সিরিয়ার শেষ যুদ্ধ ইদলিবে

  যুগান্তর ডেস্ক ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিরিয়া
ছবি: এএফপি

সিরিয়ার শেষ যুদ্ধ হতে যাচ্ছে বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবে। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই অবসান ঘটবে দেশটির সাত বছরের গৃহযুদ্ধ। তোড়জোড় শুরু হয়ে গেলে বেশ কিছুদিন ধরে থেমে থেমে রুশ বিমান হামলা চলছিল। এবার এই অঞ্চলের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিতে সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে রুশ সিরিয়ার যৌথ বাহিনী।

ইতিমধ্যেই চারদিক থেকে এলাকা ঘিরে ফেলেছে। অভিযানের আগেই নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক। সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে অনিবার্য এ লড়াইয়ে আটকে পড়েছে এখানকার অধিবাসীরা। লুকানোর জায়গা নেই, পালানোর পথ বন্ধ। ভয় আর আশঙ্কায় এক প্রকার নিশ্চিত মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, আসাদ বাহিনীর অভিযানের ভয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে ইদলিবের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। তুরস্ক সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ায় কোথাও পালানোর জায়গা নেই তাদের। ইদলিবের বাসিন্দা আলা। যুদ্ধের ময়দানে একজন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন তিনি।

সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছুই করার নেই আমাদের। কোথাও পালিয়ে যাওয়ার জায়গা নেই। আমরা নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য অপেক্ষায় রয়েছি।’ তিনি জানান, পরিবার নিয়ে অন্য কোথাও পালাতে হলে টাকার প্রয়োজন। কিন্তু হাতে এখন টাকাও নেই।

২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার যুদ্ধে বিজয়ের পথে আসাদ বাহিনী। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রুশ বাহিনীর সামরিক সহযোগিতায় গত তিন বছরে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বেশিরভাগ এলাকাই সরকারের পুনর্দখলে এসেছে। হোমস শহর, আলেপ্পোর বেশিরভাগ, রাজধানী দামেস্কের চারপাশ এবং ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানের জন্মস্থান দারাও কয়েক মাস আগে সরকারের করতলগত হয়েছে।

এসব এলাকায় কোণঠাসা হয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ ইদলিবে আশ্রয় নিয়েছে বিদ্রোহী বাহিনী। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে আশ্রয় নিয়েছে অন্যান্য অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত অধিবাসীরাও। ইদলিবে এই মুহূর্তে অবস্থান করছে প্রায় ৭০ হাজার বিদ্রোহী যোদ্ধা। জঙ্গি আছে ১০ হাজার। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের এই এলাকায় বিভিন্ন গুপ্ত স্থান থেকে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে এসব যোদ্ধা।

শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইদলিব বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ খোলা কারাগারে পরিণত হয়েছে। এখানকার বর্তমান অধিবাসীর অর্ধেকই সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যান্য এলাকা থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু এখানেও কোনো নিরাপত্তা নেই। গত কয়েক বছর ধরে একদিকে প্রতিনিয়ত মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ করছে বিদ্রোহী বাহিনী।

অন্যদিকে ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে হাসপাতাল, স্কুল, কল-কারখানা সবকিছুকে টার্গেট করে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি বাহিনী। এবার শেষ বারের মতো অভিযান রণপ্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ইতিমধ্যে আটকে পড়া ওই ৩০ লাখ নাগরিকের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

সিরিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত স্টেফান দা মিস্তুরা বৃহস্পতিবার হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সিরীয় বাহিনীর এ অভিযান থামানো না গেলে, ‘নরকে’ পরিণত হবে ইদলিব। সিএনএন বলেছে, লড়াই শুরু হলে এটাই হবে সিরিয়া যুদ্ধের শেষ ও সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। নিহত হতে পারে প্রায় ৪ লাখ মানুষ। এর মধ্য দিয়ে ধ্বংসস্তূপে রূপ নেবে সিরিয়ার অবশিষ্ট অবকাঠামোও।

ঘটনাপ্রবাহ : সিরিয়া যুদ্ধ

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter