‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ পাকিস্তানে

  সালমান রিয়াজ ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তান নির্বাচন
ছবি: সংগৃহীত

পরিকল্পনার নকশা-ছক-পটভূমি সবই প্রস্তুত। পাকিস্তানের নির্বাচনে নয়া ফর্মুলায় মাঠে নেমেছে পাক রাজনীতির পুরনো শত্রু।

বলা হচ্ছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথা। পাকিস্তানে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের মতো করে নিতে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে বিচার বিভাগও। একে একে তার বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরই মধ্য দিয়ে নিভে গেল মরিয়মের নির্বাচনে লড়াইয়ে আশা।

অন্যদিকে, পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা-কর্মী-প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি ও শাসানির মধ্যে রাখা হয়েছে। এতে চাপের মধ্যে রয়েছেন পিপিপির নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনী তার অদৃশ্য হাতে দেশটির বড় দুই দলকে বাদ দিয়ে তৃতীয় শক্তিতে সামনে আনচ্ছে। এ কথায় সেনাবাহিনী এবার তাদের দীর্ঘদিনের ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র বাস্তব রূপ দিতে চলেছে পাকিস্তানে।

সেনাবাহিনীর এ চক্রান্তে লাভের গুড় যাচ্ছে ইমরান খানের ঘরে। পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির এ নেতাও অস্বীকার করেন না যে, সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে।

আদালতের রায়ে নওয়াজের প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য হওয়া, আজীবন রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হওয়া, এমনকি নিজ দলের প্রধানের পদেও থাকতে না পারার পেছনে ইমরানেরই হাত রয়েছে। ইমরানই তো তাকে আদালতের মুখোমুখি করেছিলেন। এবার নওয়াজের ১০ বছরের সাজায় তার কারাগারে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়েছে।

নওয়াজপতনের এ কূটকৌশলে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে লাভবানও হয়েছেন ইমরান। এটাও স্পষ্ট যে, জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা মিলে ইমরানই সেনাবাহিনীর পছন্দের রাজনীতিক। রব উঠেছে, এবারের নির্বাচনে ইমরান-সেনাবাহিনী মানিকজোড়।

‘মাইনাস টু’ কৌশল বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার গণমাধ্যম। নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন করতে গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণও ভালোভাবে করছে সেনাবাহিনী। সেনা হস্তক্ষেপের প্রধান লক্ষ্যবস্তু নওয়াজ শরিফ। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে তাকে পাকিস্তানের পুরো রাজনীতিক প্রক্রিয়া থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। ধাপে ধাপে এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বেশি চেঁচামেচি করেছে, সেসব গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এবার খক্ষহস্ত হচ্ছে সেনাবাহিনী।

গত মাসে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি স্টেশন জিওর সম্প্রচার রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিচার বিভাগের সমালোচনা ও নওয়াজের পক্ষ সমর্থনের রাশ টেনে ধরলে ফের চালু হয় জিও টিভি।

সম্প্রতি পিএমএল-এনের সমর্থক সাংবাদিক গুল বুখারিকে কয়েক ঘণ্টার জন্য অপহরণ করা হয়। চলতি সপ্তাহে উদারনৈতিক সংবাদপত্র ডন জানায়, দেশের বেশিরভাগ জায়গায় পত্রিকা বিতরণে বাধা দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিক, রিপোর্টার, হকার ও বিক্রয় প্রতিনিধি সবাইকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

পত্রিকা-টেলিভিশনগুলোতে নওয়াজের পিএমএল-এন ও বিলাওয়ালের পিপিপি দলের প্রচারণা খুব একটা নজরে আসছে না। পত্রিকাগুলোতে বেশি বেশি প্রচারিত হচ্ছে ইমরানের পিটিআই দলের প্রচারণা।

শুক্রবার সিন্ধু প্রদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় বিলাওয়াল অভিযোগ করে বলেন, ‘পিপিপির প্রার্থীদের শাসানো হচ্ছে। হুমকি দেয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমকে দমিয়ে রেখে সেনাবাহনী তাদের কারসাজি বাস্তবায়নের মহড়ায় নেমেছে।’

মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া একটি দেশের নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠু হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পিপিরি বহু নেতা।

পিপিপির সাবেক সিনেটর ফারহাতুল্লাহ বাবর বলেন, ‘নির্বাচন শুরুর আগেই ভোট কারচুপি শুরু হয়ে গেছে।’ ১৯৯০ সালেও পিপিপির পেছনে লেগেছিল সেনাবাহিনী। তাদের পরাজিত করতে সেনাবাহিনী বিপক্ষ দলগুলোকে অর্থ জুগিয়েছিল। সেনা চক্রান্তে সেবার নির্বাচন বয়কটে বাধ্য হয় পিপিপি।

ঘটনাপ্রবাহ : পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×