পাবনা সুগার মিল

শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ তহবিলের কোটি টাকা আত্মসাৎ

  পাবনা প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার সুগার মিলে কর্মরত শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই তহবিল রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগসাজশে শ্রমিকদের ভুয়া দরখাস্ত দেখিয়ে অবৈধভাবে ওই টাকা উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনা তদন্তে মিল কর্তৃপক্ষ একটি এবং প্রধান কার্যালয় থেকে অপর একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিলের তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আফতাব আলী নামে এক কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাবনা সুগার মিলস্ লিমিটেডে ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী পদে ৮৮ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তারা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন থেকে স্থায়ী নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। সরকারি বা আধাসরকারি নীতিমালা অনুসারে এসব কর্মচারীর বেতন থেকে ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে ১০ ভাগ হারে টাকা কর্তন করে তাদের হিসাবে জমা রাখা হয়। আপদকালীন সময়ে কর্মচারীরা তার তহবিল থেকে নির্দিষ্ট সুদ প্রদানের মাধ্যমে ঋণ গ্রহন করতে পারেন। চাকরি শেষে হিসাবের মাধ্যমে এ টাকা কর্মচারীদের এককালীন পরিশোধের বিধান রয়েছে। কিছু কর্মচারী তাদের আপদে এ তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। যেসব কর্মচারী তাদের তহবিল থেকে ঋণ নিয়েছেন তাদের দাবি, আবেদন ফরমে ঋণ চাহিদার বেশি দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মিলে কর্মরত ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী শরিফুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালে ৮৪নং ভাউচারে ৩০ হাজার ও একই সালে ৩৭৪২নং ভাউচারে ৫০ হাজার একুনে ৮০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহন করেন। অন্যদিকে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ২৯৪৩নং ভুয়া ভাউচারে এই কর্মচারীর তহবিল থেকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সুদসহ তার বেতন থেকে জোরপূর্বক এ অর্থ কর্তন করা হচ্ছে। মিলের অপর ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী মো. সফর আহমেদ জানান, তার পিএফ নং-১৭৫। তিনি তার প্রয়োজনে চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর ২০ হাজার টাকা তার প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ আবেদন করে জানতে পারেন, তার প্রভিডেন্ট ফান্ডে কোনো টাকা নেই। তার হিসাব থেকে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি কোনো সময় এ অর্থ গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন। মিলে কর্মরত সেন্টার ইনচার্জ আবুহেনা মোস্তফা কামাল, ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী আলতাফ হোসেন, ফিরোজ কবির, এমদাদ হোসেনসহ অনেকেই দাবি করেন, তাদের তহবিল থেকে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কর্মচারীর দাবি মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাবনা কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শকের কাছে প্রতিকারের জন্য আবেদন করেছেন। পাবনা কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শকের উপ-মহাপরিদর্শক মো. মোর্তজা মোর্শেদ বলেন, তার দফতরটি শ্রমিকদের স্বার্থ ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করে থাকে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি আইনি ব্যাপার। এক্ষেত্রে তিনি বিভাগীয় শ্রম দফতর, রাজশাহীর কাছে প্রতিকারের জন্য যাওয়ার পরামর্শ দেন শ্রমিকদের।

এ ব্যাপারে দাশুড়িয়ার পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রফিডেন্ট ফান্ডের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া যায়। পাবনা সুগার মিল থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এ টাকা আত্মসাতের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আফতাব আলী নামে একজন সর্টারকে (বাছাইকারী) তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছিল। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের ইআর সেকশনের জেনারেল ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম ও সদর দফতরের হিসাব বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার সেলিম হোসেনকে দিয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত টিম ঘটনার তদন্ত করে গেছেন। তারা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কাগজপত্র নিয়ে গেছেন। এখনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter