ক্ষেপণাস্ত্র না ছুড়েই বর্ষপূর্তি উ. কোরিয়ার

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: এএফপি

জমকালো কুচকাওয়াজ, ব্যান্ডের তালে তালে সামরিক নৃত্য, অস্ত্রের ঝনঝনানি- সবই ছিল। ছিল না শুধু কিম জং উনের ‘বাহাদুরির’ হাতিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথমবারের মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন না করেই বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছে উত্তর কোরিয়া।

রোববার দেশটি ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। ঐতিহ্যকে পেছনে ঠেলে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী না করায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে কিম যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা তিনি রেখেছেন।

বিবিসি লিখেছে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়েছেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দেশটির অস্ত্রভাণ্ডার ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে দেয়া প্রতিশ্রুতি বিষয়ে কোনো ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কিনা, সেজন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কুচকাওয়াজটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনের কারণে কিমের এবারের প্রদর্শনীর সুর নরম থাকবে বলে অনেক বিশ্লেষক আগেই ধারণা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম পরমাণু ওয়ারহেডবাহী আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের প্রদর্শনী করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বকে আতঙ্কে রাখতেন কিম।

এবার তার ব্যতিক্রম হল। তবে একে অনেকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। এজন্য কুচকাওয়াজের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন এসব বিশ্লেষক। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত একটি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদক ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে ছবি সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনকে নিউজ প্রদর্শনীতে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান লি ঝানশু। কুচকাওয়াজ শেষে কিম ইল সাং স্কয়ারের ব্যালকনিতে তারা উভয়ই হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে যান। চলতি বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিম কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিকমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি অস্পষ্ট চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

কতদিনের মধ্যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য অর্জিত হবে কিংবা কী প্রক্রিয়ায় এটি যাচাই করা হবে, তার বিস্তারিত কিছুই ছিল না। এজন্য শুরু থেকেই অনেকেই এ চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। শীর্ষ সম্মেলনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও সফর বিনিময় অব্যাহত থাকলেও সর্বশেষ পিয়ংইয়ংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়।