প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

গণিত * ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

গণিত

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সৈয়দ কায়েস-উর-রহমান

সহকারী শিক্ষক

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

মো. ফোরকান আহমেদ

সহকারী শিক্ষক,

মুনলাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও

অন্যান্য নবীগণের পরিচয়

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : মক্কা বিজয় ও রাসূল (সা.)-এর অপূর্ব ক্ষমার দৃষ্টান্ত বর্ণনা কর।

উত্তর : বদর যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলেও কাফিররা কিন্তু দমে গেল না। বরং বারবার তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকল। এর মধ্যে ঐতিহাসিক উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধ ছিল ভয়াবহ। কাফিরদের লক্ষ্য ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংস করা। কিন্তু আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা তিনি ইসলামকে দুনিয়ার বুকে বিজয়ী করবেন। কাফিরদের সব ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা তিনি ব্যর্থ করে দেন। দিনে দিনে মুসলমানদের শক্তি-সামর্থ্য বহুগুণে বেড়ে গেল। উহুদ পাহাড়ে যুদ্ধ সংঘটিত হলে ৭০ জন সাহাবা শাহাদৎ বরণ করেন। মহানবী (সা.)-এর পবিত্র দাঁত ভেঙে যায়। হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নবীজি (সা.) ইসলামের দাওয়াতসহ দূত পাঠালেন পৃথিবীর নানা দেশের রাজা-বাদশাহগণের কাছে। হিজরি অষ্টম সাল। দশ হাজার মুসলিম মুজাহিদ নিয়ে মহানবী (সা.) মক্কা অভিমুখে রওনা হলেন। মক্কার মুশরিকরা মুসলিম বাহিনীর বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে আর সাহস করল না। বিনা রক্তপাতে নবীজি (সা.) মক্কা বিজয় করলেন। মক্কায় ১৩টি বছর যারা নবীজি (সা.)কে অত্যাচার ও নির্যাতন করে জর্জরিত করেছিল, হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল, তাঁকে প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য করেছিল, দয়াল নবী তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করলেন না। বরং তিনি ঘোষণা করলেন- অর্থ : ‘আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই’। মহানবী (সা.) এভাবে সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন। কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানকেও ক্ষমা করে দিলেন। এই আবু সুফিয়ান উহুদ যুদ্ধে কাফেরদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এতে মহানবী (সা.)-এর দাঁত শহীদ হয়েছিল। তাঁর প্রিয় চাচা হজরত হামজা (রা.) শহীদ হয়েছিলেন। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁর কলিজা চর্বণ করেছিল। তিনি তাকেও ক্ষমা করে দিলেন এবং ক্ষমার এ এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

প্রশ্ন : বিদায় হজে মহানবী (সা.) যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর : হিজরি দশম সন। মহানবী (সা.) সবাইকে নিয়ে হজ করার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। চারদিক থেকে মুসলমানগণ একত্রিত হল আরাফাত ময়দানে। লক্ষাধিক সাহাবি নিয়ে নবীজি (সা.) কা’বা ঘরে হজ আদায় করলেন। এ সময় নবীজি (সা.) যে ভাষণ দেন ইসলামের ইতিহাসে তা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এই ভাষণে তিনি সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন-

* সব মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই।

* প্রত্যেক মুসলমানের জান-মাল পবিত্র বলে জানবে।

* অধীনস্থদের সঙ্গে সব সময় ভালো ব্যবহার করবে। তাদের ওপর কোনো অত্যাচার করবে না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তা খাওয়াবে। তোমরা যা পরবে তাদেরও তাই পরাবে। তোমরা ভুলে যেওনা যে, তারা তোমাদের মতোই মানুষ। * একের অপরাধে অপরকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

* ঋণ পরিশোধ করতে হবে।* নারীর ওপর পুরুষের যেমন অধিকার আছে, পুরুষের ওপর নারীরও সেরূপ অধিকার আছে। * সর্ব প্রকার সুদ হারাম। নবীজি বিদায় হাজের এ ভাষণে আরও অনেক মূল্যবান কথা বললেন। ভাষণ শেষে মহানবী (সা.) বললেন, বিদায়! সাথীগণ বিদায়। আল্লাহ পাক নবীজিকে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন সবার কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য। ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য। নবীজি এ কাজে পূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেন।