জিরো থেকে হিরো চীনের আলীবাবা

হলিউড কাহিনীকেও হার মানায় জ্যাক মার গল্প

  যুগান্তর ডেস্ক ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জ্যাক মা
ছবি: এএফপি

প্রাইমারি স্কুল থেকেই তিনি ‘ফেলুদা’। মাধ্যমিকেও ফেল বারবার। ভর্তির আবেদনই বাতিল করে দেয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। একবার নয়, পরপর কয়েকবার। সেই তিনিই হয়েছেন শিক্ষক। তিনিই আবার ‘আলীবাবা’।

রূপকথার আরব্য রজনীর আলীবাবা নন, চীনের ধনরাজ্যের আলীবাবা। বর্তমান বিশ্বের এক জলজ্যান্ত বিস্ময়। অনলাইন কেনাকাটায় বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা। জ্যাক মা (৪৬)-পর্দা কাঁপানো হলিউড কাহিনীকেও হার মানিয়েছেন চীনের অজপাড়াগাঁয়ের এই খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তান। বাধা-বিঘ্ন ডিঙিয়ে শেকড় থেকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছেন নিজেকে।

কর্মজীবনের শুরুতে ছিলেন কলেজের সাধারণ এক ইংরেজি শিক্ষক। সেই তিনিই আজ বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের। যাকে বলে, জিরো থেকে হিরো। বিবিসি।

১৯৬৪ সালে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ঝেজিয়াংয়ের হ্যাংঝৌতে অতি দরিদ্র পরিবারের জন্ম নেন জ্যাক। বাবা-মার অভাবের সংসারেও লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন। পড়াশোনায় কিন্তু ভালো ছিলেন না মোটেই।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেই সে কথা স্বীকার করেছেন। প্রাইমারি স্কুলে পরীক্ষায় দু’বার ফেল করেছিলেন। মাধ্যমিক স্কুলেও তিনবার ফেল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করে ১০ বার প্রত্যাখ্যাত হন। কিন্তু কখনও ভেঙে পড়েননি। সেসব দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জ্যাক মা বলেন, ‘এতবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে, ফেল করে কিন্তু বেশ উপকারই হয়েছিল আমার।’

ইংরেজিতে দক্ষতার সুবাদে তিনি একটি স্থানীয় কলেজে বছর পাঁচেক ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন। তখন তার বেতন ছিল মাসে ১৫ ডলার। এ সময়ে তিনি স্থানীয় কেএফসি, হোটেল এবং পুলিশে চাকরির আবেদন করেন। কিন্তু বিধিবাম! সবখানেই অকৃতকার্য হন। জীবনযুদ্ধের সব মাঠেই পরাজিত হয়ে বেপরোয়া জ্যাক মা শেষে ব্যবসা করবেন সিদ্ধান্ত নিলেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি একটি অনুবাদ প্রতিষ্ঠান চালু করেন। অনুবাদক হিসেবে অসাধারণ একটি সুযোগ পেয়ে গেলেন। যেটি তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১৯৯৫ সালে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের অনুবাদক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ পান।

সেই সফরেই তার প্রথম ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচয়। এরপর আর পেছনে তাকাননি জ্যাক মা। বন্ধুদের কাছ থেকে ৬০ হাজার ডলার ধার নিয়ে আলীবাবা ডট কম নামে অনলাইন ব্যবসা চালু করেন। চীনের রফতানিকারকরা তাদের পণ্যের তালিকা দিতে পারবে যেখান থেকে বিদেশি ক্রেতারা এসব রফতানিকারকের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

বর্তমানে ইন্টারনেট সেবা থেকে শুরু করে ডিজিটাল ব্যাংকিং, মুভি নির্মাণ সব ধরনের ব্যবসা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

গত দু’দশক ধরে তিল তিল করে আলীবাবার এ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠানটি আজ ৪২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আলীবাবার ৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক জ্যাকের ব্যক্তিগত মোট সম্পদ ৩৬.৬ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবে জ্যাক মা বিশ্বের ৩৩তম শীর্ষ ধনী। ব্যবসায়িক দুনিয়ায় অত্যন্ত পরিচিত মুখ জ্যাক।

এমনকি চীনবিদ্বেষী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আগামী বছর আলিবাবার প্রধান নির্বাহী থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter