মাহসার মৃত্যুর খবর প্রথম প্রচার করা সেই সাংবাদিক জেলে
jugantor
হিজাববিতর্কে ইরানে রুদ্ধ বাকস্বাধীনতা
মাহসার মৃত্যুর খবর প্রথম প্রচার করা সেই সাংবাদিক জেলে

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কে জানত, সত্য সংবাদ প্রচার করা তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে? জানতেন না ইরানের সংস্কারপন্থি সাংবাদিক নিলুফার হামেদিও। জানলেও এ খবর প্রচার বাদ দেওয়ার মতো মেয়ে নন তিনি। পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর খবর প্রথম কভার করার ‘অপরাধে’ তিনি এখন কারাগারে। আলোর সন্ধান করতে গিয়ে তিনি নিজেই দিনযাপন করছেন এখন অন্ধকার কুঠরিতে। মিডলইস্ট আই।

পুলিশের বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেছিলেন দেশটির সংস্কারপন্থি পত্রিকা দৈনিক শারঘের সাংবাদিক নিলুফার হামেদি। এর পর থেকেই দেশব্যাপী শুরু হয় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। সেই হেডস্কার্ফ-আগুনে এখনো পুড়ছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরান। আর তারই ফলে পুলিশের হাতে আটক হন এই সাহসী সাংবাদিক। দীর্ঘদিন ধরেই নৈতিকতা পুলিশের প্রভাব এবং দেশব্যাপী বাধ্যতামূলক হেডস্কার্ফ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন নিলুফার। যথানিয়মে ১৬ সেপ্টেম্বর হিজাব যথাযথ না পরার অভিযোগে আটক মাহসাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে পৌঁছেছিলেন এ দুঃসাহসী প্রতিবেদক। সরেজমিন ঘুরে এসেই টুইটারে পোস্ট দিলেন ‘হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদছেন মাহসার বাবা-মা’। সেই হৃদয়বিদারক ছবির দেখার পর থেকেই মূলত শুরু হয় ইরানিদের প্রতিক্রিয়া। এর পর থেকে চলমান বিক্ষোভে রোববার পর্যন্ত মারা গেছেন কমপক্ষে ৯২ জন বিক্ষোভকারী।

নিলুফারকে পুলিশ গ্রেফতার করে ২২ সেপ্টেম্বর। তার আইনজীবী মোহাম্মদ আলী কামফিরুজি ওই দিনই টুইটারে লেখেন, ‘আজ সকালে আমার মক্কেল নিলুফার হামেদির বাড়িতে অভিযান চালায় নিরাপত্তা এজেন্টরা। তারা তাকে গ্রেফতার করে এবং বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করে।’ একই সময়ে টুইটার তার অ্যাকাউন্ট থেকে মাহসার বাবা-মায়ের ছবিটিও সরিয়ে ফেলা হয়। আইনজীবী কামফিরুজির মতে, নিলুফারকে তেহরানের নির্জন এভিন কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে আটকের কারণ জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক সহকর্মী মিডলইস্ট আইকে বলেন, ‘তার প্রতিবেদনের প্রভাব ছিল ব্যাপক। তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সমাজসচেতন ও সাহসী সাংবাদিক।’ আরেকজন জানালেন, ‘তার সাহস না থাকলে মাহসা আমিনির খবরটা ইরানিদের হয়তো অজানাই থেকে যেত।’ আমেরিকার কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) জানিয়েছে, মাহসার ঘটনা প্রকাশের পর এ পর্যন্ত আরও ১৯ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে ইরানি পুলিশ। সংবাদপত্র ইরানের রক্ষণশীল সরকারের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কাঁটা সরাতেই মরিয়া তারা। এ কারণে নিত্যদিন উদ্বেগের মধ্যে কাটাচ্ছেন দেশটির সাংবাদিকরা। ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, সাংবাদিকতা কোনো চাকরি নয়-এটা সম্ভাব্য অপরাধকর্ম।

ইরান কখনোই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার আশ্রয়স্থল ছিল না। বর্তমান সরকারের অধীনে সেই প্রবণতাকে অতিক্রম করে সাংবাদিক নিপীড়ন-নির্যাতন বেড়ে গেছে। সেই হিসাবে ইরান এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সেন্সরযুক্ত দেশগুলোর একটি। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খোমেনির সমর্থক পত্রিকা দৈনিক কায়হান। শনিবার দেশটির শীর্ষস্থানীয় অতি রক্ষণশীল এই খবরের কাগজের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের ‘ভাড়াটে’ বলে সংবাদ ছাপানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালায় দাঙ্গাকারীরা। পত্রিকাটি বলেছে, ‘তেহরানে কায়হানের সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করে গুন্ডারা। পত্রিকার বিরুদ্ধে অপমানকর স্লোগান দিয়ে ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে ।’

হিজাববিতর্কে ইরানে রুদ্ধ বাকস্বাধীনতা

মাহসার মৃত্যুর খবর প্রথম প্রচার করা সেই সাংবাদিক জেলে

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কে জানত, সত্য সংবাদ প্রচার করা তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে? জানতেন না ইরানের সংস্কারপন্থি সাংবাদিক নিলুফার হামেদিও। জানলেও এ খবর প্রচার বাদ দেওয়ার মতো মেয়ে নন তিনি। পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর খবর প্রথম কভার করার ‘অপরাধে’ তিনি এখন কারাগারে। আলোর সন্ধান করতে গিয়ে তিনি নিজেই দিনযাপন করছেন এখন অন্ধকার কুঠরিতে। মিডলইস্ট আই।

পুলিশের বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেছিলেন দেশটির সংস্কারপন্থি পত্রিকা দৈনিক শারঘের সাংবাদিক নিলুফার হামেদি। এর পর থেকেই দেশব্যাপী শুরু হয় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। সেই হেডস্কার্ফ-আগুনে এখনো পুড়ছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরান। আর তারই ফলে পুলিশের হাতে আটক হন এই সাহসী সাংবাদিক। দীর্ঘদিন ধরেই নৈতিকতা পুলিশের প্রভাব এবং দেশব্যাপী বাধ্যতামূলক হেডস্কার্ফ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন নিলুফার। যথানিয়মে ১৬ সেপ্টেম্বর হিজাব যথাযথ না পরার অভিযোগে আটক মাহসাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে পৌঁছেছিলেন এ দুঃসাহসী প্রতিবেদক। সরেজমিন ঘুরে এসেই টুইটারে পোস্ট দিলেন ‘হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদছেন মাহসার বাবা-মা’। সেই হৃদয়বিদারক ছবির দেখার পর থেকেই মূলত শুরু হয় ইরানিদের প্রতিক্রিয়া। এর পর থেকে চলমান বিক্ষোভে রোববার পর্যন্ত মারা গেছেন কমপক্ষে ৯২ জন বিক্ষোভকারী।

নিলুফারকে পুলিশ গ্রেফতার করে ২২ সেপ্টেম্বর। তার আইনজীবী মোহাম্মদ আলী কামফিরুজি ওই দিনই টুইটারে লেখেন, ‘আজ সকালে আমার মক্কেল নিলুফার হামেদির বাড়িতে অভিযান চালায় নিরাপত্তা এজেন্টরা। তারা তাকে গ্রেফতার করে এবং বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করে।’ একই সময়ে টুইটার তার অ্যাকাউন্ট থেকে মাহসার বাবা-মায়ের ছবিটিও সরিয়ে ফেলা হয়। আইনজীবী কামফিরুজির মতে, নিলুফারকে তেহরানের নির্জন এভিন কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে আটকের কারণ জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক সহকর্মী মিডলইস্ট আইকে বলেন, ‘তার প্রতিবেদনের প্রভাব ছিল ব্যাপক। তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সমাজসচেতন ও সাহসী সাংবাদিক।’ আরেকজন জানালেন, ‘তার সাহস না থাকলে মাহসা আমিনির খবরটা ইরানিদের হয়তো অজানাই থেকে যেত।’ আমেরিকার কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) জানিয়েছে, মাহসার ঘটনা প্রকাশের পর এ পর্যন্ত আরও ১৯ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে ইরানি পুলিশ। সংবাদপত্র ইরানের রক্ষণশীল সরকারের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কাঁটা সরাতেই মরিয়া তারা। এ কারণে নিত্যদিন উদ্বেগের মধ্যে কাটাচ্ছেন দেশটির সাংবাদিকরা। ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, সাংবাদিকতা কোনো চাকরি নয়-এটা সম্ভাব্য অপরাধকর্ম।

ইরান কখনোই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার আশ্রয়স্থল ছিল না। বর্তমান সরকারের অধীনে সেই প্রবণতাকে অতিক্রম করে সাংবাদিক নিপীড়ন-নির্যাতন বেড়ে গেছে। সেই হিসাবে ইরান এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সেন্সরযুক্ত দেশগুলোর একটি। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খোমেনির সমর্থক পত্রিকা দৈনিক কায়হান। শনিবার দেশটির শীর্ষস্থানীয় অতি রক্ষণশীল এই খবরের কাগজের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের ‘ভাড়াটে’ বলে সংবাদ ছাপানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালায় দাঙ্গাকারীরা। পত্রিকাটি বলেছে, ‘তেহরানে কায়হানের সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করে গুন্ডারা। পত্রিকার বিরুদ্ধে অপমানকর স্লোগান দিয়ে ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে ।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন