মানবাধিকার গোষ্ঠী ফোরটিফাই

রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ড মিয়ানমারের পূর্বপরিকল্পিত

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ফাইল ফটো

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত স্তুতি আগেই নিয়েছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর বেশ কয়েক মাস আগে এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। ব্যাংককভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক গোষ্ঠী ফোরটিফাই রাইটস বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যা চালানো হয়েছে এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এসব অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য মিয়ানমারের ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন।

এমন অভিযোগে ফৌজদারি তদন্তের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফোরটিফাই রাইটস। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ স্মিত বলেন, গণহত্যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটেনি।

এসব অপরাধে দায়মুক্তি দেয়ায় ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব অলস বসে থাকতে পারে না। প্রত্যক্ষ করতে পারে না যে, আরেকটা গণহত্যা ঘটুক।’

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম সংখ্যালঘু। তারা নির্যাতিত ও তাদের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান সালভেশন আর্মি (আরসা) রাখাইনের পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। এর জেরে গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে।

সেনাদের হামলা, ধর্ষণ, হত্যা থেকে বাঁচতে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, এসব রোহিঙ্গার ওপর এমন নৃশংসতা শুধু আরসার হামলার জবাব নয়। এটা হল তাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার একটি কৌশল।

এমন চক্রান্ত তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিল। সংস্থাটি আরও বলছে, এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চালানো সেনাবাহিনীর নৃশংসতার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এতে দেশটির নিরাপত্তা রক্ষাবাহিনী আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাই তারা আরসার হামলার জন্য অপেক্ষা করছিল। এ জন্য তারা আগে থেকে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিল।

অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ হারে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় রাখাইনে। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, আগস্টে রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডে মিয়ানমারের ২৭ আর্মি ব্যাটালিয়ান। এতে সেনা সদস্য ছিল ১১ হাজার। সঙ্গে ছিল অন্তত তিনটি কমব্যাট পুলিশ ব্যাটালিয়ন।