দুই কোরিয়া, এক রেললাইন

২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের কথাবার্তা চলছে * উত্তরে মার্কিন সাম্রাজ্যবিরোধী সমাবেশ বাতিল

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

দুই কোরিয়া, এক রেললাইন

দুই কোরিয়ার মাঝে সংযোগ স্থাপনে রেললাইন বসানোর চিন্তা-ভাবনা করছে দেশ দুটির সরকার। এ ব্যাপারে প্রথমবারের জন্য মঙ্গলবার দু’দেশের মধ্যে একটি আলোচনা হয়েছে। এ রেললাইন নির্মাণে ২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প নিয়ে কথাবার্তা চলছে। সরাসরি রেল সংযোগ গত ৬৮ বছর ধরে বিভক্ত কোরীয় উপদ্বীপকে এক সুতোয় বাঁধবে- এ আশাবাদ দু’দেশের মানুষের। খবর এএফপির।

দু’দেশের মধ্যে রেললাইন নিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে ডিমিলিটারাইজড জোন বা বেসমারিকীকৃত এলাকা পানমুনজাম গ্রামে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ ইস্যুতে বিগত ১০ বছরের মধ্যে তাদের মধ্যে এটি ছিল প্রথম আলোচনা।

ইতিমধ্যে সিউল থেকে পিয়ংইয়ং এবং চীন সীমান্তের সিনুইজুতে যাওয়ার জন্য একটি রেললাইন বিদ্যমান রয়েছে। কোরীয় যুদ্ধের অনেক আগে বিশ শতকের গোড়ার দিকে জাপান এটি নির্মাণ করে।

দক্ষিণ কোরিয়া তার রেললাইন অনেক উন্নত ও আধুনিক মানের করলেও উত্তর কোরিয়ার রেললাইন অনেক পুরনো। নতুন প্রকল্পের আওতায় উত্তরের রেলপথের আধুনিকায়ন করে পিয়ংইয়ং ও সিউলকে নতুন করে সংযুক্ত করা হবে। এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে চীন, রাশিয়ার ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে ও ইউরোপকে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ায় এবার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বার্ষিক এ সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সমাবেশ বাতিলের কোনো কারণ জানায়নি পিয়ংইয়ং। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

১৯৫০ থেকে ৫৩ পর্যন্ত দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘটিত হয় কোরীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রত্যক্ষ সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। কোরীয় যুদ্ধের স্মরণে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা জানাতে মাসব্যাপী চালানো হয় প্রচারণা অনুষ্ঠান।

৭০ বছর ধরে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় এ সমাবেশের। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে গত বছর এ সমাবেশ সফল করতে জড়ো হয়েছিল লক্ষাধিক মানুষ। সমাবেশে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও কার্টুন বহন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

ওই সব কার্টুন ও ব্যানারে যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এমন ছবি দেখানো হয়। গত বছর সমাবেশ থেকে উত্তর কোরিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সব সদস্য এবং পিয়ংইয়ংবাসী বিশ্ব থেকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিশ্চিহ্ন করে বাসনা পোষণ করেন। শুরু থেকেই প্রতি বছর উত্তর কোরিয়া এই সমাবেশের অনুমতি দিয়ে আসছিল। চলতি মাসে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বৈঠকের পর সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত এলো।