ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইরান চুক্তি বহাল রাখলেন ট্রাম্প

১২০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি আরও পাকাপোক্ত না হলে চুক্তি থেকে সরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র -প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প * চুক্তির কোনো পরিবর্তন মেনে নেবে না তেহরান। চরমসীমা অতিক্রম করেছে যুক্তরাষ্ট্র -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তিটি আপাতত বহাল রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এটিই ‘শেষবার’ বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র যাতে পরমাণু চুক্তির ‘ভয়াবহ ত্রুটি’ সংশোধন করতে পারে সে জন্য এ সুযোগ দিচ্ছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে চুক্তিটির কোনো পরিবর্তন-পরিবর্ধন মানা হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। একই দিন ইরানের প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ সাদেক আমলি-লারিজানিসহ দেশটির ১৪ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, পরবর্তীতে ইরান পরমাণু চুক্তিটি পরিবর্তন না হলে ট্রাম্প এটি বাতিল করবেন। কিন্তু তার আগে তিনি মাত্র আরেক বারের জন্যই এটি অনুমোদন করবেন। ফলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান কিছু সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকেও ছাড় পাবে। নিষেধাজ্ঞার যে ছাড়পত্রে ট্রাম্প সই করবেন তাতে ইরানে আরও ১২০ দিনের (৪ মাস) জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট চান মার্কিন কংগ্রেস এবং ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ১২০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি আরও পাকাপোক্ত করুক। না হলে শেষ পর্যন্ত চুক্তি থেকে সরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর স্থায়ীভাবে কড়াকড়ি আরোপ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সঙ্গে পাকা চুক্তি চাইছে হোয়াইট হাউস। বর্তমান চুক্তিটিতে সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে, যা শেষ হবে ২০২৫ সালে। ২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিধর ছয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। এর আওতায় ইরান তাদের পরমাণু প্রকল্পের কাজ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ফলে ইরানের ওপর দশকের পর দশক ধরে আরোপ থাকা পরমাণুসংশ্লিষ্ট মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতি ১২০ দিন পর পর ওই নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্র সই করতে বাধ্য। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই চুক্তিটির সমালোচনা করে আসছেন।

শুক্রবার ইরানের প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ সাদেক আমলি-লারিজানিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ। কিন্তু কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবেন তা প্রকাশ করেননি তিনি। জারিফ বলেন, ইরানের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘চরমসীমা অতিক্রম’ করেছে। শুক্রবার রাতে এক টুইটার বার্তায় বলেন, ট্রাম্প তার সর্বশেষ ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার ২৬, ২৮ ও ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ বিদ্বেষপূর্ণভাবে লংঘন করেছেন।

পরমাণু চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে চুক্তিটির শরিক দেশগুলো। রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই রায়াবকভ ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘চরম ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছেন। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, চুক্তিটি পূর্ণ বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রাখব আমরা এবং একে এগিয়ে নিতে ফ্রান্স ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসব।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter