ইউক্রেনে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
jugantor
ইউক্রেনে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
তেলে দাম বাঁধার প্রতিক্রিয়া

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তেলের বাঁধা-ধরা দাম নির্ধারণের পর ইউক্রেনে পুনরায় জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমারা (জি-৭) মূলত মূল্যসীমা আরোপ করে রাশিয়ার ক্ষমতা সীমিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত রাশিয়ার পেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাফ জানিয়েছেন, ‘ক্ষতি মস্কোর হবে না, হবে বিশ্বের।’ সোমবারের এই হামলায় ব্ল্যাকআউটের মুখে পড়েছে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি অঞ্চল। সুমি, ওডেসা, জাপোরিজঝিয়া, মিকোলাইভসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। এদিনের হামলায় জাপোরিজঝিয়ায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন। সকালে মধ্য ইউক্রেনের শহর ক্রিভি-রিতে হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও দক্ষিণ নিকপোল অঞ্চল, পূর্ব ইউক্রেনের বাখমুত অঞ্চলসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি অঞ্চরে চলেছে হামলা। জাপোরিজঝিয়া শহরের ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে হামলায় ধ্বংস হয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘর। দক্ষিণ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানসহ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এবং পূর্বে রাশিয়ান-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে রাষ্ট্র পরিচালিত বাসস্থানগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুমি এবং দক্ষিণের শহর মিকোলাইভসহ ইউক্রেণের বেশ কয়েকটি শহর হামলায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ওডেসায় কোথাও পানি সরবরাহ নেই বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় শহর ক্রিভি-রির কর্মকর্তারা বলেছেন, সোমবারের হামলায় শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, বেশ কয়েকটি বয়লার এবং পাম্পিং স্টেশন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় সকালে রুশ বাহিনী সুমি অঞ্চল, চেরনিহিভ অঞ্চলে প্রায় ৫০টি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ) নিক্ষেপ করে। সুমি অঞ্চলে ৩০টি আর্টিলারি শেল এবং চেরনিহিভ অঞ্চলে ১৭টি মর্টার বোমা। সকাল সাড়ে ৭টা এবং ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে সুমি অঞ্চলের মানুখিভকাতে কামান দিয়ে গুলি চালায়। সকাল ৮টা ১০ এবং ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে আরও ১৭টি প্রজেক্টাইল, সম্ভবত ১২০-মিমি মর্টার দিয়ে উৎক্ষেপণ করা হয়। বাখমুতের মেয়র ওলেক্সি রেভা একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে হামলায় সব বাড়িঘর চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে দেখা যায়। যেখানে ছিল বহু পুরাতন ঐতিহাসিক স্থাপত্যও। বিভিন্ন আবাসিক ভবনের ছাদ ও দেওয়াল ভাঙাসহ প্রচুর দোকান-পাট, ফার্মেসি, স্কুল এবং গির্জা ধ্বংস হতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে ধ্বংস হওয়া গ্যাস স্টেশন, বিস্ফোরিত সেতু, একটি ভাঙা বিনোদন পার্ক এবং বিস্ফোরণে ধ্বংসপ্রাপ্ত শিশুদের খেলার মাঠও দেখা যাচ্ছে। টিকেনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের স্মৃতিস্তম্ভও। এছাড়াও সেখানে রাস্তায় বিদ্যুতের উলটে যাওয়া খুঁটি, ছিঁড়া তার, ধ্বংসাবশেষ, অস্ত্র-গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। তেল বিক্রি করবে না রাশিয়া : জ্বালানির মূল্য বেঁধে দেওয়া দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি করবে না রাশিয়া। প্রয়োজনে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হবে। রোববার দেশটির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ ঘোষণা দেন। বলেন, আমি আবারও নিশ্চিত করতে চাই যে, রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। পশ্চিমারা যে মূল্য বেঁধে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তা সব আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের নিয়মবিরোধী। এ খবর দিয়েছে সিএনএন। রুশ ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেসব দেশ বাজারের স্বাভাবিক নিয়মে তেল কিনবে তাদের কাছেই তেল বিক্রি করবে রাশিয়া, যদি এ জন্য তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয় তারপরেও।

মস্কো এরই মধ্যে এমন একটি মেকানিজম নিয়ে কাজ করছে, যা পশ্চিমাদের এই মূল্য নির্ধারণের সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করবে।

ইউক্রেনে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

তেলে দাম বাঁধার প্রতিক্রিয়া
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তেলের বাঁধা-ধরা দাম নির্ধারণের পর ইউক্রেনে পুনরায় জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমারা (জি-৭) মূলত মূল্যসীমা আরোপ করে রাশিয়ার ক্ষমতা সীমিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত রাশিয়ার পেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাফ জানিয়েছেন, ‘ক্ষতি মস্কোর হবে না, হবে বিশ্বের।’ সোমবারের এই হামলায় ব্ল্যাকআউটের মুখে পড়েছে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি অঞ্চল। সুমি, ওডেসা, জাপোরিজঝিয়া, মিকোলাইভসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। এদিনের হামলায় জাপোরিজঝিয়ায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন। সকালে মধ্য ইউক্রেনের শহর ক্রিভি-রিতে হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও দক্ষিণ নিকপোল অঞ্চল, পূর্ব ইউক্রেনের বাখমুত অঞ্চলসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি অঞ্চরে চলেছে হামলা। জাপোরিজঝিয়া শহরের ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে হামলায় ধ্বংস হয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘর। দক্ষিণ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানসহ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এবং পূর্বে রাশিয়ান-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে রাষ্ট্র পরিচালিত বাসস্থানগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুমি এবং দক্ষিণের শহর মিকোলাইভসহ ইউক্রেণের বেশ কয়েকটি শহর হামলায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ওডেসায় কোথাও পানি সরবরাহ নেই বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় শহর ক্রিভি-রির কর্মকর্তারা বলেছেন, সোমবারের হামলায় শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, বেশ কয়েকটি বয়লার এবং পাম্পিং স্টেশন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় সকালে রুশ বাহিনী সুমি অঞ্চল, চেরনিহিভ অঞ্চলে প্রায় ৫০টি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ) নিক্ষেপ করে। সুমি অঞ্চলে ৩০টি আর্টিলারি শেল এবং চেরনিহিভ অঞ্চলে ১৭টি মর্টার বোমা। সকাল সাড়ে ৭টা এবং ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে সুমি অঞ্চলের মানুখিভকাতে কামান দিয়ে গুলি চালায়। সকাল ৮টা ১০ এবং ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে আরও ১৭টি প্রজেক্টাইল, সম্ভবত ১২০-মিমি মর্টার দিয়ে উৎক্ষেপণ করা হয়। বাখমুতের মেয়র ওলেক্সি রেভা একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে হামলায় সব বাড়িঘর চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে দেখা যায়। যেখানে ছিল বহু পুরাতন ঐতিহাসিক স্থাপত্যও। বিভিন্ন আবাসিক ভবনের ছাদ ও দেওয়াল ভাঙাসহ প্রচুর দোকান-পাট, ফার্মেসি, স্কুল এবং গির্জা ধ্বংস হতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে ধ্বংস হওয়া গ্যাস স্টেশন, বিস্ফোরিত সেতু, একটি ভাঙা বিনোদন পার্ক এবং বিস্ফোরণে ধ্বংসপ্রাপ্ত শিশুদের খেলার মাঠও দেখা যাচ্ছে। টিকেনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের স্মৃতিস্তম্ভও। এছাড়াও সেখানে রাস্তায় বিদ্যুতের উলটে যাওয়া খুঁটি, ছিঁড়া তার, ধ্বংসাবশেষ, অস্ত্র-গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। তেল বিক্রি করবে না রাশিয়া : জ্বালানির মূল্য বেঁধে দেওয়া দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি করবে না রাশিয়া। প্রয়োজনে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হবে। রোববার দেশটির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ ঘোষণা দেন। বলেন, আমি আবারও নিশ্চিত করতে চাই যে, রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। পশ্চিমারা যে মূল্য বেঁধে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তা সব আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের নিয়মবিরোধী। এ খবর দিয়েছে সিএনএন। রুশ ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেসব দেশ বাজারের স্বাভাবিক নিয়মে তেল কিনবে তাদের কাছেই তেল বিক্রি করবে রাশিয়া, যদি এ জন্য তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয় তারপরেও।

মস্কো এরই মধ্যে এমন একটি মেকানিজম নিয়ে কাজ করছে, যা পশ্চিমাদের এই মূল্য নির্ধারণের সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন