আইয়ুব খানের আমল থেকেই গণতন্ত্রের ঘাড়ে বন্দুক

৬০ বছর ধরে রাজনীতিকে ‘উঠবোস’ করাচ্ছে সেনাবাহিনী

  জামির হোসেন ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তান

জন্ম ব্রিটিশ গর্ভে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। তখনও গায়ে-পায়ে জোর আসেনি নবজাতক পাকিস্তানের। হেলেদুলে সবেমাত্র হাঁটা শিখছে ‘বাবা’র হাত ধরে। ১ বছর পরেই চলে গেলেন মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ।

তারপর থেকেই বিশৃঙ্খলা-অরাজকতার রাজত্ব শুরু হল গোটা পাক ভূখণ্ডে। কার মুঠোয় থাকবে পাকিস্তান- রাজনীতিবিদদের টানা-হেঁচড়ার ওই সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ে মিলিটারি ট্যাঙ্ক।

সেই তখন থেকেই পাকিস্তানের রাজনীতিকে বুটের তলায় পিষে মারছে সেনাবাহিনী। আজ ৬০ বছর পরেও সমান দাপটে ‘রাজশাসন’ চালিয়ে যাচ্ছে পাক-ক্যান্টনমেন্ট। যিনি সেনাপ্রধান তিনিই প্রধানমন্ত্রী, তিনিই প্রেসিডেন্ট। এ অলিখিত সংবিধানেই পাকিস্তান শাসন করে যাচ্ছে দেশটির ‘বুট-বাহিনী’।

প্রথম সেনাঅভ্যুত্থান : জিন্নাহর মৃত্যুর পর পাকিস্তানজুড়ে শুরু হয় অরাজকতা। স্বাধীনতার পর ১ দশকের মধ্যেই সাত-সাতজন প্রধানমন্ত্রী দেশটির ক্ষমতায় এসেছেন আর বিদায় নিয়েছেন।

তারা হচ্ছেন- নবাবজাদা লিয়াকত আলি খান ১৯৪৭-১৯৫১), খাজা নাজিমুদ্দিন (১৯৫১-১৯৫৩), মোহাম্মদ আলি (১৯৫৩-১৯৫৫), চৌধুরী মোহাম্মদ আলী (১৯৫৫-১৯৫৬), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (১৯৫৬-১৯৫৭) ও ফিরোজ খান নুন (১৯৫৭-১৯৫৮)। বিশৃঙ্খলতা আর অরাজকতার সুযোগ নিয়ে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর দেশটিতে প্রথমবারের জন্য সেনাঅভ্যুত্থান ঘটায় জেনারেল আইয়ুব খান।

তার আমল থেকেই গণতন্ত্রের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পাকিস্তান শাসন করে আসছে সেনাবাহিনী। আইয়ুব আমলের ২ দশকের নিপীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) গণঅভ্যুত্থান ঘটে।

অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৬৯ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তার জায়গায় আসেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। কিন্তু পাকিস্তানে গণতন্ত্র ফিরে আসেনি। অবশেষে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মধ্যদিয় স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। একই বছর জুলফিকার আলি ভুট্টোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেন ইয়াহিয়া।

ভুট্টোর ফাঁসি এবং দ্বিতীয় সেনা অভ্যুত্থান : দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের সংবিধান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন ভুট্টো। জেনারেল জিয়াউল হককে সেনাপ্রধান নিয়োগ করেন তিনি। ১৯৭৭ সালে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) থেকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই জিয়াউল হকের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত হন ভুট্টো। জিয়াউল হক ভুট্টোকে শুধু ক্ষমতাচ্যুতই করেননি তাকে কারাগারে ঢোকান এবং ২ বছর পরে ১৯৭৯ সালে সামরিক আদালতে দণ্ডিত করে তাকে ফাঁসি দেন।

বেনজির, নওয়াজ ও তৃতীয় অভ্যুত্থান : জেনারেল জিয়াউল হকের মৃত্যুর পর ভুট্টোকন্যা বেনজিরের নেতৃত্বে আবার গণতান্ত্রিক শাসনের সূচনা হয়। পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৮-৯০ পর্যন্ত দল ও দেশের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট বরখাস্ত হন।

এর পেছনেও সেনাবাহিনীর অদৃশ্য হাত ছিল। ১৯৯৩ সালের নির্বাচনে আবারও জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হন বেনজির ভুট্টো। এরপর ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতা নওয়াজ শরিফের কাছে হেরে যান তিনি। ২ বছরের মধ্যে অধৈর্য হয়ে ওঠে সেনাবাহিনী।

১৯৯৯ সালের জেনারেল পারভেজ মোশাররফের নেতৃত্বে দেশটিতে তৃতীয় অভ্যুত্থান ঘটে। সেনাপ্রধান থেকেই নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×