পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

বাংলা * ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

বাংলা

  সবুজ চৌধুরী ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সহকারী শিক্ষক, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা

পাঠ্যবই অন্তর্র্ভুক্ত অনুচ্ছেদের প্রশ্নোত্তর

‘এই দেশ এই মানুষ’

‘সার্থক জনম মাগো জন্মেছি এ দেশে।’ কবির এ কথার অর্থ - আমাদের সৌভাগ্য ও সার্থকতা যে আমরা এ দেশে জন্মেছি। বাংলাদেশে প্রায় সব লোক বাংলায় কথা বলে। আমরা বাঙালি। তবে আমাদের দেশে যেমন রয়েছে প্রকৃতির বৈচিত্র্য, তেমনি রয়েছে মানুষ ও ভাষার বৈচিত্র্য। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোয় রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজন। এদের কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ মুরং, কেউ তঞ্চঙ্গা ইত্যাদি। এ ছাড়া রাজশাহী ও জামালপুরে রয়েছে সাঁওতাল ও রাজবংশীদের বসবাস। তাদের রয়েছে নিজ নিজ ভাষা। একই দেশ, একই মানুষ অথচ কত বৈচিত্র্য। এটাই বাংলাদেশের গৌরব। সবাই সবার বন্ধু, আপনজন। এ দেশের রয়েছে নানা ধর্মের লোক। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান। সবাই মিলেমিশে আছে যুগ যুগ ধরে। এ রকম খুব কম দেশেই আছে। আমাদের বাংলাদেশের বাইরেও অনেক বাঙালি আছে।

ক) বাংলাদেশের কয়েকটি উপজাতির নাম লিখ।

খ) এ দেশে জন্মগ্রহণ করে আমাদের জীবন সার্থক হয়েছে কেন?

গ) ‘একই মানুষ অথচ কত বৈচিত্র্য।’ - লাইনটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ক) বাংলাদেশে বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠী বাস করে। এদের মধ্যে কয়েকটি উপজাতির নাম হল-

চাকমা, মারমা, মুরং, তঞ্চঙ্গা, সাঁওতাল, রাজবংশী প্রভৃতি। এ ছাড়া আরও অনেক উপজাতির বাস রয়েছে আমাদের পার্বত্য আঞ্চলে। এদের সবার রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র জীবনধারা।

উত্তর : খ) এ দেশে জন্মগ্রহণ করে আমাদের জীবন সার্থক হয়েছে কারণ এ দেশটি যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর তেমনি বৈচিত্র্যময় এর জনজীবন।

বাংলাদেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি দেশে। আমাদের দেশে যেমন রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈচিত্র্য, তেমনি রয়েছে মানুষ ও ভাষার বৈচিত্র্য। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বাস এখানে। এখানে প্রায় সবাই বাঙালি, তবে বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোয় রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজন। এদের কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ মুরং, কেউ তঞ্চঙ্গা প্রভৃতি। এ ছাড়া রাজশাহী ও জামালপুরে রয়েছে সাঁওতাল ও রাজবংশীদের বসবাস। তাদের রয়েছে ভাষাগত বৈচিত্র্য। আবার এ দেশে রয়েছে নানা ধর্মের লোক, যেমন - হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান। এরা সবাই মিলেমিশে যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে বাস করে আসছে। একই দেশ, একই মানুষ অথচ এত বৈচিত্র্য যা বাংলাদেশকে গৌরবের আসন দিয়েছে। তাই এমন একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশে জন্মগ্রহণ করে আমাদের জীবন সার্থক করে তুলেছে।

উত্তর : গ) ‘একই মানুষ অথচ কত বৈচিত্র্য।’ -লাইনটি দ্বারা এ দেশের মানুষের বিভিন্নতাকে বোঝানো হয়েছে।

আমাদের এই বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার, ধর্মের-বর্ণের লোক বাস করে। প্রায় সবাই বাঙালি হলেও পার্বত্য অঞ্চলে ভিন্ন জাতিসত্তার লোকজনও বাস করে। এ দেশে চাকমা, মারমা, মুরং তঞ্চঙ্গা, সাঁওতাল, রাজবংশী প্রভৃতি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজনের জীবনযাপন বাঙালি থেকে ভিন্নতর। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভাস, উৎসব, সংস্কৃতিতে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। আবার ধর্মীয় বৈচিত্র্যেও এ দেশটি সমৃদ্ধ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্রভৃতি ধর্মের লোক যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতি নিয়ে বাস করে আসছে। আলাদা আলাদা ধর্মীয় উৎসব তারা পালন করে। আবার এ দেশের মানুষের পেশাগত জীবনেও রয়েছে ভিন্নতার পরিচয়। কেউ কৃষক, কেউ কামার, কেউ কুমার, কেউ জেলে, কেউ-বা কাজ করে আফিস-আদালতে। একটি দেশের মানুষের মাঝে এত বিভিন্নতা দেখে তাই বলা হয়েছে -‘একই মানুষ অথচ কত বৈচিত্র্য।’

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

মো. ফোরকান আহমেদ

সহকারী শিক্ষক, মুনলাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ইবাদত

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : মুসাফির কাকে বলে? মুসাফিরের সালাতের বর্ণনা দাও।

অথবা, মুসাফির কে? মুসাফির ব্যক্তি কীভাবে সালাত আদায় করবে?

উত্তর : ‘মুসাফির’ শব্দের অর্থ ভ্রমণকারী অর্থাৎ শরিয়তের পরিভাষায় কোনো ব্যক্তি যদি ৪৮ মাইল বা প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নিয়ত করে বাড়ি থেকে বের হয় তাকে মুসাফির বলা হয়। মুসাফির ব্যক্তি জোহর, আসর ও এশার ফরজ সালাত চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত পড়বে। অসুবিধা থাকলে ফজরের সুন্নত ছাড়া অন্যান্য সুন্নত সালাত ছেড়ে দেয়া জায়েজ আছে। জোহর, আসর ও এশা তিন ওয়াক্তের সালাত মুসাফির অবস্থায় ইচ্ছা করে চার রাকাত পড়লে গুনাহ হবে। তবে মুকিম বা স্থানীয় ইমামের পেছনে সালাত আদায় করার সময় চার রাকাতই পড়তে হবে।

প্রশ্ন : জাকাতের নিসাব বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

অথবা, জাকাত ব্যক্তির ওপর কখন ফরজ হয়?

অথবা, কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত ফরজ হয়?

উত্তর : নিসাব মানে নির্ধারিত পরিমাণ। যদি কোনো ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনীয় খরচাদির পর এক বছর পর্যন্ত এক নিসাব বা সাড়ে সাত তোলা সোনা

অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা এর সমপরিমাণ মূল্যের অন্য সম্পদ থাকে, তাকে নিসাব পরিমাণ সম্পদ বলে। নিসাব পরিমাণ সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ জাকাত দিতে হয়। এ হিসাব প্রতি একশ টাকার জাকাত হয় আড়াই টাকা, আর প্রতি হাজারে হয় পঁচিশ টাকা। আল্লাহ ধনীদের সম্পদের মধ্যে গরিবদের জন্য একটা অংশ নির্ধারণ করে রেখেছেন।

প্রশ্ন : মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে মেনে চলতে হয় এমন পাঁচটি আদব লিখ।

উত্তর : মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে মেনে চলতে হয় এমন আদব হল-

১. পাক-পবিত্র শরীর ও পোশাক নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়।

২. পবিত্র মন ও বিনয়-বিনম্রতার সঙ্গে মসজিদে প্রবেশ করা।

৩. মসজিদে প্রবেশের সময় দোয়া পড়া।

৪. মসজিদে প্রবেশের সময় হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি না করা।

৫. মসজিদে কোনো প্রকার অপ্রয়োজনীয় কথা

ংনা বলা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×