পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

প্রাথমিক বিজ্ঞান * ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

প্রাথমিক বিজ্ঞান

  আফরোজা বেগম ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ

উত্তরা, ঢাকা

আমাদের জীবনে তথ্য

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন-৫ : তোমার বন্ধু জাপানে থাকে তুমি তার সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে চাও। কোন কোন উপায়ে তুমি তার সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পার? এর জন্য তোমার কী কী প্রযুক্তির দরকার হবে? লিখ।

উত্তর : তথ্য বিনিময় হল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো তথ্য বন্ধু, পরিবার এবং অন্য মানুষের সঙ্গে আদান-প্রদান করা হয়। আমি আমার জাপানের বন্ধুর সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্যের বিনিময় করতে পারি। যেমন-

* টেলিফোন বা মোবাইল ব্যবহার করে আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারি।

* তথ্য বিনিময়ের জন্য বন্ধুকে চিঠি লিখতে পারি।

* ক্যামেরার মাধ্যমে আমরা ছবি তুলে বা ভিডিও করে বন্ধুর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পারি।

* মোবাইল থেকে খুদে বার্তাই (ঝগঝ) পাঠিয়ে বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি।

* ইন্টারনেটের মাধ্যমে ই-মেইল করে বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি।

* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- ফেসবুক বা টুইটার ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্কাইপিতেও জাপানের বন্ধুর সঙ্গে তথ্যের বিনিময় করতে পারি।

সুতরাং বর্তমান যুগ হল আইসিটির যুগ। জাপানের বন্ধুর সঙ্গে তথ্যের বিনিময়ের জন্য কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ই-মেইল, মোবাইল ফোন ইত্যাদি প্রযুক্তির দরকার হবে।

আবহাওয়া জলবায়ু

প্রশ্ন : বাংলাদেশের তিনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম লিখ?

উত্তর : বাংলাদেশ ভৌগলিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ দেশ। বছরে প্রতি বছরই নানা দুর্যোগ হানা দেয় এ দেশে। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে তিনটি হল

* দাবদাহ ও শৈত্যপ্রবাহ * বন্যা ও খরা * কালবৈশাখী

প্রশ্ন : আবহাওয়া কী?

উত্তর : আবহাওয়া (Weather):

আবহাওয়া হল কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের আকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সাময়িক অবস্থা। আবহাওয়া যে কোনো সময়ই পরিবর্তন হতে পারে।

প্রশ্ন : আবহাওয়ার উপাদানগুলো কী কী?

উত্তর : আবহাওয়ার উপাদানগুলো নিচে দেয়া হল-

* তাপমাত্রা * মেঘ * আর্দ্রতা * বৃষ্টিপাত * বায়ুপ্রবাহ * বায়ুচাপ ইত্যাদি

প্রশ্ন : সাধারণত কোন সময়ে সমুদ্র থেকে স্থলভাগে বায়ু প্রবাহিত হয়?

উত্তর : সাধারণত দিনের বেলায় সমুদ্র থেকে স্থলভাগে বায়ু প্রবাহিত হয়। কারণ দিনের বেলায় স্থলভাগে বায়ুর নিুচাপ আর সমুদ্রে উচ্চচাপ থাকে। বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল অর্থাৎ সমুদ্র থেকে নিুচাপ অঞ্চল তথা স্থলভাগ প্রবাহিত হয়।

প্রশ্ন : আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কীভাবে সাহায্য করে?

উত্তর : আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস নানাভাবে সাহায্য করে। যেমন-

* কোন দিন কোন কাপড় পরব তা ঠিক করতে পারি।

* ছুটির দিনে কী করব তা ঠিক করতে পারি।

* আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী জেলেরা মাছ ধরার প্রস্তুতি নেয়।

* আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নৌযান ও আকাশ যান চলাচল করে।

এভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিদিনের কাজ কর্মকে প্রভাবিত করে।

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

মো. ফোরকান আহমেদ

সহকারী শিক্ষক

মুনলাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও

অন্যান্য নবীগণের পরিচয়

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : হজরত দাউদ (আ.)-এর ওপর কোন কিতাব নাজিল হয়?

উত্তর : হজরত দাউদ (আ.) সুবিচারক ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ। তার ওপর প্রসিদ্ধ আসমানি কিতাব যাবুর নাজিল হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, দাউদ (আ.) কে আমি যাবুর দান করেছি।

প্রশ্ন : হজরত দাউদ (আ.)-এর বীরত্বের উদাহরণ দাও।

উত্তর : হজরত দাউদ (আ.) ছিলেন অসীম সাহসী এবং অসাধারণ বীরত্বের অধিকারী। তার যুদ্ধ কৌশল ছিল অসাধারণ। তিনি বাদশাহ তালুতের সেনাপতি থাকাকালে আল্লাহদ্রোহী ও অত্যাচারী শাসক তালুতকে যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করেছিলেন।

প্রশ্ন : হজরত ঈসা (আ.)-এর মোজেজা উল্লেখ কর।

উত্তর : হজরত ঈসা (আ.) ছিলেন একজন নবী ও রাসূল। হজরত ঈসা (আ.)-এর মোজেজা হল-

* তিনি আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন।

* জন্মান্ধকে চোখের দৃষ্টিশক্তি দান করতেন।

* ধবল, শ্বেত ও কুষ্ঠ রোগীদের তিনি আল্লাহর রহমতে রোগ মুক্ত করে দিতেন।

প্রশ্ন : হজরত ঈসা (আ.) বর্তমানে কোথায় জীবিত আছেন?

উত্তর : অল্লাহ তাঁর অসীম কুদরতে হজরত ঈসা (আ.)কে জীবিত আসমানে তুলে নেন। তিনি বর্তমানে আসমানে জীবিত আছেন। শেষ জামানায় কেয়ামতের পূর্বে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে আসবেন। ৪০ বছর পৃথিবীতে অবস্থান করবেন।

প্রশ্ন : আল্লাহর হুকুমে হজরত সুলায়মান (আ.)-এর অধীনে কী কী ছিল?

উত্তর : হজরত সুলায়মান (আ.) ছিলেন হজরত দাউদ (আ.)-এর পুত্র। আল্লাহর হুকুমে হজরত সুলায়মান (আ.)-এর অধীনে ছিল- পরী, পশু-পাখি, গাছপালা ও বাতাস। আর আল্লাহর হুকুমে এসব কিছুই তার নির্দেশ মেনে চলত। আল্লাহর রহমতে যাকে যা নির্দেশ দিতেন সে তা পালন করত।

প্রশ্ন : হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের সময় আরবদের অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর : আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগের কথা। সে সমাজে, এক নাজুক পরিবেশে আলোর দিশারি মুক্তির মহাত্রাণকর্তা হিসেবে জন্ম নিলেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী, সব নবীর সেরা নবী, সব মানুষের সেরা মানুষ হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সে সময় আরব দেশের ভৌগোলিক, ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবস্থা ছিল করুণ ও শোচনীয়। সেখানে শুধু বালু আর বালু। যে দিকে চোখ যায় বালুর মহাসমুদ্র। গাছপালা নেই, নেই সবুজের সমারোহ। ছিল না কোনো বিদ্যালয় ও মক্তব। লেখাপড়ার সুব্যবস্থাও ছিল না। আরব দেশে তখন অবাধে লুটতরাজ চলত। মারামারি, ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি ও খুন খারাবি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। মানুষের মধ্যে ন্যায়নীতিবোধ বলতে কিছুই ছিল না। মদ, সুদ, জুয়াসহ অন্যান্য অপকর্ম ছিল অতি সাধারণ ব্যাপার। তাদের ব্যক্তিগত জীবনে হালাল-হারাম, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়ের কোনো বাছ-বিচার ছিল না। তারা কোনো নিয়ম-নীতির ধার ধারত না। আইনের প্রতি ছিল না কোনো শ্রদ্ধাবোধ। এহেন কোনো অপকর্ম ছিল না, যা তারা করত না। তারা ছিল শিরকে লিপ্ত। ইতিহাসে এ সময়কে বলা হয় ‘আইয়ামে জাহেলিয়া’। ‘আইয়ামে জাহেলিয়া’ মানে মূর্খতার যুগ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×