অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  উজ্জ্বল কুমার সাহা

প্রভাষক, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

তৈলচিত্রের ভূত

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : বৈশাখ মাসের খাঁ-খাঁ দুপুরে গ্রামের বড় তেঁতুলগাছের নিচে পাতা কুড়াতে যায় আসমানী। প্রচণ্ড গরমে হঠাৎ সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ওই পথে বাড়ি ফেরা হাটুরে আমজাদ মিয়ার মাধ্যমে পুরো গ্রামে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর সঙ্গে সঙ্গে আসমানীর বাবাও ভাবেন তেঁতুলগাছের নিচে যাওয়ায় ভূতে আসমানীর এই অবস্থা করেছে। তাই মেয়ের সুস্থতার জন্য কবিরাজ ডেকে আনেন আসমানীর বাবা।

ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কত সালে? ১

খ. মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা নগেনের মনে হল কেন? ২

গ. উদ্দীপকের আসমানী ও ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের মূল বিষয় উপস্থাপনে উদ্দীপকটি সহায়ক হয়েছে কি? তোমার যৌক্তিক মতামত দাও। ৪

উত্তর-ক : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৮ সালে।

উত্তর-খ : মামার উদারতার পরিচয় পেয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা মনে হয় নগেনের।

বড়লোক কৃপণ মামার ব্যবহারে নগেন সন্তুষ্ট ছিল না। কিন্তু মামার মৃত্যুর পর সে জানতে পারে মামা তাকে অনেক টাকা উইল করে গেছেন। এ কারণে মামার প্রতি তার ভক্তি জন্মায়। তাই মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা তার মনে হয়।

উত্তর-গ : উদ্দীপকে আসমানী কুসংস্কারের শিকার ও ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন উভয়েই কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তাদের সাদৃশ্য মূলত এখানেই।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন জীবিতাবস্থায় তার মামাকে কখনই মন থেকে শ্রদ্ধা বা ভক্তি করেনি। এ কারণে তার মনে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করছিল। মামার ছবিতে হাত দেয়ার পর তার সে অপরাধবোধের শঙ্কাও বিশ্বাসে পরিণত হয়। শক খাওয়ার ফলে নগেনের মনে হয় মৃত্যুর পর মামা তার মনের আসল ব্যাপারটি টের পেয়েছেন। মামার ভূত নামক অশরীরী অস্তিত্ব তাকে ভীত করে তোলে।

উদ্দীপকে বৈশাখের দুপুর বেলা পাতা কুড়াতে যায় আসমানী। রোদের তাপ সহ্য করতে না পেরে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ওই পথ দিয়েই ফিরছিল আমজাদ মিয়া; তার মুখে শুনে সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে আসমানীকে ভূতে ধরেছে। অর্থাৎ আসমানী প্রচলিত কুসংস্কারের শিকার হয়েছে। দেখা যায়, গল্পের নগেন ও উদ্দীপকের আসমানীর সাদৃশ্য হল তারা একজন কুসংস্কারে বিশ্বাসী এবং অন্যজন কুসংস্কারের শিকার হয়েছে।

উত্তর-ঘ : উদ্দীপকে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের কিয়দাংশের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে গল্পের মূল বিষয়টি উপস্থাপনে উদ্দীপকটি সম্পূর্ণ সহায়ক হয়েছে বলে আমি মনে করি না।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের মধ্যে আমরা দুটি বিষয় লক্ষ করি- কুসংস্কারের প্রভাব ও বিজ্ঞানমনস্কতার ছাপ। একদিকে গল্পের নগেন যেমন কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে ভূতের ভয়কে সত্যি বলে মনে করেছে। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তার তার যুক্তিবোধ দিয়ে নগেনের মনের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। ফলে বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের দ্বন্দ্বে বিজ্ঞান জয়লাভ করেছে।

উদ্দীপকের আসমানীও গল্পের নগেনের মতো কুসংস্কারের শিকার। দুপুরের রোদের তাপ সহ্য করতে না পেরে সে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমজাদ মিয়া বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে না দেখে তাকে অন্য রূপ দিয়েছে। ফলে আসমানীকে কেন্দ্র করে ভূতের ভয়ের বিষয়টি সামাজিক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা কুসংস্কারের নামান্তর।

উভয় বিষয় পর্যালোচনায় বলা যায়, উদ্দীপকে শুধু কুসংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তাকে যুক্তি দিয়ে বিচার করা হয়নি। কিন্তু গল্পে কুসংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরা হলেও সেখানে যুক্তি দিয়ে সমাধান করা হয়েছে। ফলে কুসংস্কার ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে আমরা পাশাপাশি দেখতে পাই। তাই দেখা যায়, তৈলচিত্রের ভূত গল্পের মূল বিষয় উপস্থাপনে উদ্দীপকটি সম্পূর্ণ সহায়ক নয়।