তরুণদের স্মার্টফোনে ভয় নেতাদের

সাড়ে চার কোটি তরুণ ভোটার * সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে জনপ্রতিনিধিদের কাজের খতিয়ান চাচ্ছে তারা

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তান
ছবি: এএফপি

কয়েকদিন পরেই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচন যখন গায়ের পরে তখন ভোটারদের মন ভোলাতে শহর থেকে গ্রামের অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন রাজনীতিক নেতা ও প্রার্থীরা। তাদের কেউ কেউ হয়তো পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে যাচ্ছেন ভোট চাইতে।

কিন্তু এবার ভোট চাইতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে এসব নেতাকে। গ্রামে ঢুকলেই তাদেরকে ঘিরে ধরছে একদল তরুণ। তাদের বেশিরভাগের হাতেই স্মার্টফোন। নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান চাচ্ছেন তারা। গত পাঁচ বছরে এলাকার জন্য তারা কি কি করেছেন তা জানতে চাচ্ছেন ক্ষুব্ধ এসব তরুণ।

এর ভিডিওগুলো সামাজিক মাধ্যমে দিচ্ছেন পোস্ট করে। আর সঙ্গে সঙ্গে তা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের ব্যাপারে তরুণদের এ সচেতনতাই এখন রাজনীতিকদের ভয়ের কারণ। ভয়ের কারণ তরুণদের স্মার্টফোনে।

এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দেবেন এমন ভোটারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ডনের এক হিসাব মতে, পাকিস্তানে নারী-পুরুষ মিলে মোট নিবন্ধিত ভোটার ১০ কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৭ জন। এর মধ্যে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ৬০ লাখ। এদের সবার বয়স ৩৫ বছরের নিচে।

ডনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮-২৫ বছরের মধ্যে ভোটার রয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার। ২৬-৩৫ বছরের মাঝে বয়স এমন ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার। এসব তরুণের বেশিরভাগই ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তারা সবসময় সরব ফেসবুক ও টুইটারের মতো মাধ্যমগুলোতে।

জনসমক্ষে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে উন্নয়নের কৈফিয়ত চাওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে তারাই।

সম্প্রতি পাঞ্জাবের মুলতান শহরে নিজের এলাকায় ভোট চাইতে যান প্রভাবশালী রাজনীতিক, জমিদার উপজাতীয় নেতা সিকান্দার হায়াত খান। এ সময় তার প্রচারণা গাড়ি ঘিরে ধরেন একদল তরুণ। ওই নেতাকে ‘চোর’ ও ‘প্রতারক’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন ওই তরুণরা। নেতার এক সহযোগী তরুণদেরকে বলেন, ‘নেতা বিব্রত বোধ করছেন’। কিন্তু ছাড়ার পাত্র নন এ তরুণেরা। প্রশ্নের পর প্রশ্নে জর্জরিত করতে থাকেন তারা।

এলাকার পথঘাটের বেহাল দশা উল্লেখ করে তারা বলতে থাকেন, গত পাঁচ বছর ধরে কোথায় ছিলেন আপনি? এ দৃশ্য ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয় কেউ। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। পাকিস্তানে আগে কখনও এমন দৃশ্যের কথা শোনা যায়নি। বিশেষ করে গ্রাম এলাকায়। তবে সম্প্রতি এমন অসংখ্য ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচনে নিবন্ধিত মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী। মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশই (৪ কোটি ৬৭ লাখ ৩০ হাজার) তারা। এই সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

২০১৩ সাল থেকে দেশটিতে নারী ভোটারের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। পাক নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রচেষ্টায় ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য কমে এসেছে। জরিপ প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ পাকিস্তানের এক জরিপ মতে, পাকিস্তানের নিবন্ধিত মোট নারী ভোটারের ৮০ শতাংশই এবার ভোট দেয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের নেতৃত্বে কে আসবে তা নির্ধারণ করার চাবিকাঠি রয়েছে বিশালসংখ্যক এই নারী ও তরুণ ভোটারদেরই হাতে।

ঘটনাপ্রবাহ : পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×