাণবিক হামলা! কেউ কেউ আবার বলছেন, এবার সত্যি সত্যিই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পুতিনের? সিএনএন। মস্কোতে ক্রেমলিন-সমর্থিত রাশিয়ান আন্তর্জাতিক বিষয়ক কাউন্সিল পরিচালনাকারী আন্দ্রে কর্তুনভ সিএনএনকে জানিয়েছেন-কেন প্রেসিডেন্ট পুতিন দ্রুত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের নিষ্পত্তি চান। এই বিশেষজ্ঞ যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ৩ লাখ সৈন্যের জন্য পুতিনের সাম্প্রতিক ‘চাহিদাপত্র’ কখনোই যুদ্ধক্ষেত্রে তার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে না। তাছাড়া ওই সেনাদের সংগঠিত করার আগেই তার দেশ থেকে লোকজন পালাতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জর্জিয়া এবং কাজাখস্তানের সরকারি তথ্য অনুসারে ‘সংঘবদ্ধকরণ’ ঘোষণার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার রাশিয়ান তাদের সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। ইইউ বলেছে, চলতি সপ্তাহে সম্ভাব্যভাবে তাদের অংশে প্রায় ৬৬ হাজার রুশ নাগরিক প্রবেশ করেছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। স্বাধীন রাশিয়ান মিডিয়া রাশিয়ার সংশোধিত কেজিবি, এফএসবিকে উদ্ধৃত করে মোট বহির্গমনের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছে। তারা বলেছে, যুদ্ধ করার বয়স হয়েছে এমন পুরুষ পালিয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার। আর এখন যুদ্ধের মাঠে রয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার রাশিয়ান। কর্তুনভ বলেছেন, ক্রেমলিনে কী চলছে তা তিনি জানেন না। তবে জনগণের মেজাজ আঁচ করে তিনি বলেছেন, যুদ্ধে বিপুল ব্যয়, এত প্রাণহানি বিষয়ে তাদের মাথাব্যথা রয়েছে। যুদ্ধকে উটকো ঝামেলাই মনে করছেন তারা। কারণ, এটা তাদের কোনো স্বাধিকার আন্দোলন নয়। তিনি বলেন, ‘এখন পুতিনের যৌক্তিক বিকল্প হচ্ছে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে শর্তহীনভাবে যুদ্ধের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানো। এতে অন্তত তিনি বলতে পারবেন-আমাদের মিশন সম্পন্ন হয়েছে।’ পশ্চিমা নেতারা পুতিনের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত। গত রোববার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করে, তাহলে মস্কোকে এর বিপর্যকর পরিণতি ভোগ করতে হবে। সে বিষয়ে স্পষ্ট ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন