অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

বাংলা

  উজ্জ্বল কুমার সাহা ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাষক,

সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

তৈলচিত্রের ভূত

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : পিয়ারী কিছুতেই শ্রীকান্তকে শ্মশানে যেতে দেবে না। তার দৃঢ় বিশ্বাস, শ্মশানে ভূত-প্রেতের বাস। শনিবারের অমাবস্যায় শ্মশানে গেলে প্রাণ নিয়ে আর ফিরে আসা যাবে না। কিন্তু শ্রীকান্তের ভীষণ জেদ। পিয়ারীর শত অনুনয় উপেক্ষা করে বন্দুক হাতে সে ভূতের সন্ধানে শ্মশানের দিকে রওনা হয়।

ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? ১

খ. নগেন তার মামার প্রতি মিথ্যে ভক্তি দেখাত কেন? ২

গ. উদ্দীপকের পিয়ারী চরিত্রটি কোন দিক থেকে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. ‘উদ্দীপকের শ্রীকান্ত এবং পঠিত গল্পের পরাশর ডাক্তার একই চেতনার মানুষ’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তর-ক : ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উত্তর-খ : বড়লোক কৃপণ মামাকে খুশি করতে নগেন তার মামার প্রতি মিথ্যে ভক্তি দেখাত।

নগেন ছেলেবেলা থেকে মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছে। তার মামা ধনী হলেও কৃপণ স্বভাবের ছিলেন। নগেন মামার কাছ থেকে তেমন একটা আদর-ভালোবাসা পায়নি। তাই বাইরে থেকে তাকে খুশি করার জন্য অনেক শ্রদ্ধা প্রকাশ করলেও অন্তর থেকে নগেন কখনোই মামাকে শ্রদ্ধা করতে পারেনি।

উত্তর-গ : অজ্ঞতা ও কুসংস্কারতার দিক থেকে উদ্দীপকের পিয়ারী চরিত্রটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন তার মৃত মামার ছবিতে হাত দিয়ে বৈদ্যুতিক শক খেয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে তার মনে ভ্রান্ত ধারণা ছিল। তাই সে ভেবেছিল, মৃত মামার প্রেতাত্মা তাকে ভূত হয়ে ভয় দেখাচ্ছে।

উদ্দীপকের পিয়ারী দৃঢ়ভাবে ভূতে বিশ্বাস করে। সে মনে করে, শ্মশানে ভূত-প্রেত বাস করে এবং শনিবারের অমাবস্যায় শ্মশানে গেলে প্রাণ নিয়ে আর ফিরে আসা যাবে না। তাই সে শ্রীকান্তকে শ্মশানে যেতে দিতে চায় না। পিয়ারীর এ ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের ভ্রান্ত ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। অন্ধকারে মামার ছবিতে হাত দিতে গিয়ে নগেন বৈদ্যুতিক শক খেয়ে সেটাকে মামার প্রেতাত্মার কাজ মনে করে ভূতের ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে। অর্থাৎ গল্পের নগেন এবং উদ্দীপকের পিয়ারী উভয়েই ‘ভূত’ বিষয়ক কুসংস্কারে বিশ্বাস করে।

উত্তর-ঘ : ‘উদ্দীপকের শ্রীকান্ত এবং গল্পের পরাশর ডাক্তার একই চেতনার মানুষ।’- মন্তব্যটি যথার্থ।

ভয়ের মুখোমুখি হলে ভয়কে সহজে জয় করা যায়। যুক্তি দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করলে কুসংস্কার থেকে মুক্ত থাকা যায়। এসব বৈশিষ্ট্য দেখা যায় ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তার চরিত্রে। বিজ্ঞানমনস্ক পরাশর ডাক্তার যুক্তি দিয়ে বিচার করে নগেনের ভূতের ভয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করেন।

উদ্দীপকের শ্রীকান্ত নির্ভীক চরিত্রের মানুষ। ভূত-প্রেতে তার ভয় এবং বিশ্বাস কোনোটাই নেই। ফলে পিয়ারী তাকে শ্মশানে যেতে নিষেধ করলে সে তা মানেনি। বরং ভূতের ভয়কে দূরে ঠেলে সে বন্দুক নিয়ে রাতের বেলা শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অন্ধভাবে কুসংস্কারে বিশ্বাস না করার দিক থেকে শ্রীকান্ত ও গল্পের পরাশর ডাক্তার একই চেতনার মানুষ। পরাশর ডাক্তার নগেনের মুখে ভূতের গল্প শুনে ভয়ে চুপ করে থাকেননি। তিনি সাহসের সঙ্গে নগেনের মামার ছবির কাছে গিয়ে প্রকৃত সত্য বের করেছেন।

উদ্দীপকের শ্রীকান্ত এবং ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তারের কাজে ও কথায় দেখা যায় তারা মোটেও ভূত-প্রেতে বিশ্বাসী নন। অন্যের মুখে ভূতের গল্প শুনে তারা বিচলিত হননি। ফলে পরাশর ডাক্তার যুক্তি দিয়ে নগেনের ভূত-সমস্যার সমাধান করেছেন। অন্যদিকে শ্রীকান্ত ভূতের সন্ধানে নির্ভয়ে শ্মশানে যাত্রা করেছে। কুসংস্কারকে জয় করার দিক থেকে তারা একই চেতনার মানুষ।

গণিত

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×