যুদ্ধ ও ক্ষুধাপীড়িত বিশ্বে এলো নোবেলের মৌসুম
jugantor
যুদ্ধ ও ক্ষুধাপীড়িত বিশ্বে এলো নোবেলের মৌসুম

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছর প্রায় নিষ্প্রভ কোভিড-১৯ মহামারি। কিন্তু বিশ্বকে অস্থির করে রেখেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। অর্থনৈতিক মন্দা আর বন্যা-খরা-দাবদাহে নাকাল বিশ্ববাসী। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে ক্ষুধায় জর্জরিত বিশ্বের ৭০ কোটিরও বেশি মানুষ। চলমান এ দূরবস্থার মধ্যেই এলো নোবেল পুরস্কারের মৌসুম। এপি, এএফপি। কারও কাছে এমন কোনো তথ্য নেই, কে পাচ্ছেন এবারের চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, অর্থনীতি কিংবা শান্তি পুরস্কার। তবে এ বছর আর যাই হোক না কেন, ধারণা করা হচ্ছে অধিকাংশ পুরস্কারের ক্ষেত্রেই প্রাধান্য পেতে পারে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আর পুতিনবিরোধিতা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউক্রেনের জনগণকে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোয় তাদের শান্তি পুরস্কার দেওয়ার জোর সুপারিশ করেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ড্যান স্মিথ বলেছেন, ‘এমন ইচ্ছা প্রাসঙ্গিক হলেও নোবেল কমিটি এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকেই এ পুরস্কার দেয়- যে বা যারা দ্বন্দ্ব অবসানে ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধকালীন নেতাদের নয়।’ স্মিথ বিশ্বাস করেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা বা জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা সংশ্লিষ্টরাই এ পুরস্কার পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সুইডিশ তরুণ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, সুদানের নিসরিন এলসাইম, ঘানার চিবেজে ইজেকিয়েল, ব্রিটেনের ডেভিড অ্যাটেনবরো রয়েছেন সম্ভাব্যদের দৌড়ে। আবার কেউ কেউ দাবি করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালও জিততে পারে এ পুরস্কার। একটা বিষয় উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কার কখনোই শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে না। ২০১৯ সালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপনের জন্য এ পুরস্কার জিতেছিলেন। কিন্তু এক বছর পর দেশটিতে জাতিগত সংঘাত শুরু হয়। এ উত্তেজনা ছড়ানোর পেছনে কেউ কেউ আবিকেই দায়ী করেন।

১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের বিরোধিতার জন্য গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় এ পুরস্কার পেয়েছিলেন মিয়ানমারের কর্মী অং সান সু চি। কিন্তু কয়েক দশক পর দেশটির অধিকাংশ মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর নৃশংসতায় মুখ বন্ধ রেখেছিলেন তিনি।

এ বছর সাহিত্যে পুরস্কারের দাবিদার হিসাবে ধরা হয় কেনিয়ার এনগুগি ওয়া থিওং, জাপানের হারুকি মুরাকামি, নরওয়ের জন ফসে, অ্যান্টিগুয়ার জ্যামাইকা কিনকেড ও ফ্রান্সের অ্যানি আর্নাক্সকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টি আকর্ষণী পুরস্কার হতে পারে চিকিৎসায়। কিছু বিজ্ঞানী আশা করেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আবিষ্কারকে সম্মানিত করবে নোবেল কমিটি।

যুদ্ধ ও ক্ষুধাপীড়িত বিশ্বে এলো নোবেলের মৌসুম

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছর প্রায় নিষ্প্রভ কোভিড-১৯ মহামারি। কিন্তু বিশ্বকে অস্থির করে রেখেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। অর্থনৈতিক মন্দা আর বন্যা-খরা-দাবদাহে নাকাল বিশ্ববাসী। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে ক্ষুধায় জর্জরিত বিশ্বের ৭০ কোটিরও বেশি মানুষ। চলমান এ দূরবস্থার মধ্যেই এলো নোবেল পুরস্কারের মৌসুম। এপি, এএফপি। কারও কাছে এমন কোনো তথ্য নেই, কে পাচ্ছেন এবারের চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, অর্থনীতি কিংবা শান্তি পুরস্কার। তবে এ বছর আর যাই হোক না কেন, ধারণা করা হচ্ছে অধিকাংশ পুরস্কারের ক্ষেত্রেই প্রাধান্য পেতে পারে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আর পুতিনবিরোধিতা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউক্রেনের জনগণকে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোয় তাদের শান্তি পুরস্কার দেওয়ার জোর সুপারিশ করেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ড্যান স্মিথ বলেছেন, ‘এমন ইচ্ছা প্রাসঙ্গিক হলেও নোবেল কমিটি এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকেই এ পুরস্কার দেয়- যে বা যারা দ্বন্দ্ব অবসানে ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধকালীন নেতাদের নয়।’ স্মিথ বিশ্বাস করেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা বা জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা সংশ্লিষ্টরাই এ পুরস্কার পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সুইডিশ তরুণ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, সুদানের নিসরিন এলসাইম, ঘানার চিবেজে ইজেকিয়েল, ব্রিটেনের ডেভিড অ্যাটেনবরো রয়েছেন সম্ভাব্যদের দৌড়ে। আবার কেউ কেউ দাবি করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালও জিততে পারে এ পুরস্কার। একটা বিষয় উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কার কখনোই শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে না। ২০১৯ সালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপনের জন্য এ পুরস্কার জিতেছিলেন। কিন্তু এক বছর পর দেশটিতে জাতিগত সংঘাত শুরু হয়। এ উত্তেজনা ছড়ানোর পেছনে কেউ কেউ আবিকেই দায়ী করেন।

১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের বিরোধিতার জন্য গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় এ পুরস্কার পেয়েছিলেন মিয়ানমারের কর্মী অং সান সু চি। কিন্তু কয়েক দশক পর দেশটির অধিকাংশ মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর নৃশংসতায় মুখ বন্ধ রেখেছিলেন তিনি।

এ বছর সাহিত্যে পুরস্কারের দাবিদার হিসাবে ধরা হয় কেনিয়ার এনগুগি ওয়া থিওং, জাপানের হারুকি মুরাকামি, নরওয়ের জন ফসে, অ্যান্টিগুয়ার জ্যামাইকা কিনকেড ও ফ্রান্সের অ্যানি আর্নাক্সকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টি আকর্ষণী পুরস্কার হতে পারে চিকিৎসায়। কিছু বিজ্ঞানী আশা করেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আবিষ্কারকে সম্মানিত করবে নোবেল কমিটি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন