শেষবেলায় নকল প্রধানমন্ত্রী মাহাথির!

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৮১ সালের ১৬ জুলাই ৫৫ বছর বয়সে মালয়েশিয়ার ৪র্থ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাহাথির মোহাম্মদ। সে সময় দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ছিল। দেশের সার্বিক উন্নতিকল্পে মাহাথির বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মালয়েশিয়াকে বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা হচ্ছে তার প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে মাহাথির মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সরকার সংস্কারের দাবিও অত্যন্ত জোরালো আকার ধারণ করে। এতকিছুর পরও বিভিন্ন জাতির সমন্বিত মালয়েশিয়াকে তিনি ঐক্যবদ্ধ রাখতে সফল হয়েছেন। ২০০৩ সাল পর্যন্ত মাহাথির ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন। ২২ বছরের শাসনামলে পুরো মালয়েশিয়াকে তিনি বদলে দিয়েছেন। অনেক বিতর্কের কেন্দ্র মাহাথির মোহাম্মদকে মালয়েশিয়ায় আধুনিকতার জনক বলে অভিহিত করা হয়।

৯২ বছর বয়সে আবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মঞ্চে হাজির হয়েছেন মাহাথির। এক সময় তিনি ছিলেন মালয়েশিয়ার সত্যিকারের প্রধানমন্ত্রী। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় এসে নকল প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি। যে দলের হয়ে এর আগে পাঁচটি নির্বাচনে জিতেছিলেন তিনি, এবার দাঁড়াচ্ছেন তারই বিরুদ্ধে। গত রোববার প্রধান বিরোধী জোট পাকাতান হারাপান ঘোষণা করেছে, আগামী নির্বাচনে তাদের দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন মাহাথির। এ ছাড়া শরিক দল পিকেআরের প্রধান ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল হবেন উপ-প্রধানমন্ত্রী। তবে এ নির্বাচনে বিরোধী জোট জয়ী হলে মাহাথির প্রকৃতপক্ষে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। পাকাতান হারাপান সেক্রেটারি জেনারেল সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ বিষয়টি আগেই পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, জোটের শরিক চারটি দল এক চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ড. মাহাথিরকে অবশ্যই দলের নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। যতদিন না ইব্রাহিম রাজকীয় ক্ষমা পান ততদিন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন মাহাথির।

সমকামিতা ও দুর্নীতির অভিযোগে এখন কারাগারে রয়েছেন ইব্রাহিম। চলতি বছরের নির্বাচনের আগেই ১১ জুন তার মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। মুক্তি পেলেও আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারবেন না তিনি। ফলে ২০২৩ সালের জুনের পরও তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব হবে না। সুতরাং ইব্রাহিমকে প্রধানমন্ত্রী করতে হলে পাকাতান হারাপানকে সরকার গড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য রাজকীয় ক্ষমার প্রয়োজন হবে। সুতরাং নির্বাচনে যদি পাকাতান হারাপানের ১১২টি সংসদীয় আসনের বেশিতে জয় নিশ্চিত হয়, মাহাথির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী শপথ নেবেন। এরপরই মালয়েশিয়ার ফেডারেল সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাজকীয় ক্ষমার জন্য পার্ডন বোর্ডের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করবে তার দল। রাজকীয় ক্ষমা মঞ্জুর হলে, শরিক দল পিকেআরের একজন সংসদ সদস্য পদত্যাগ করবেন যাতে একটি উপনির্বাচনের আয়োজন করা যায়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.