প্রিয় ক্যাম্পাস : বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়

শতভাগ কর্মমুখী এক সময়োপযোগী বিশ্ববিদ্যালয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আকাশ থেকে পাখির চোখে দেখলে পুরো তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের মধ্যে যে ছোট্ট সবুজ সমারোহের দেখা মিলবে সেটিই মূলত বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ টেক্সটাইল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। ১২ একর জমির ওপর নির্মিত ইংরেজি ‘ই’-শেপের চারতলা ভবনটি থেকেই বাংলাদেশের রফতানির সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক খাতের দক্ষ ব্যবস্থাপক ও প্রকৌশলী সরবরাহ হয়ে থাকে।

এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক টেক্সটাইল প্রকৌশলী শিক্ষা বইসমৃদ্ধ লাইব্রেরি, গ্র“প স্টাডির জন্য টিএসসি, শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার বিশাল মাঠ, শরীর চর্চা কেন্দ্র, মসজিদ এবং ক্যাফেটেরিয়া। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য রয়েছে আধুনিক মেশিনারিজসমৃদ্ধ ল্যাব। রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব এবং ভার্চুয়াল ক্লাসরুম।

২০১০ সালের ২২ ডিসেম্বর কলেজ অব টেক্সটাইল টেকনোলজির ৪১০ জন শিক্ষার্থী এবং ২৭ জন শিক্ষক নিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। বর্তমানে প্রতি সেমিস্টারে ৬০০ জন শিক্ষার্থী হিসেবে ৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় দেড়’শ শিক্ষক নিয়ে চলছে বুটেক্সের শিক্ষা কার্যক্রম।

প্রতি বছর একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে সবথেকে দক্ষ প্রকৌশলী সরবরাহ করে আসছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। শুরু থেকে না হলেও ২০১৫ সাল থেকে সেশনজট প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় প্রতি বছর বুটেক্সের শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে সাফল্যের নজির স্থাপন করে চলেছে। টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি বিসিএস’র বিভিন্ন ক্যাডারেও এখানকার শিক্ষার্থীরা তাদের সফলতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। উচ্চ শিক্ষা এবং টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন গবেষণায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মান, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০ জন শিক্ষক উচ্চতর গবেষণায় মনোনিবেশ করে আছেন।

ফ্যাকাল্টি ও বিভাগ

ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যালস ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ এবং ফ্যাকাল্টি অব সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এই ৫টি ফ্যাকাল্টির অধীনে ১০টি ডিগ্রি অ্যাওয়ার্ডিং এবং ৪টি নন ডিগ্রি অ্যাওয়ার্ডিং বিভাগে বিএসসি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধীনে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ; টেক্সটাইল কেমিক্যালস ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধীনে ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং; ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধীনে অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগ; টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির অধীনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ; সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধীনে টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ এবং গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগে মোট ৬শ’ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন প্রতি বছর।

এক্রিডাইটেড ল্যাব

স্বাধীন বাংলাদেশে কলেজ অব টেক্সটাইল টেকনোলজির সময় থেকেই টেক্সটাইল শিল্পের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। আগে টেস্টিং ল্যাব এবং ফ্যাশন ডিজাইন ল্যাব আলাদা আলাদাভাবে এ পরীক্ষাগুলো করে এলেও তাতে খুব বেশি সাফল্যের মুখ দেখেনি প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৫ সালে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় একটি আন্তর্জাতিক মানের এক্রিডাইটেড ল্যাব প্রতিষ্ঠার। যেই কথা সেই কাজ। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের মেশিনারিজ স্থাপনের মাধ্যমে এক্রিডাইটেড ল্যাব এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। আগে যেসব গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট করার জন্য তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের বিদেশে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করা লাগত এখন সেখানে স্বল্প সময়ে দেশেই সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে শিপমেন্ট সচল রাখতে পারছেন তারা। এক্রিডাইটেড ল্যাবের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতিতে সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারছে। এই ল্যাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকারি নীতি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্লাব ও ফোরাম

নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃশনশীল প্রতিভার বিকাশ ও বাজার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৭টি ক্লাব ও ১০টিরও অধিক ফোরাম। ক্লাব ও ফোরামগুলো সারা বছর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনার ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চলতি বছরও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বুটেক্স ডিসি বুনন। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে সবসময়ে পাশে রয়েছে সেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন ‘বাঁধন’। একাত্তরের চেতনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে ‘ক্লাব ৭১’। এছাড়া চাকরির বাজারের নানা খোঁজখবর নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে বুটেক্স বিজনেস ক্লাব। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেটিভ রিসার্স আইডিয়া প্রতিযোগিতায় এ বছর চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শেষ হল ৫ দিনব্যাপী জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা উৎসব।

ভর্তি পদ্ধতি

ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর ৫৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেলেও এ বছর সুযোগ পাচ্ছেন ৬০০ জন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আলাদা আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০সহ গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও ইংরেজিতে আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ পেলেই বুটেক্সে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন শিক্ষার্থীরা। এ বছর প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ১৩ শিক্ষার্থী ভর্তি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারি কোটা পদ্ধতি চলতি বছরও কার্যকর রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সরকারি শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি বিএসসি ও এমএসসিতে কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে চালু রয়েছে বিভিন্ন ট্রাস্ট ফান্ডের শিক্ষাবৃত্তি। এছাড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য এখানে চালু রয়েছে ইউজিসি ও বিভিন্ন ট্রাস্ট ফান্ড বৃত্তি প্রকল্প। বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষকদের জন্য এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৃত্তি প্রকল্পও চালু রয়েছে। বিশ্বের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার জন্য এই মুহূর্তে ২০ জন শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন, তুরস্কসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।

গবেষণা ও সাফল্য

নিয়মিত পাঠদান ও পাঠগ্রহণের পাশাপাশি বুটেক্সের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল খাতের উন্নতিকল্পে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে নিয়োজিত রয়েছেন।

বেকার থাকার সুযোগ নেই বুটেক্স শিক্ষার্থীদের

-অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার মাস্উদ আহ্মদ

উপাচার্য, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়

আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার মেয়াদে ফ্যাকাল্টি সংখ্যা ৩ থেকে ৫টিতে উন্নীত করেছি। বিভাগ সংখ্যা ৮টি থেকে বাড়িয়ে ১৪টিতে উন্নীত করেছি। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪১০ জন থেকে বাড়িয়ে ৬শ জনে উন্নীত করতে পেরেছি। আমার মেয়াদে সবচেয়ে বড় অর্জন হল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো লক্ষ্য ছিল না। অর্থাৎ কোনো ধরনের অর্গানোগ্রাম ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চারটি বছর পার হয়েছে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম পদক্ষেপেই ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ অর্গানোগ্রাম তৈরি করা। ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, সর্বোপরি স্থানীয় সাংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সার্বিক সহযোগিতায় ১ হাজার ২০৫ জন জনবলের একটি পূর্ণাঙ্গ অর্গানোগ্রাম আমি সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন করাতে পেরেছি।

আরেকটি বড় অর্জন হল উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার পূর্ব শর্ত হল আধুনিক জ্ঞানসমৃদ্ধ কারিকুলাম ও সিলেবাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে তাড়াহুড়া করে একটি সিলেবাস ও কারিকুলাম তৈরি হয়েছিল আমার হাত ধরে। কিন্তু পরবর্তী চার বছরে সেই সিলেবাস ও কারিকুলাম আপডেট করেনি তৎকালীন প্রশাসন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয়ার পর আমি আবার সেই সিলেবাস ও কারিকুলামকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করেছি। এমনিক অধিভুক্ত ৬টি কলেজের সিলেবাস ও কারিকুলামকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করেছি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির উর্বর ভূমি। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির বিরুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সবসময়ই সরব থেকেছেন।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গতি আনতে সচেষ্ট রয়েছি। এরই অংশ হিসেবে বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে বেশ কিছু স্কলারশিপ আনতে সক্ষম হয়েছি। উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও কাঠামোগত উন্নয়নে আমি সবসময় সচেষ্ট রয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে অবকাঠামোগত সুবিধা পায় তার জন্য ১৫ তলা বিশিষ্ট প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। ইতিমধ্যে ভবনটির ৭ তলা পর্যন্ত নির্মাণ শেষ হয়েছে। এছাড়া সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল নামে ৬ তলা একটি সম্পূর্ণ নতুন হল নির্মাণ করতে পেরেছি। মেয়েদের আবাসন সংকট মেটাতে শেখ হাসিনা হলের ৫ তলা পর্যন্ত আনুভূমিক সম্প্রসারণ করেছি। এমএজি ওসমানী হল এবং শহীদ আজিজ হলের রুমগুলোকে রিডেকোরেশনের মাধ্যমে আধুনিক করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও মোটরসাইকেল রাখার জন্য ওসমানী হল ও ক্যাম্পাসে শেড নির্মাণ করে দিয়েছি। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকা-১ এ একটি ওয়েলফেয়ার অফিস নির্মাণ করে দিয়েছি। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সম্বলিত অত্যন্ত নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের নির্মাণ কাজ চলমান।

আমি যখন যোগদান করি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৬ জন। সেই সংখ্যা আমি ১৩৪ জনে উন্নীত করেছি। মাত্র ৭ জন কর্মকর্তা নিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আর এখন কর্মকর্তা সংখ্যা ৫৮ জন। আমি যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম চালিকা শক্তি কর্মচারী সংখ্যা ছিল মাত্র ৪২ জন। বর্তমানে সেই কর্মচারী সংখ্যা ১০৮-এ উন্নীত করতে পেরেছি।

এ কথা সত্য যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গ্রাজুয়েশন শেষ করার আগেই নিশ্চিত জব মার্কেটে প্রবেশ করতে পারে। তবে আমি শিক্ষার্থীদের বলব, কষ্ট হলেও আপনারা অবশ্যই শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। তাহলে দেশ ও জাতি বেশি উপকৃত হবে।

আমাদের শিক্ষার্থীদের নিশ্চিত জব মার্কেট থাকা সত্ত্বেও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পেরেছি। বিশেষ করে বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আমি বিশেষ জোর প্রদান করেছি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আমি বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে নিশ্চিত জব মার্কেটের বাইরে গিয়ে আমাদের কাজে বৈচিত্র্য আনতে হবে। যারই ফলশ্রুতিতে এখন শিক্ষার্থী বিসিএসসহ নীতি নির্ধারণী জায়গায় ধীরে ধীরে অবস্থান করে নিচ্ছে। আগামী বছর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বুটেক্স গ্রাজুয়েটদের মিলনমেলায় পরিণত হবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটি, একাডেমিক কাউন্সিল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক পরিষদ, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অতি দ্রুত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও অবকাঠামো সুবিধা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে পারব এটাই আমার বিশ্বাস।

আমরা অনেকটা দূর এগিয়েছি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এখনও আসেনি। কারণ আমরা আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখি। কেবল উড়তে শিখেছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×