ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র

মাত্র এক ঘণ্টাতেই ১০ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধুলোয় মিশিয়ে দেবে ওয়াশিংটন

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্প-রুহানি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈরী সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বিরাট শয়তান’। আর ওয়াশিংটনের চোখে ইরান একটি ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’, যেটি ‘শয়তানের অক্ষশক্তি’।

২০১৫ সালের ছয় জাতির পরমাণু চুক্তির কারণে দু’দেশের জমাট সম্পর্ক গলতে শুরু করে। গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ওঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলা শুরু।

৮ মে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন ট্রাম্প। এ নিয়ে দু’দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকিধমকি, কথার পারদ চড়ানোর পর এবার গোপন সামরিক পদক্ষেপে পা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সৈন্যে ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে দেশটি। মাত্র এক ঘণ্টায় ইরানের ১০ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধুলোয় মিশিয়ে দেবে ওয়াশিংটন।

সোমবার যুক্তরাজ্যের ডেইলি স্টার এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিশ্বের ৪০টি স্থান ও পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানকে যুদ্ধবলয়ে ঘিরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন ও সেনা মোতায়েন করে এসব স্থানে অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ, সেনা ও বিমানবাহিনীর সেনা সদস্যরা। ইরানের চারদিকের দেশগুলোয় মার্কিন সেনা উপস্থিতি রয়েছে।

সবদিক দিয়ে তেহরানকে কোণঠাসা করে দেয়ার মতো সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে। এর আগে ২০০৭ সালে লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনও এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ডেইলি স্টার।

মধ্যপ্রাচ্যের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত ইরানের চারপাশে ঘিরে থাকা দেশগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের রণসজ্জা প্রস্তুত। কয়েক দশক ধরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে রয়েছে ৬৯ হাজার মার্কিন সেনা। ২০০১ সালের পর থেকে এ অঞ্চলে আধিপত্য আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তান ও ইরাকে বহু আগে থেকেই দেশটির সেনা সদস্যরা রয়েছেন।

ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক, পাকিস্তান, কিরগিজিস্তান ও ওমানে রয়েছে বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। মার্কিন পঞ্চম ফ্লিটের মূলঘাঁটি বাহরাইনে অবস্থিত। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক মহড়া ওই ফ্লিট থেকেই পরিচালিত হয়।

‘নাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ নামের ওই ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমানবাহী ও ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজও নিয়ন্ত্রিত হয়। সাড়ে ৪ হাজারের বেশি সেনা সজ্জিত ঘাঁটিটি ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

গত বছর বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস নিমিৎজ থেকে পারস্য উপসাগরে ইরানের জাহাজে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। স্থলপথ ব্যবহার না করে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বোমারু বিমান ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ১০ হাজার লক্ষ্যবস্তুকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে সক্ষম।

শক্তিশালী বি-৫২ স্ট্রাটোফোরট্রিস ও বি-২ স্টিলথ বোম্বারসহ ২ শতাধিক বোমারু বিমানের বহর ও ক্রুজ মিসাইল প্রস্তুত রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী। বি-২ স্টিলথ বোম্বারগুলো প্রতি ২২ সেকেন্ডে ৮০টি বোমা ফেলতে সক্ষম।

ঘটনাপ্রবাহ : ইরানের পরমাণু সমঝোতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×