নওগাঁয় বোরো বীজ সংকট

বীজের চাহিদা ৬ হাজার ২২ টন হলেও বরাদ্দ ১২১ টন

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নওগাঁ প্রতিনিধি

উত্তরাঞ্চলের মধ্যে শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁ জেলা। উৎপাদনের পর জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাকি ধান সরবরাহ করা হয় অন্যান্য জেলায়। আর ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন ভালো বীজ। এ বছর বোরো আবাদের জন্য যে পরিমাণ বীজের প্রয়োজন তা চাহিদামতো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে সরবরাহ করা হয়নি। পর্যাপ্ত বীজ সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানির ও খোলাবাজারের বীজ উচ্চ মূল্যে কিনতে হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৩৮১ টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ৭০০ টন, রানীনগরে ১৮ হাজার ৩২০ টন, আত্রাইয়ে ১৮ হাজার ৪১৫ টন, বদলগাছীতে ১২ হাজার ১৫ টন, মহাদেবপুরে ২৬ হাজার ১৭৫ টন, পত্নীতলায় ২০ হাজার ২১০ টন, ধামইরহাটে ১৬ হাজার ৯০ টন, সাপাহারে ৬ হাজার ১৫০ টন, পোরশায় ৮ হাজার ৬০ টন, মান্দায় ২১ হাজার ৩০৬ টন ও নিয়ামতপুরে ২০ হাজার ৯৪০ টন। জেলায় বোরো আবাদের বীজের চাহিদা ৬ হাজার ২২ টন। প্রণোদনা দেয়া হয় সার ডিএপি ২৯৫ দশমিক ৩ টন ও এমওপি ১৫১ দশমিক ৩৬ টন এবং পুনর্বাসন করা হয় ডিএপি ৪১৬ টন ও এমওপি ২০৮ টন। উন্নত জাতের উপশি ধান বীজ পুনর্বাসন করা হয় ৫০ টন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা যায়, বোরো আবাদে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বীজের চাহিদা ৬ হাজার ২২ টন হলেও বরাদ্দ পাওয়া যায় ১২১ টন। অতিরিক্ত আরও নিয়ে আসা হয় ৪৭ টন। এছাড়া প্রণোদনা দেয়া হয়েছে ৫০ টন। জেলায় বীজ সরবরাহকারী ডিলার রয়েছে ২২৩ জন। প্রতিবস্তা ১০ কেজি ওজনের দাম ডিলার পর্যায়ে ৪৩০ টাকা। কৃষক পর্যায়ে ৫০০ টাকা। উন্নত জাত ধান বীজ ব্রি-২৮, ২৯, ৫০, ৫৩, এসএলএইচ সরবরাহ করা হয়। জেলার বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ি ইউনিয়নের জোলাপাড়া গ্রামের কৃষক তৌহিদ হাসান টনি বলেন, এ বছর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবেন। সে লক্ষ্যে কোম্পানির নাজিরশিট ২ কেজি ওজনের প্যাকেট ১৭০ টাকা মূল্যে ৫ প্যাকেট ধান বীজ কিনেছেন। বিএডিসির বীজের চাহিদা বেশি হওয়ায় তিনি কোনো বীজ পাননি। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, জেলায় প্রায় ৬০ ভাগ জমিতে জিরাশাইল ধানের আবাদ করা হয়। বোরো আবাদের জন্য বীজ যথেষ্ট সরবরাহ করা হয়েছে। জেলার বাইরে থেকে ধানের চারা নিয়ে আসার প্রয়োজন হয় না। কারণ কৃষকরা নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করে এবং চারা তৈরি করে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও ধান বীজ সরবরাহ করে থাকে। ফলে ধান বীজ সংকট হওয়ার কথা না। নওগাঁ বীজ বিপণন সিনিয়র সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, বীজের সংকট নাই। যথেষ্ট সরবরাহ আছে। সরকার, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন কোম্পানি থেকে সরবরাহ থাকায় এবং কৃষকরা নিজেরাই বীজ উৎপাদন করাই কোনো ঘাটতি নাই।