থাই গুহা : কী হবে কিছুই নিশ্চিত না

উদ্ধার অভিযানের ১৪ দিন পার

  যুগান্তর ডেস্ক ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গুহায় আটকে পড়া কিশোররা

দু-একদিনের মধ্যেই উদ্ধার করা হবে আটকে পড়া কিশোরদের। শুক্রবারই এ কথা বলেন অভিযানে অংশ নেয়া ডুবুরি ইভান কারাদজিক। দু’দিন প্রায় শেষ। এখনও উদ্ধার করা যায়নি তাদের।

শনিবার থাই কর্তৃপক্ষ বলেছেন, কিশোরদের উদ্ধারে আর মাত্র তিন-চারদিন সময় পাওয়া যাবে। সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই যা করার করতে হবে। উদ্ধার অভিযান চলছে পুরোদমে। উদ্ধারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে গবেষণা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি ঘটবে, তার কিছুই নিশ্চিত না। শনিবার এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

কিশোরদের উদ্ধারে কয়েকটি বিকল্প উপায় নিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। এক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব অভিযানে বিপদ কমিয়ে আনার দিকে নজর দিচ্ছেন তারা। শ্বাস-প্রশ্বাসের বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে গুহার পানিপূর্ণ পথ দিয়ে তাদের পৌঁছাতে সক্ষম হন ডুবুরিরা। গত কয়েকদিন ধরে খাবার ও ওষুধসহ জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন রসদ এভাবেই পৌঁছানো হচ্ছে।

এভাবে ডুবুরিদের সাহায্যেই তাদেরকে বের করে আনা হতে পারে। থাই উপপ্রধানমন্ত্রী শনিবার বলেছেন, উদ্ধারকারী এখন তাদেরকে সাঁতার ও ডুব দেয়া শেখাচ্ছেন। এভাবে ডুবুরিদের সহায়তায় উদ্ধারের ব্যবস্থাকে প্রচণ্ড বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে ব্রিটিশ ডুবুরিরা যেকোনো মূল্যে তাদের বের করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর সেটা গুহাটি পুরোপুরি পানিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার আগেই। থাই নেভি সিল মনে করছে, গুহার পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমেই তাদেরকে বের করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যেই ১৯টি বড় বড় পাম্পে পানি সেচের কাজ চলছে।

দুই-তিনদিনের মধ্যেই বৃষ্টি

আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে টানা বৃষ্টি শুরু হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সে কারণেই কিশোরদের উদ্ধারে বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন তারা। থাইল্যান্ডে সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষাকাল। বর্ষাকালে থাম লুয়াং গুহাটি শহরের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের খাল হিসেবে কাজ করে। এ সময়ে গুহার পানির স্তর খুব দ্রুতই বেড়ে যায়। এটা থাই কর্তৃপক্ষ ভালো করেই জানেন।

আন্ডারওয়াটার এয়ার টিউব পদ্ধতি

কিশোরদের বাঁচাতে শনিবার রোরিং কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলীকে থাইল্যান্ডে পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রযুক্তি বিলিয়নিয়র এলন মাস্ক। এক টুইট বার্তায় স্পেসএক্স, টেসলা ও বোরিং কোম্পানির প্রধান মাস্ক থাই ফুটবল দলকে উদ্ধারে কৌশলও প্রস্তাব করেছেন। আন্ডারওয়াটার এয়ার টিউব ব্যবহার করে তাদের বের করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। মাস্ক বলেন, তিন ফুট (১ মিটার) ব্যাসের নাইলন টিউবের মধ্যে অক্সিজেন ঢুকিয়ে দেয়া হবে। এর ভেতর দিয়ে কিশোররা হামাগুঁড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে।

গুহার ওপর থেকে খোঁড়া হচ্ছে

কিশোরদের উদ্ধারে গুহার ওপর দিক দিয়ে খোঁড়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে শতাধিক চিমনি খোঁড়া হয়েছে বলে শনিবার জানান উদ্ধার মিশনের প্রধান। চিয়াংরাইয়ের গভর্নর বলেন, ‘গুহার গর্তগুলো পানিতে টইটুম্বর হওয়ায় ওপর থেকে তাদের বের করে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শতাধিক চিমনির মধ্যে কয়েকটি ৪০০ মিটার দূরে পৌঁছেছে। আমরা মনে করছি তারা ৬০০ মিটার নিচে অবস্থান করছে।

অক্সিজেনের কমতিতে যা হয়

গুহায় সাধারণত ২১ শতাংশ অক্সিজেন থাকে, এখন তা কমে ১৫ শতাংশে চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পেশাদারিত্ব নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন বিভাগ (ওএসএইচএ) জানায়, গুহায় একজন ব্যক্তির অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা হওয়া উচিত ১৯.৫ থেকে ২৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত। ওএসএইচএ’র তথ্যানুসারে, অক্সিজেন স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে গেলে শরীরে পরিবর্তন দেখা দেয়। হাইপোক্সিয়ার ঝুঁকি বাড়ে, উচ্চতা ভীতি তৈরি হয়।

দীর্ঘদিন অন্ধকারে থাকলে যা হয়

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘুটঘুটে অন্ধকারে দীর্ঘদিন থাকায় চরম মানসিক আঘাত পাবে কিশোররা। দিনের আলোর অভাবে সময় জ্ঞান ও উপলব্ধির মধ্যে বেশ ফারাক তৈরি হবে। হতাশা, অনিদ্রা ও গ্র“পের মধ্যে অনৈক্যের হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। অন্ধকারের কারণে চোখের ক্ষতি হতে পারে। এমনটা হলে মস্তিষ্কে বিকৃতির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিপাকীয় তন্ত্র ও হরমোন চক্রও বিঘ্নিত হতে পারে।

দুশ্চিন্তা করো না, ফ্রাইড চিকেন পাঠাও

থাইল্যান্ডে গুহাবন্দি কিশোররা চিঠির মাধ্যমে প্রথমবার তাদের পিতা-মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আবেগঘন চিঠিতে তারা বলেছে, ‘দুশ্চিন্তা করো না... আমরা সবাই শক্তিশালী।’ হাতে লেখা চিঠিতে তারা ‘ফ্রাইড চিকেন’ পাঠানোর অনুরোধও করেছে। কোচ এক্কাপোল চ্যাংটাওং লেখেন, ‘সব বাচ্চাদের প্রিয় বাবা-মা, এখন তারা সবাই ভালো আছে। আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে শিশুদের যত্ন নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’

ঘটনাপ্রবাহ : থাইল্যান্ডে গুহায় আটকা পড়েছে ফুটবল টিম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter