বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ নির্মাণের কাজ শুরু
jugantor
বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ নির্মাণের কাজ শুরু

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৃষ্টির রহস্য অনুসন্ধানে এবার ঐতিহাসিক চমক দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এই লক্ষ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ব্রিটেনের দ্য স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে (এসকেএ) অর্গানাইজেশন। টেলিস্কোপের নামও রাখা হয়েছে সংস্থার নামে-দ্য স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে। সোমবার একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম এ বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের নির্মাণ পর্ব শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত অঞ্চল মুর্চিসন শায়ারে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর কেপের কারোতে। মুর্চিসন শায়ারে হচ্ছে স্বল্প তরঙ্গের এসকেএ-১। কারোতে মাজারি তরঙ্গের এসকেএ-২। দুই স্থানেই এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রকল্পের নেতৃত্বদানকারী ৮ দেশের প্রতিনিধিরা। বিবিসি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে মাইলফলক সৃষ্টিকারী টেলিস্কোপটির নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২৮ সালে। সদর দপ্তর ব্রিটেনের হাতে থাকবে নিয়ন্ত্রণ। আশা করা হচ্ছে, জ্যোতি পদার্থবিদ্যার অজানা প্রশ্নের সমাধান মেলবে এতে। পৃথিবীর বর্তমান টেলিস্কোপগুলোর চেয়ে ১০ হাজার গুণ কম সময়ে মহাকাশের জটিল সমীকরণের হিসাব মেলাবে এসকেএ। পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা অতি ক্ষীণ রেডিও সংকেত ‘বিগ ব্যাং’র প্রথম কয়েকশ মিলিয়ন বছরে নির্গত সংকেত কিংবা মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচুর্যের উপাদান হাইড্রোজেনের ইতিহাস-সবই চলে আসবে হাতের মুঠোয়। আইনস্টাইন তত্ত্বের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা সম্পাদন করবে বলেও আশা করা হচ্ছে। স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফিল ডায়মন্ড বলেন, ‘এ যাত্রা দীর্ঘ ৩০ বছরের। প্রথম ১০ বছরের ধারণা ও তার বিকাশে গেছে। দ্বিতীয় ১০ বছর শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে। শেষ দশক ছিল পুঙ্খানুপুঙ্খ নকশা, সুরক্ষিত সাইট নির্মাণ, সরকারি অনুমোদন, তহবিল সংগ্রহে।

টেলিস্কোপের প্রাথমিক স্থাপত্যটিতে ২০০টি প্যারাবোলিক অ্যান্টেনা থাকবে। সেসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ১৩১,০০০টি ডাইপোল। এটি দেখতে কিছুটা ক্রিসমাস ট্রির মতো লাগবে। সিস্টেমটি ৫০ মেগাহার্টজ থেকে ২৫ গিগাহার্টজ পর্যন্ত কাজ করবে। টেলিস্কোপটি ইতোমধ্যে ছোট স্কেলে রেডিও জ্যোতির্বিদ্যার জন্য ব্যবহৃত এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে। সাইটগুলো সম্প্রসারণের জন্য কারোর কৃষকদের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিতে যেতে হবে তাদের। মুর্চিসনে আদিবাসী খেতাবধারী ওয়াজারি ইয়ামাজি সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভূমি-চুক্তি করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বিভিন্ন ক্রয়চুক্তি ঘোষণা করা হবে। প্রকল্পটির বর্তমান সদস্যরা হলেন-দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল এবং সুইজারল্যান্ড। দেশগুলো মিলে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। ফ্রান্স, স্পেন এবং অতি সম্প্রতি জার্মানি যোগদানের পথে এগোচ্ছে। কানাডা, ভারত, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানও যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ নির্মাণের কাজ শুরু

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৃষ্টির রহস্য অনুসন্ধানে এবার ঐতিহাসিক চমক দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এই লক্ষ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ব্রিটেনের দ্য স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে (এসকেএ) অর্গানাইজেশন। টেলিস্কোপের নামও রাখা হয়েছে সংস্থার নামে-দ্য স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে। সোমবার একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম এ বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের নির্মাণ পর্ব শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত অঞ্চল মুর্চিসন শায়ারে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর কেপের কারোতে। মুর্চিসন শায়ারে হচ্ছে স্বল্প তরঙ্গের এসকেএ-১। কারোতে মাজারি তরঙ্গের এসকেএ-২। দুই স্থানেই এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রকল্পের নেতৃত্বদানকারী ৮ দেশের প্রতিনিধিরা। বিবিসি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে মাইলফলক সৃষ্টিকারী টেলিস্কোপটির নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২৮ সালে। সদর দপ্তর ব্রিটেনের হাতে থাকবে নিয়ন্ত্রণ। আশা করা হচ্ছে, জ্যোতি পদার্থবিদ্যার অজানা প্রশ্নের সমাধান মেলবে এতে। পৃথিবীর বর্তমান টেলিস্কোপগুলোর চেয়ে ১০ হাজার গুণ কম সময়ে মহাকাশের জটিল সমীকরণের হিসাব মেলাবে এসকেএ। পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা অতি ক্ষীণ রেডিও সংকেত ‘বিগ ব্যাং’র প্রথম কয়েকশ মিলিয়ন বছরে নির্গত সংকেত কিংবা মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচুর্যের উপাদান হাইড্রোজেনের ইতিহাস-সবই চলে আসবে হাতের মুঠোয়। আইনস্টাইন তত্ত্বের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা সম্পাদন করবে বলেও আশা করা হচ্ছে। স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফিল ডায়মন্ড বলেন, ‘এ যাত্রা দীর্ঘ ৩০ বছরের। প্রথম ১০ বছরের ধারণা ও তার বিকাশে গেছে। দ্বিতীয় ১০ বছর শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে। শেষ দশক ছিল পুঙ্খানুপুঙ্খ নকশা, সুরক্ষিত সাইট নির্মাণ, সরকারি অনুমোদন, তহবিল সংগ্রহে।

টেলিস্কোপের প্রাথমিক স্থাপত্যটিতে ২০০টি প্যারাবোলিক অ্যান্টেনা থাকবে। সেসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ১৩১,০০০টি ডাইপোল। এটি দেখতে কিছুটা ক্রিসমাস ট্রির মতো লাগবে। সিস্টেমটি ৫০ মেগাহার্টজ থেকে ২৫ গিগাহার্টজ পর্যন্ত কাজ করবে। টেলিস্কোপটি ইতোমধ্যে ছোট স্কেলে রেডিও জ্যোতির্বিদ্যার জন্য ব্যবহৃত এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে। সাইটগুলো সম্প্রসারণের জন্য কারোর কৃষকদের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিতে যেতে হবে তাদের। মুর্চিসনে আদিবাসী খেতাবধারী ওয়াজারি ইয়ামাজি সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভূমি-চুক্তি করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বিভিন্ন ক্রয়চুক্তি ঘোষণা করা হবে। প্রকল্পটির বর্তমান সদস্যরা হলেন-দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল এবং সুইজারল্যান্ড। দেশগুলো মিলে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। ফ্রান্স, স্পেন এবং অতি সম্প্রতি জার্মানি যোগদানের পথে এগোচ্ছে। কানাডা, ভারত, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানও যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন