অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

বাংলা

  উজ্জ্বল কুমার সাহা ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাষক

সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

তৈলচিত্রের ভূত

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : সৃজনের মা মারা যাওয়ার পর থেকে সৃজন তার মামাবাড়িতে থাকে। তার মামা অনেক বড়লোক অথচ কৃপণ। সৃজনকে আদর-যত্ন করলেও টাকা-পয়সা দিতেন না। সৃজন তার মামাকে মনে মনে গালি দিলেও ওপরে ওপরে শ্রদ্ধা দেখাত। মামা যেন তার কাছে যমের মতো। কিন্তু সেই মামাই মৃত্যুর সময় সৃজনের নামে এক বিঘা জমি উইল করে রেখে যান।

ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাঝির ছেলে’ কী ধরনের রচনা? ১

খ. নগেন তার মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করেনি কেন? ২

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের কোন ঘটনার সাদৃশ্য আছে- ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের শিক্ষণীয় দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে’- বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তর-ক : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘মাঝির ছেলে’ একটি কিশোর উপন্যাস।

উত্তর-খ : মামার আদর-ভালোবাসা সেভাবে পায়নি বলে নগেন তার মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করেনি।

নগেন তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়াশোনা করে। তার বড়লোক মামা ছিলেন ভীষণ কৃপণ। নগেন তার আদর না পেয়েই থেকেছে এ বাড়িতে। তাই বাইরে মামাকে শ্রদ্ধা-ভক্তি দেখালেও অন্তর থেকে কোনোদিনই মামাকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করেনি।

উত্তর-গ : ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে মৃত্যুর সময় নগেনকে তার মামার টাকা দান করে যাওয়ার ঘটনার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।

উদ্দীপকে সৃজন তার মামার বাড়িতে থাকে। তার মামা অনেক বড়লোক অথচ কৃপণ। সৃজনকে মামা আদর-যত্ন করলেও টাকা-পয়সা দিতেন না। এজন্য সৃজনও মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করত না। কিন্তু মামার মৃত্যুর পর দেখা গেল সেই মামাই সৃজনের নামে এক বিঘা জমি উইল করে রেখে গেছেন।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটিতে নগেনও তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়ে। বড়লোক কৃপণ মামার অনাদরেই সে থাকে মামার বাড়িতে। বাইরে মামাকে শ্রদ্ধা-ভক্তি দেখালেও মনে মনে নগেন প্রায়ই তার মৃত্যু কামনা করে। অথচ শেষ সময়ে সেই মামাই নগেনের নামে মোটা অঙ্কের টাকা উইল করে রেখে যান। এরকম ঘটনা উদ্দীপকের সৃজনের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। আর এটিই উদ্দীপকের সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সাদৃশ্য তৈরি করে।

উত্তর-ঘ : “উদ্দীপকটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের শিক্ষণীয় দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে”- উক্তিটি যথার্থ।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন চরিত্রে নিজের মামার প্রতি মিথ্যা শ্রদ্ধা-ভক্তি দেখানোর বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। তার মামা কৃপণ প্রকৃতির ছিলেন, তিনি নগেনকে তেমন টাকা-পয়সা দিতেন না। এজন্য নগেন তার মামাকে কখনোই আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করেনি।

উদ্দীপকে সৃজনের মা মারা যাওয়ার পর থেকে সে মামার বাড়ি থাকে। তার মামা অত্যন্ত কৃপণ প্রকৃতির। তিনি সৃজনকে খুব আদর-যত্ন করতেন কিন্তু টাকা-পয়সা তেমন দিতেন না। এজন্য সে তার মামাকে মনে মনে গালি দিত। অথচ সেই মামাই মৃত্যুর সময় সৃজনের নামে এক বিঘা জমি উইল করে রেখে যান।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেনের মামাও অত্যন্ত কৃপণ ছিলেন। কৃপণতা ও মামার অনাদরের কারণে নগেন তার মামাকে কোনোদিনই আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করেনি। নগেন অবাক হয়ে যায় যখন সে জানতে পারে তার কৃপণ মামা মারা যাওয়ার আগে তাকে প্রায় নিজ ছেলেদের সমান টাকা-কড়ি দিয়ে গেছেন। তেমনি উদ্দীপকের সৃজনও তার কৃপণ মামাকে আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা না করলেও সেই মামাই মৃত্যুর সময় তার নামে এক বিঘা জমি উইল করে দেন, যা সৃজনকে রীতিমতো অবাক করে দেয়। এক্ষেত্রে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×