প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা * প্রাথমিক বিজ্ঞান

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

  মো. ফোরকান আহমেদ ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সহকারী শিক্ষক

মুনলাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও

অন্যান্য নবীগণের পরিচয়

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : নবুয়ত লাভের পর মহানবী (সা.) কী কী শিক্ষা দিলেন?

উত্তর : আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর আগের কথা। সে সমাজে এক নাজুক পরিবেশে আলোর দিশারী মুক্তির মহাত্রাণকর্তা হিসেবে জন্ম নিলেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী, সব নবীর সেরা নবী, সব মানুষের সেরা মানুষ হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আরবের সম্ভ্রান্ত কোরাইশ বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নবীজি (সা.) আল্লাহ তা’আলার হুকুমে চিরসুন্দর, শাশ্বত ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। মানুষকে যে শিক্ষা দিয়েছিলেন তা হল-

* ইবাদাত করতে হবে একমাত্র আল্লাহর,

* তিনি এক, অদ্বিতীয়, * তাঁর কোনো শরিক নেই,

* সব ধরনের পাপ ও মিথ্যার পথ পরিহার করতে হবে,

* সত্যের পথ অনুসরণ করতে হবে।

* অসহায় মানুষের সেবা করতে হবে,

* বানোয়াট দেবদেবী ও প্রতিমার কোনো ক্ষমতা নেই। এদের ভালো-মন্দ করার কোনো শক্তিই নেই,

* পৃথিবীর চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ, * তিনিই আমাদের রিজিকদাতা,

* জীবন মৃত্যু তাঁর হাতেই। কাজেই আমরা একমাত্র তাঁরই দাসত্ব করব, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, জুয়া, ব্যভিচার, প্রতারণা এ সবই পাপ।

* সত্য কথা বলতে হবে। সত্যের পথে চলতে হবে,

* ন্যায়বিচার করতে হবে। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা যাবে না, * অবৈধভাবে কারও সম্পদ হরণ করা যাবে না, * সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে হবে,

* মুসলমান সবাই পরস্পর ভাই ভাই,

* মহানবী (সা.) আরও বোঝালেন, এ জীবনই শেষ নয়। মৃত্যুর পরও আর এক জীবন রয়েছে। সে জীবন অনন্ত,

* সে জীবনে আল্লাহর নিকট সবাইকে হাজির হতে হবে। দুনিয়ার সব কাজের হিসাব দিতে হবে,

* পৃথিবীতে যারা আল্লাহ ও রাসূলের কথা মানবে, নেক কাজ করবে, তারা পরকালে মুক্তি পাবে। পাবে চিরসুখের জান্নাত,

* আর যারা আল্লাহ ও রাসূলকে (সা.) মানবে না, মন্দ ও অসৎ কাজ করবে, তারা জাহান্নামে যাবে। আর জাহান্নাম হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্টের জায়গা।

প্রাথমিক বিজ্ঞান

আফরোজা বেগম

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা

আবহাওয়া জলবায়ু

প্রশ্ন : বায়ুচাপ কী?

উত্তর : বায়ুচাপ : বায়ু তার ওজনের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের ওপর যে চাপ প্রয়োগ করে তাই বায়ুচাপ। বায়ুচাপের একক হল প্যাসকেল। বায়ুচাপ দুই প্রকার। যথা ১। বায়ুর নিম্নচাপ উষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

২। বায়ুর উচ্চচাপ সাধারণত ঠাণ্ডা এলাকায় দেখা যায়।

বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।

প্রশ্ন : কীভাবে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়?

উত্তর : নিম্নচাপ

আবহাওয়া ও জলবায়ুর অন্যতম নিয়ামক হল তাপমাত্রা ও বায়ু প্রবাহ। তাপমাত্রা বেশি হলে সেখানকার বায়ু হালকা হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। ফলে বায়ু চাপ কমে যায়। এ রকম অবস্থাকে নিম্নচাপ বলে।

নিম্নচাপ সৃষ্টি :

* দিনে স্থলভাগ জলভাগ থেকে উষ্ণ থাকে। উষ্ণ স্থলভাগ তার উপরে থাকা বাতাসের উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। বায়ু উষ্ণ হলে তা হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় ফলে ওই স্থান ফাঁকা হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।

* রাতে স্থলভাগ সমুদ্রের তুলনায় ঠাণ্ডা থাকে, তাই তখন স্থলভাগে বায়ুর উচ্চচাপ ও সমুদ্র নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।

* বাংলাদেশে বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে উত্তর-পূর্বে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। বর্ষাকাল অর্থাৎ জুন থেকে আগস্ট মাসে বাংলাদেশের স্থলভাগ বঙ্গোপসাগরের চেয়ে উষ্ণ থাকে। শীতকালে অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের স্থলভাগ বঙ্গোপসাগর থেকে শীতল থাকে। স্থলভাগ ও জলভাগের তাপমাত্রার এই বিপরীত অবস্থাই বায়ুর উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।

সুতরাং তাপমাত্রার পার্থক্যের জন্যই বায়ু হালকা হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে কেন বর্ষাকালে অধিক বৃষ্টিপাত হয়?

উত্তর : আর্দ্রতা হল বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ। বাতাসের জলীয়বাষ্পের পরিমাণ যত কমে আর্দ্রতাও তত কমে। বর্ষাকালে মাসিক গড় আর্দ্রতার পরিমাণ ও মাসিক গড় বৃষ্টিপাত অন্য মাসের তুলনায় বেশি। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে আসে। এই জলীয়বাষ্প ঠাণ্ডা বৃষ্টিপাত ঘটায়। এজন্য গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বায়ু আর্দ্র থাকে এবং প্রচুর বৃষ্টি হয়।

সুতরাং বর্ষাকালে বাতাস জলভাগের ওপর প্রবাহিত হয় বলে বাতাসে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

প্রশ্ন : কালবৈশাখী ঝড়ের কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : কালবৈশাখী : গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশে যে বড় ঝড় হয় তাই কালবৈশাখী।

ঝড়ের কারণ : বৈশাখ মাসে সাধারণত সূর্য বাংলাদেশ ও তার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের উপর খাড়াভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ অঞ্চলের বায়ু সকাল থেকে দুপুরের রোদের তাপে হালকা হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। এভাবে বিকালের দিকে এ অঞ্চলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এ সময় দেশের উত্তরে ও হিমালয়ের দিকে বায়ুর চাপ থাকে বেশি। তাই উচ্চচাপের উত্তরাঞ্চল থেকে বায়ু প্রবল বেগে দক্ষিণ দিকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয় ও কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয়। এ ঝড় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। সঞ্চারণশীল ধূসর মেঘ সোজা উপরে উঠে গিয়ে জমা হয়। পরবর্তীতে এই মেঘ ঘণীভূত হয়ে ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি, বজ্র বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি সৃষ্টি করে।

সুতরাং স্থলভাগ অত্যন্ত গরম হওয়ার ফলেই কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×