উচ্চৈঃস্বরে গান শুনে কান হারাচ্ছে তরুণরা!
jugantor
উচ্চৈঃস্বরে গান শুনে কান হারাচ্ছে তরুণরা!
শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকিতে ১০০ কোটি মানুষ

  মার্জিয়া সুলতানা  

১৭ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্মার্ট ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ব্যাধি শুধু তরুণপ্রজন্মে-বিষয়টা তা নয়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায়। তবে কানে এয়ারফোন গুঁজে রাখার প্রবণতা তরুণ সমাজেরই বেশি বলা চলে। উচ্চৈঃস্বরে গান, সিনেমা কিংবা ফেসবুকের ভিডিওক্লিপ দেখা তাদের জন্য নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। মোবাইলে ভলিয়ম না বাড়ানোর সতর্কতা থাকলেও তোয়াক্কা করে না কেউ। এর মাশুলও দিতে হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকেই। বিশ্বজুড়ে এখন ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ (উঠতি বয়সি) শ্রবণক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকিতে। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী বিএমজে গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত মঙ্গলবারের এক সমীক্ষায় সে চিত্রই উঠে এসেছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক, মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার পোস্টডক্টরাল ফেলো লরেন ডিলার্ড বলেন, ‘আমরা অনুমান করছি যে, বিশ্বব্যাপী ১২-৩৪ বছর বয়সি ০.৬৭ থেকে ১.৩৫ বিলিয়ন মানুষ অনিরাপদ শ্রবণ অভ্যাসের সঙ্গে জড়িত। এই কারণে তারা এ ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক ডিলার্ড বলেন, ‘প্রকট শব্দ কানের সংবেদনশীল কোষ ও কাঠামোকে অবসাদগ্রস্ত করতে পারে। একটানা অনেকক্ষণ বা নিয়মিতভাবে মাসের পর মাস ধরে চলতে থাকলে তা কানের স্থায়ী ক্ষতি করে। মানুষের তখন শ্রবনশক্তি হ্রাস হতে পারে। টিনিটাস রোগের আবির্ভাবও ঘটতে পারে।’ টিনিটাস এক ধরনের রোগ যা হলে কানে ঝিঁঝিঁ পোকা বা স্টিমারের আওয়াজের মতো অনুভূত হয়।

এই গবেষণায় গবেষকরা ২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অনিরাপদ শ্রবণ নিয়ে প্রকাশিত নিবন্ধ পাঠ করে ‘মেটা-বিশ্লেষণ’ করেছেন। শুধু হেডফোন নয়, পাশাপাশি কনসার্ট, বার এবং ক্লাবের মতো বিনোদন স্থানগুলোতেও অনিরাপদ শ্রবণ অনুশীলনের প্রভাব উঠে এসেছে গবেষণায়। ‘ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টায় ৮৫ ডেসিবলকে নিরাপদ শ্রবণ মাত্রা হিসাবে চিহ্নিত করেছে। দিনে যদি মাত্র আড়াই ঘণ্টাও শোনা হয় তবে তা ৯২ ডেসিবলের সমতুল্য হবে। গবেষণায় বলা হয়, ‘এমপিথ্রি অডিও ফাইল’ নামিয়ে হেডফোনে শ্রোতারা প্রায়ই ১০৫ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দের মাত্রায় গান শোনে এবং অন্য স্থানগুলোতে এই শব্দের মাত্রা ব্যবহার করা হয় ১০৪ থেকে ১১২ ডেসিবল পর্যন্ত।

ডিলার্ড বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, কিংবা ব্যক্তি নিজে নিরাপদ শ্রবণকে উৎসাহিত করতে পারে। সময়ের সঙ্গে শ্রবণশক্তি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।’ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিওলজির অধ্যাপক ডি ওয়েট সোয়ানেপোয়েল বলেছেন, গবেষণাটি প্রমাণ করে যে শ্রবণশক্তি হ্রাসের বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘গান হলো একটি উপহার। যা সারা জীবন উপভোগ করা যায়। তবে বার্তাটি হলো-আপনারা নিরাপদে তা উপভোগ করুন।’

উচ্চৈঃস্বরে গান শুনে কান হারাচ্ছে তরুণরা!

শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকিতে ১০০ কোটি মানুষ
 মার্জিয়া সুলতানা 
১৭ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্মার্ট ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ব্যাধি শুধু তরুণপ্রজন্মে-বিষয়টা তা নয়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায়। তবে কানে এয়ারফোন গুঁজে রাখার প্রবণতা তরুণ সমাজেরই বেশি বলা চলে। উচ্চৈঃস্বরে গান, সিনেমা কিংবা ফেসবুকের ভিডিওক্লিপ দেখা তাদের জন্য নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। মোবাইলে ভলিয়ম না বাড়ানোর সতর্কতা থাকলেও তোয়াক্কা করে না কেউ। এর মাশুলও দিতে হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকেই। বিশ্বজুড়ে এখন ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ (উঠতি বয়সি) শ্রবণক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকিতে। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী বিএমজে গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত মঙ্গলবারের এক সমীক্ষায় সে চিত্রই উঠে এসেছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক, মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার পোস্টডক্টরাল ফেলো লরেন ডিলার্ড বলেন, ‘আমরা অনুমান করছি যে, বিশ্বব্যাপী ১২-৩৪ বছর বয়সি ০.৬৭ থেকে ১.৩৫ বিলিয়ন মানুষ অনিরাপদ শ্রবণ অভ্যাসের সঙ্গে জড়িত। এই কারণে তারা এ ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক ডিলার্ড বলেন, ‘প্রকট শব্দ কানের সংবেদনশীল কোষ ও কাঠামোকে অবসাদগ্রস্ত করতে পারে। একটানা অনেকক্ষণ বা নিয়মিতভাবে মাসের পর মাস ধরে চলতে থাকলে তা কানের স্থায়ী ক্ষতি করে। মানুষের তখন শ্রবনশক্তি হ্রাস হতে পারে। টিনিটাস রোগের আবির্ভাবও ঘটতে পারে।’ টিনিটাস এক ধরনের রোগ যা হলে কানে ঝিঁঝিঁ পোকা বা স্টিমারের আওয়াজের মতো অনুভূত হয়।

এই গবেষণায় গবেষকরা ২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অনিরাপদ শ্রবণ নিয়ে প্রকাশিত নিবন্ধ পাঠ করে ‘মেটা-বিশ্লেষণ’ করেছেন। শুধু হেডফোন নয়, পাশাপাশি কনসার্ট, বার এবং ক্লাবের মতো বিনোদন স্থানগুলোতেও অনিরাপদ শ্রবণ অনুশীলনের প্রভাব উঠে এসেছে গবেষণায়। ‘ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টায় ৮৫ ডেসিবলকে নিরাপদ শ্রবণ মাত্রা হিসাবে চিহ্নিত করেছে। দিনে যদি মাত্র আড়াই ঘণ্টাও শোনা হয় তবে তা ৯২ ডেসিবলের সমতুল্য হবে। গবেষণায় বলা হয়, ‘এমপিথ্রি অডিও ফাইল’ নামিয়ে হেডফোনে শ্রোতারা প্রায়ই ১০৫ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দের মাত্রায় গান শোনে এবং অন্য স্থানগুলোতে এই শব্দের মাত্রা ব্যবহার করা হয় ১০৪ থেকে ১১২ ডেসিবল পর্যন্ত।

ডিলার্ড বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, কিংবা ব্যক্তি নিজে নিরাপদ শ্রবণকে উৎসাহিত করতে পারে। সময়ের সঙ্গে শ্রবণশক্তি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।’ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিওলজির অধ্যাপক ডি ওয়েট সোয়ানেপোয়েল বলেছেন, গবেষণাটি প্রমাণ করে যে শ্রবণশক্তি হ্রাসের বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘গান হলো একটি উপহার। যা সারা জীবন উপভোগ করা যায়। তবে বার্তাটি হলো-আপনারা নিরাপদে তা উপভোগ করুন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন