পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

বাংলা * ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

বাংলা

  সবুজ চৌধুরী ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সহকারী শিক্ষক, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা

পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত অনুচ্ছেদের প্রশ্নোত্তর

‘এই দেশ এই মানুষ’

২. বাংলাদেশের এই যে মানুষ, তাদের পেশাও কত বিচিত্র। কেউ জেলে, কেউ কুমার, কেউ কৃষক, কেউ আবার কাজ করে অফিস-আদালতে। সবাই আমরা পাস্পরের বন্ধু। একজন তার কাজ দিয়ে আর একজনকে সাহায্য করছে। গড়ে তুলছে এই দেশ। ভাব তো কৃষকের কথা। তারা কাজ না করলে আমাদের খাদ্য যোগাত কে? সবাইকে তাই আমাদের শ্রদ্ধা করতে হবে, ভালোবাসতে হবে। সবাই আমাদের আপনজন। আমাদের আছে নানা ধরনের উৎসব। মুসলমানদের রয়েছে দুটি ঈদ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। হিন্দুদের দুর্গাপূজাসহ আছে নানা উৎসব ও পার্বণ। বৌদ্ধদের আছে বৌদ্ধ পূর্ণিমা। খ্রিস্টানদের আছে ইস্টার সানডে আর বড়দিন। এ ছাড়া রয়েছে নানা উৎসব। পহেলা বৈশাখ- নববর্ষের উৎসব। রয়েছে রাখাইনদের সাংরাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। ধর্ম যার যার, উৎসব যেন সবার।

২। ক) আমাদের দেশে কী কী উৎসব পালিত হয়?

খ) একজন তার কাজ দিয়ে কীভাবে আরেক জনকে সাহায্য করছে?

গ) ‘ধর্ম যার যার, উৎসব যেন সবার।’- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

ক) আমাদের দেশে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয়, সার্বজনীন ও ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়।

আমাদের দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে। তারা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব পালন করে। যেমন, মুসলমানরা ধর্মীয় উৎসাহ উদ্দীপনায় পালন করে দুটি ঈদ; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। হিন্দুদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা। এ ছাড়া আছে তাদের নানা উৎসব ও পার্বণ। বৌদ্ধদের আছে বৌদ্ধ পূর্ণিমা। খ্রিস্টানদের আছে ইস্টার সানডে আর বড়দিন। রাখাইনদের সাংরাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। বাঙালির সার্বজনীন উৎসব হল নববর্ষের উৎসব।

খ) একজন তার কাজ দিয়ে অন্য জনের কাক্সিক্ষত চাহিদা পূরণ করে তাকে সাহায্য করে।

আমাদের দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষ একে অপরের প্রতি পরস্পর নির্ভরশীল। একজনের উৎপাদিত দ্রব্য অন্যজনের চাহিদা মেটায়। যেমন কৃষক বছরব্যাপী পরিশ্রম দিয়ে খাদ্য উৎপাদন করে। যে খাদ্য খেয়ে অন্য সব পেশার মানুষ বেঁচে থাকে। আবার জেলে মাছ ধরে সবার আমিষের চাহিদা পূরণ করে। কামার, কুমার তৈজসপত্র তৈরি করে। সবাই যেন তার কাজ দিয়ে অন্যকে সাহায্য করছে। যা পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করছে। সবার মাঝে শৃঙ্খলিত সুসস্পর্ক বিদ্যমান। সবাই যেন সবাইকে তার কাজ দিয়ে সাহায্য করছে।

গ) ‘ধর্ম যার যার, উৎসব যেন সবার।’- লাইনটি দ্বারা বাঙালির ধর্মীয় সম্পীতির বন্ধনকে বোঝানো হয়েছে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বাস। তারা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব পালন করে। যেমন, মুসলমানরা ধর্মীয় উৎসাহ উদ্দীপনায় পালন করে দুটি ঈদ; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। হিন্দুরা পালন করে দুর্গোৎসব। এ ছাড়া আছে তাদের নানা উৎসব ও পার্বণ। বৌদ্ধদের আছে বৌদ্ধ পূর্ণিমা। খ্রিস্টানদের আছে ইস্টার সানডে আর বড়দিন। রাখাইনদের সাংরাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। বাঙালির সার্বজনীন উৎসব হল নববর্ষের উৎসব। এ উৎসবগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের হলেও এর উদ্যাপনে সার্বজনীন উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। উৎসব আয়োজন ও উদ্যাপনে সব বাঙালি যেন ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একাকার হয়ে যায়। তাই বলা হয়েছে ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন হলেও সব ধর্মের উৎসব যেন সব মানুষের।

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

মো. ফোরকান আহমেদ

সহকারী শিক্ষক, মুনলাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

২য় অধ্যায় : ইবাদত

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : পাক-পবিত্রতার গুরুত্ব কী? পাঁচ বাক্যে বর্ণনা কর।

অথবা, ইসলামে পাক-পবিত্রতার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর।

উত্তর : ইসলামে প্রতিটি কার্য সম্পাদনের আগে যে কাজটি পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয় সেটি হল, পাক-পবিত্রতা। শরীর, পোশাক এবং

স্থান, পরিবেশ পাক-সাফ ও পরিষ্কার থাকলে মনও পবিত্র থাকে। এতে মন্দ কাজের প্রতি ঘৃণাবোধ জন্মায় এবং ইবাদত-বন্দেগি ও ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে উৎসাহ পাওয়া যায়। কোরআন মজিদে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা দেন, ‘যারা পাক-সাফ থাকে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’ তাই ইসলামে পাক-পবিত্রতার গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রশ্ন : সালাত আদায় করার সময় কী কী ফরজ কাজ আদায় করতে হয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : জামাতে সালাত আদায় করার সময় নিচের ফরজ কাজগুলো (আরকান) আদায় করতে হয় :

১. তাকবিরে তাহরিমা বা আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা।

২. কিয়াম বা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা।

৩. কিরাত অর্থাৎ কোরআন মজিদের কিছু অংশ তেলাওয়াত করা।

৪. রুকু করা।

৫. সিজদাহ করা

৬. শেষ বৈঠকে বসা,

প্রশ্ন : জামাতের সঙ্গে সালাত আদায় করলে আল্লাহ কয়টি পুরস্কার দেবেন? পাঁচ বাক্যে লিখ।

উত্তর : জামাতের সঙ্গে সালাত আদায় করলে মহান আল্লাহতায়ালা বান্দাকে পাঁচটি পুরস্কার দেবেন। যথা- তার জীবিকার অভাব দূর করবেন। কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেবেন। হাশরে আমলনামা ডান হাতে দেবেন। পুলসিরাত বিজলির মতো দ্রুত পার করবেন এবং তাকে বিনা হিসাবে জান্নাত দান করবেন।

প্রশ্ন : সঠিকভাবে জাকাত দিলে কী সুফল পাওয়া যাবে?

উত্তর : সঠিকভাবে জাকাত দিলে যে সুফল পাওয়া যাবে, সেগুলো নিম্নে উপস্থাপন করা হল-

(১) সম্পদ পবিত্র ও বৃদ্ধি পাবে।

(২) সামাজিক শান্তি আসবে।

(৩) ত্যাগের মনোভাব সৃষ্টি হবে।

(৪) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

(৫) সমাজের সেবা করা হয়।

(৬) দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×