চুমুতে ফিরল প্রেমিকের জীবন

অ্যা কিস অব লাইফ

  যুগান্তর ডেস্ক ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চুমুতে ফিরল প্রেমিকের জীবন

সার্ফিং শেষ করে উঠে আসছিলেন বিচে। হাতে তখনও সাফিং বোট। একে অন্য থেকে খানিক দূরত্ব রেখে হাসতে হাসতে হাঁটছেন দুই মধ্যবয়সী নারী-পুরুষ। হঠাৎ বুকে হাত চেপে বেলাভূমিতে লুটিয়ে পড়লেন প্রেমিক ম্যাক্স মন্টগোমারি।

ফার্স্ট এইড হাতে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে আসেন চিকিৎসক। আসেন পুলিশও। মুহূর্তেই একটা জটলা। কারও দিকে না তাকিয়ে ঠিক সেই সময়েই হামাগুড়ি দিয়ে প্রিয় মানুষটার ঠোঁটে একের পর এক চুমু দিতে থাকেন প্রেমিকা ডা. অ্যান্ডি ট্রেনর ।

সেই সঙ্গে দুই হাতে পেশাদারি চাপ বুকে। এভাবে প্রায় ১৭ মিনিট পর প্রাণ ফিরে পান ম্যাক্স। পরে অ্যাম্বুলেন্সে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেদিনই বাইপাস সার্জারি। টানা দশ মাস পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ম্যাক্স। বর্তমানে তিনি সুস্থ।

এই যুগলকে উদ্ধার করার ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেন আলেকজান্ডার বেকার। তিনি বলেন, ‘এটা কিস অব লাইফ’। পর দিনই ম্যাক্সের করোনারি বাইপাস সার্জারি হয়। পরস্পরের মধ্যে আরও প্রেম বেড়ে গেছে তাদের। প্রথম চুম্বনে ছিল না কোনো রোমান্স। তবে সেরে ওঠার পর ফের ওই সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন দু’জনে। আর তখন ম্যাক্সকে নাকি ট্রেনর বলেছেন, ‘ইউ ক্যান কিস মি ফর রিয়্যাল নাউ।’

ঘটনাটি গত বছর অক্টোবরের হলেও প্রকাশ্যে এসেছে সম্প্রতি। ৫৬ বছরের ম্যাক্স মন্টগোমারির সঙ্গে ডেটে গিয়েছিলেন ড. অ্যান্ডি ট্রেনর। সান্তা ক্রুজ ব্রিজে প্যাডেল বোর্ডিংয়ের ইচ্ছে ছিল তাদের। আচমকাই বুকে মারাত্মক ব্যথা অনুভব করেন ম্যাক্স।

পানি থেকে উঠেই মাটিতে পড়ে যান তিনি। কিন্তু ট্রেনর একজন পেশাদার চিকিৎসক। ম্যাক্সের এরকম সমস্যা বুঝতে পেরেই অভিনব পন্থা নেন ট্রেনর। কারণ চিকিৎসক হিসেবে সিপিআর জানতেন তিনি। সেকারণেই সেদিন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি।

কোনো কারণে যখন হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়, তখন সাময়িকভাবে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের কাজ কিছু সময় চালিয়ে নিতে মস্তিষ্কে রক্ত এবং অক্সিজেন সরবরাহ করাকে বলে ‘কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন’।

বারবার চুমুর মাধ্যমে তাই করেছিলেন ট্রেনর। ম্যাক্সের জীবন বাঁচাতে চুম্বন করেছেন ট্রেনর। আর বুকে চাপ দিয়ে গিয়েছেন, যতক্ষণ না ডিফাইব্রিলেটর ব্যবহার করা যায়। প্রায় ১৭ মিনিট হৃদযন্ত্রের স্পন্দন বন্ধ ছিল ম্যাক্সের। চিকিৎসকরা ডিফাইব্রিলেটর দিয়েই হৃদযন্ত্রের সংকোচন করেন এ জাতীয় বিপদের সময়। শক দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয় হৃদযন্ত্রের স্পন্দন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter