চীনে আবার সংঘর্ষ
jugantor
চীনে আবার সংঘর্ষ
থেমে থেমেই ফুঁসে উঠছে ঝিমিয়ে পড়া বিক্ষোভ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

থেমে থেমেই ফুঁসে উঠছে চীনের ঝিমিয়ে পড়া লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ। শহরের বড় বড় সড়ক পুলিশের চাদরে মুড়িয়ে ফেলার পরও এখনো পুরোপুরি বশে আসেননি বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের কঠোর বাধার মুখেও মঙ্গলবার আবার রাজপথে নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। দিনভর শান্ত থাকলেও গুয়াংজুতে এদিন রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে এ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। রোববার সাংহাইয়ে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষের দুদিন পর ফের একই ঘটনা ঘটল দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংজুতেও। তবে অন্যান্য অঞ্চলে বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। বিবিসি।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তায় কমলা ও নীল ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। হইচই ও চেঁচামেচির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন জিনিস ছুড়ছেন। এ সময়ে কয়েকজনকে পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। চেন নামে গুয়াংজুর এক বাসিন্দা জানান, তিনি প্রায় একশ পুলিশকে হাইজু জেলার হোয়াইজো গ্রামে সমবেত হতে দেখেছেন। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে এখান থেকে অন্তত তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়। হাইজু জেলায় ১৮ লাখেরও বেশি লোকের বাস। এখানে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অক্টোবর থেকে লকডাউন চলছে। নভেম্বরের প্রথমদিকেও এখানে লকডাউনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। লকডাউনের বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে টানা চতুর্থ দিনের মতো গুয়াংজুর রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। সরকারবিরোধী নানা স্লোগানও দেন তারা। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেন অনেকে। এদিকে চলমান বিক্ষোভের মুখে চীনে ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে করোনা পরীক্ষা। আন্দোলনের কারণে এ কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাংহাইয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় বিবিসির সাংবাদিককে মারধর ও আটকে রাখার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এ আহ্বান জানানো হয়। এদিকে চীনা জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজ জানায়, নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার পরেও করোনার টিকার জন্য চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি। এ ছাড়া চলমান বিক্ষোভে সংঘাতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সবার আছে বলে মনে করে সংস্থাটি। গত সপ্তাহে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের রাজধানী শহর উরুমকিতে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়। মূলত ওই অগ্নিকাণ্ডের সূত্র ধরেই দেশজুড়ে করোনার বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে।

২০৩৫ সালে পারমাণবিক অস্ত্র বাড়বে ৩ গুণ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বলছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়ে প্রায় দেড় হাজারে দাঁড়াতে পারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে চীনের বিমানবাহিনীর শক্তিমত্তা বাড়ছে বলে দাবি করা হয়। সিএনএন, এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী চীনের কাছে মজুত থাকা পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর এই গতি অব্যাহত রাখলে ২০৩৫ সাল নাগাদ তা প্রায় দেড় হাজারে গিয়ে দাঁড়াবে। এএফপি বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র মজুতের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে আছে বেইজিং। বর্তমানে দুই দেশের প্রত্যেকের কাছে কয়েক হাজার করে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র মজুত রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকায়নে কাজ করছে চীন। দেশটি ২০২১ সালে প্রায় ১৩৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। পেন্টাগনের মূল্যায়ন হলো, চীনের বিমানবাহিনীর দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। তারা দ্রুত পশ্চিমা বিমানবাহিনীগুলোর সক্ষমতার পর্যায়ে চলে আসছে।

চীনে আবার সংঘর্ষ

থেমে থেমেই ফুঁসে উঠছে ঝিমিয়ে পড়া বিক্ষোভ
 যুগান্তর ডেস্ক 
০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

থেমে থেমেই ফুঁসে উঠছে চীনের ঝিমিয়ে পড়া লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ। শহরের বড় বড় সড়ক পুলিশের চাদরে মুড়িয়ে ফেলার পরও এখনো পুরোপুরি বশে আসেননি বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের কঠোর বাধার মুখেও মঙ্গলবার আবার রাজপথে নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। দিনভর শান্ত থাকলেও গুয়াংজুতে এদিন রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে এ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। রোববার সাংহাইয়ে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষের দুদিন পর ফের একই ঘটনা ঘটল দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংজুতেও। তবে অন্যান্য অঞ্চলে বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। বিবিসি।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তায় কমলা ও নীল ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। হইচই ও চেঁচামেচির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন জিনিস ছুড়ছেন। এ সময়ে কয়েকজনকে পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। চেন নামে গুয়াংজুর এক বাসিন্দা জানান, তিনি প্রায় একশ পুলিশকে হাইজু জেলার হোয়াইজো গ্রামে সমবেত হতে দেখেছেন। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে এখান থেকে অন্তত তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়। হাইজু জেলায় ১৮ লাখেরও বেশি লোকের বাস। এখানে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অক্টোবর থেকে লকডাউন চলছে। নভেম্বরের প্রথমদিকেও এখানে লকডাউনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। লকডাউনের বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে টানা চতুর্থ দিনের মতো গুয়াংজুর রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। সরকারবিরোধী নানা স্লোগানও দেন তারা। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেন অনেকে। এদিকে চলমান বিক্ষোভের মুখে চীনে ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে করোনা পরীক্ষা। আন্দোলনের কারণে এ কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাংহাইয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় বিবিসির সাংবাদিককে মারধর ও আটকে রাখার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এ আহ্বান জানানো হয়। এদিকে চীনা জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজ জানায়, নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার পরেও করোনার টিকার জন্য চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি। এ ছাড়া চলমান বিক্ষোভে সংঘাতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সবার আছে বলে মনে করে সংস্থাটি। গত সপ্তাহে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের রাজধানী শহর উরুমকিতে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়। মূলত ওই অগ্নিকাণ্ডের সূত্র ধরেই দেশজুড়ে করোনার বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে।

২০৩৫ সালে পারমাণবিক অস্ত্র বাড়বে ৩ গুণ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বলছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়ে প্রায় দেড় হাজারে দাঁড়াতে পারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে চীনের বিমানবাহিনীর শক্তিমত্তা বাড়ছে বলে দাবি করা হয়। সিএনএন, এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী চীনের কাছে মজুত থাকা পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর এই গতি অব্যাহত রাখলে ২০৩৫ সাল নাগাদ তা প্রায় দেড় হাজারে গিয়ে দাঁড়াবে। এএফপি বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র মজুতের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে আছে বেইজিং। বর্তমানে দুই দেশের প্রত্যেকের কাছে কয়েক হাজার করে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র মজুত রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকায়নে কাজ করছে চীন। দেশটি ২০২১ সালে প্রায় ১৩৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। পেন্টাগনের মূল্যায়ন হলো, চীনের বিমানবাহিনীর দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। তারা দ্রুত পশ্চিমা বিমানবাহিনীগুলোর সক্ষমতার পর্যায়ে চলে আসছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন