রানীনগরে ভাতার কার্ড দেয়ার নামে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

  নওগাঁ প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মঞ্জু হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাতার কার্ড ও সরকারি প্রকল্পের উপকরণ দেয়ার নাম করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কার্ড পাওয়ার আশায় কেউ কেউ সুদের ওপর টাকা নিয়ে মেম্বারকে ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বাহাদুরপুর ও চকমনুগ্রাম। এ ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মঞ্জু হোসেন। গ্রামের গরিব ও অসহায়দের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিডির কার্ড ও সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উপকরণ দেয়ার নাম করে এক হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের কার্ড হয়েছে। তবে যারা টাকার বেশি দিয়েছে তাদের কার্ড হয়েছে। যারা কম টাকা দিয়েছেন তাদের কার্ড হয়নি। ফলে তাদের আজকাল বলে সময়ক্ষেপণ করছেন মেম্বার মঞ্জু হোসেন। বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত-সামছুলের ছেলে জব্বার বলেন, ওই মেম্বার ভিজিডির কার্ড ও টিন দেয়ার নাম করে গত ৬ মাস আগে তার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখনও কোনো কার্ড বা কোনো কিছুই পাইনি। মেম্বারকে জানানো হলে তিনি বলেন, আরও টাকার প্রয়োজন হতে পারে। একই গ্রামের মৃত ওসমানের ছেলে লোকমান ও মৃত ময়েজ প্রামাণিকের ছেলে ইব্রাহিম প্রামাণিক বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার জন্য মেম্বার তাদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়েছে। কিন্তু কার্ড করে না দিয়ে সময় পার করছেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মঞ্জু হোসেন বলেন, আমি বিরোধী দলের রাজনীতি করি। একটা কার্ড পাস করতে গেলে অফিসে কিছু টাকা দিতে হয়। অফিসে টাকা না দিলে কাজগুলো সহজে হয় না। তাই এসব খরচের কারণে কিছু টাকা নেয়া হয়েছে। পূর্বে যেসব মেম্বার ছিলেন তারাও এসব বিষয়ে কাজ করে দেয়ার নামে টাকা নিয়েছেন। তাই আমিও নিয়েছি। আমাকে হেস্তনেস্ত করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অন্যরা মানুষ লাগিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বাবু বলেন, অনেকেই বলাবলি করছেন মেম্বার মঞ্জু হোসেন কার্ড করে দেয়ার নামে টাকা নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী আমার কাছে আসেনি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত) তারিক এলাহী বলেন, অতীতে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করতে টাকা নেয়া হয়েছে। বর্তমানেও নেয়া হয় এবং ভবিষ্যতে নেয়া হতে পারে। তবে আজ পর্যন্ত আমি কোনো টাকা পাইনি। দফতরে কাজ করার জন্য কোনো প্রকার টাকা নেয়া হয় না বা খরচ হয় না। তবে অফিসের নাম করে তারা (মেম্বাররা) টাকা উত্তোলন করেন। তবে তারা টাকা দেয় না। আর এ বিষয়ে অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর এসব অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter