অভিবাসী বিদ্বেষীদের খপ্পরে ইউরোপ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জামির হোসেন

অভিবাসীবিরোধী মিছিল

গ্রাম থেকে শহর, চায়ের আড্ডা থেকে পার্লামেন্টের অধিবেশন। ইউরোপের দেশে দেশে এখন একটাই আলোচনা- অভিবাসন সমস্যা। বিতর্ক ইতালি-জার্মানিতে। হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়ায়। সার্বিয়া থেকে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোয়।

সোজা কথায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রত্যেকটি বৈঠকেই এই বিতর্ক। ব্যতিক্রম নয় ফ্রান্স-ব্রিটেনও। অভিবাসন বিতর্কের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেল সুইডেনে। কঠোর অভিবাসনবিরোধীরা আগের থেকে আরও ভালো ফল করেছে।

এই নির্বাচন থেকেও সেই একই বার্তা, একই হুঙ্কার- অভিবাসী-শরণার্থীদের আর বরদাশত করা হবে না। শুধু সুইডেন নয়, পুরো ইউরোপই আজ অভিবাসী বিদ্বেষী জাতীয়তাবাদীদের কবলে।

বিদেশি বা অভিবাসী ভীতি, ইসলামভীতি কৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ইউরোপজুড়ে।

এসব ভীতিকে পুঁজি করে রাজনীতিতে শিকড় গাড়ছে ‘পপুলিস্ট পার্টি’ বা জনতোষণবাদী দলগুলো। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে তাদের উত্থান চোখে পড়ার মতো।

গণতন্ত্রের মোড়কে এদের বেশিরভাগই জাতীয়তাবাদ ও কট্টরপন্থা উসকে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে ফেলেছে বেশকিছু। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণে সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে কেউ কেউ।

কেউ আবার রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করার চেষ্টায় মরিয়া। সচরাচর অভিবাসন ও ইসলাম ভীতির সোচ্চার হলেও এদের কেউ আবার ‘এক ইউরোপ’ বিরোধী।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি ইতালি, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, সুইডেন, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া প্রভৃতি দেশে অভিবাসী বিদ্বেষ চরম রূপ নিয়েছে। এবং বিদ্বেষের ‘বিষফল’ ঘরে তুলেছে কট্টরপন্থী দলগুলো।

ইতালি : কয়েক মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার পর চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশৃঙ্খল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ইতালিতে। এর মধ্যদিয়ে দুই জনতোষণবাদী দল ফাইভ স্টার মুভমেন্ট ও দ্য লীগ জোট সরকার গড়েছে।

২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট ও অভিবাসন বিতর্ক থেকে উত্থান ঘটে এ দল দুটির। সরকার পরিচালনায় এই জোট সরকারের যৌথ কর্মসূচি হচ্ছে, আফ্রিকা থেকে আসা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিতাড়ন।

ইতালিতে যাতে আর কোনো অভিবাসী-শরণার্থী না আসতে পারে সে জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। ইতিমধ্যে সীমান্ত সিলগালা করে দিয়েছে। অভিবাসীবাহী কোনো ছোট নৌকাই নিজেদের উপকূলে ভিড়তে দিচ্ছে না তারা।

জার্মানি : অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। মাত্র পাঁচ বছর আগে গঠিত রাজনৈতিক দল। ২০১৭ সালের নির্বাচনে হইচই ফেলে দেয়। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে।

শুরু থেকেই ইউরোপবিরোধী দলটি অভিবাসী বিরোধিতা ও ইসলাম ভীতিকে রাজনীতির হাতিয়ার করে। তাদের উত্থানে ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করে সিডিইউ/সিএসইউ জোট। চার চার বার নির্বাচিত অ্যাঞ্জেলা মার্কেল শেষ পর্যন্ত সরকার গড়তে পারলেও এক্ষেত্রে হিমশিম খেয়ে যান তিনি।

অস্ট্রিয়া : জার্মানির প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়া। এখানে এএফডির চেয়েও বড় সাফল্য পেয়েছে কট্টরপন্থী দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও)। সরকার গঠনে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জের সরকারের শরিক দলটি।