মন্ত্রীদের ‘ছিটমহলে’ থাকবেন ইমরান

সরকারে বড় বড় পদ চায় ছোট ছোট দল * স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সব পিটিআই বন্দরে

  যুগান্তর ডেস্ক ০২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইমরান খান
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকবেন না আগেই জানিয়েছিলেন ইমরান খান। তবে কোথায় উঠছেন- সেটা তিনি বলেননি। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আলিশান আবাস ছেড়ে মন্ত্রিপাড়ায় (মন্ত্রীদের আবাসিক এলাকা) একটি বাসভবনে উঠছেন তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির এ নেতা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বুধবার ডনকে জানান, ‘মন্ত্রীদের ছিটমহল’খ্যাত আবাসিক এলাকার একটি বাসভবনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে বিজয়ী ভাষণে ইমরান খান ঘোষণা দেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকবেন না। ভবনটি কী কাজে লাগানো হবে এ ব্যাপারে তার দল পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ইমরান খানের বিজয়ের পরপরই রাজধানী পুলিশ ও জেলা প্রশাসন তার জন্য ভিভিআইপি প্রটোকল ও নিরাপত্তা দেয়া শুরু করেছে। তার বাসভবন বানিগালায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) ওয়াকার আহমেদ চৌহানসহ জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা ইমরানের বাসায় যান। তারা বাসভবনের পাশে পাহাড়ি এলাকার নিরাপত্তা ইস্যু পর্যবেক্ষণ করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, সেখানে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম পরিচালনায় মানসম্মত নিরাপত্তা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপরও তারা সেখানের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। ইমরান খানের বাসভবন ও এর আশপাশের সড়কে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশের পাহাড়েও অশ্বারোহী সেনাদল টহল দিচ্ছে। ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনার জুদাত আয়াজ, পুলিশের আইজি জান মোহাম্মদসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বানিগালা বাসভবন পরিদর্শন করেছেন।

তারা পিটিআই নেতা নাঈমুল হকের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলেছেন। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করেও নিরাপত্তা ও প্রটোকলের বিষয়ে জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা তাকে বলেন, তার বাসভবনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়া যাবে না। কারণ এলাকাটি উন্মুক্ত ও হুমকির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ।

কর্মকর্তারা বলেন, প্রথম দিকে বানিগালাকেই ইমরানের কার্যালয় হিসেবে ভাবা হয়েছিল। তবে ইমরান খান রাজি হননি। পরে তাকে মন্ত্রিপাড়ার একটি বাড়িসহ কয়েকটি প্রস্তাব দেয়া হয়। ইমরান সবচেয়ে নিম্নমানের বাড়ির ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। মন্ত্রীদের ছিটমহলে নিম্নমানের বাসা হল ফ্ল্যাট। কিন্তু সেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তাই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সেখানকার একটি বাড়িকে প্রধানমন্ত্রীর আবাসিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। পরে ইমরান খান তাতে রাজি হন। এদিকে সরকার গঠন করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান। ছোট ছোট দল তার দলে ভিড়ছে।

তবে তারা বড় বড় পদ পাওয়ার আশায় রয়েছে। পাকিস্তানের দ্য নিউজ জানায়, সাতটি ছোট দল ইমরানের দলের সঙ্গে জোট গড়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র দলগুলো ইমরানের মন্ত্রিসভা ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভায় স্থান না হলে জোট থেকে সটকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। ওদিকে নির্বাচনে জয়ী দলহীন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পিটিআই বন্দ ভিড় করছে। পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে আরও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান খানের শরিক হয়েছে। তারা হলেন, ছিনিওয়াত থেকে নির্বাচিত তৈমুর আলী লালি ও ঝাং-১ আসনে জয়ী মোহাম্মদ তাইমুর খান।

বিলম্ব হতে পারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন : পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসাইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৯ সেপ্টেম্বর। সংবিধান অনুসারে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগেই নির্বাচন হতে হবে। সেক্ষেত্রে ৮ আগস্টের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন জানায়, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সরকার গঠনের কাজ সম্পন্ন হতে আরও কিছু দিন সময় লাগায় এ নির্বাচন বিলম্ব হতে পারে।

ঘটনাপ্রবাহ : পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×