অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

বাংলা

  উজ্জ্বল কুমার সাহা ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাষক,

সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

তৈলচিত্রের ভূত

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : কৃষক গণি মিয়ার বড় ছেলে ফটিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। গণি মিয়া কবিরাজের কাছ থেকে পানি পড়া এনে খাওয়া এবং তাবিজ দরজায় ঝুলিয়ে রাখেন। বাড়ির সবাইকে সাবধান করে বলেন খোঁড়া কোনো প্রাণী দেখলে যেন তাড়িয়ে দেয়া হয়। তার ধারণা ডেঙ্গু জ্বর খোঁড়া প্রাণীর রূপ ধরে বাড়িতে আসে। কিন্তু গণি মিয়ার অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছোট ছেলে রবিন বাবার ধারণা ভুল প্রমাণ করতে তার বিজ্ঞান বইয়ের ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার উদাহরণ দেয়।

ক. নগেনের মামার গায়ে কীসের পাঞ্জাবি ছিল? ১

খ. নগেন তার মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে গেল কেন? ২

গ. উদ্দীপকের গণি মিয়ার ধারণাটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের যে দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে তা ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. তুমি কি মনে কর রবিন পরাশর ডাক্তারের যথার্থ প্রতিনিধি? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

উত্তর- ক : নগেনের মামার গায়ে মটকার (রেশমের মোটা কাপড়) পাঞ্জাবি ছিল।

উত্তর- খ : সারাজীবন মামাকে অশ্রদ্ধা করার আত্মগ্লানি কমাতে নগেন মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে যায়।

নগেন মনে করত তার মামা তাকে ভালোবাসেন না। কিন্তু মামার মৃত্যুর পর সে জানতে পারে মামাতো ভাইদের সমান সম্পত্তি মামা তার নামে লিখে দিয়েছেন। নগেনকে নিজের ছেলেদের মতোই ভালোবাসতেন জেনে পরলোকগত মামার জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা-ভক্তিতে তার মন ভরে ওঠে। আত্মগ্লানি দূর করতে নগেন তাই মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে যায়।

উত্তর- গ : উদ্দীপকের গণি মিয়ার ধারণাটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের ভূত বিশ্বাসের দিকটিকে ফুটিয়ে তুলেছে।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে মামার মৃত্যুর পর নগেনের মনে হয় সারাজীবন ভক্তি-শ্রদ্ধার ভান করে মামাকে ঠকিয়েছে আর তাই তৈলচিত্রে প্রণাম করে সে আত্মগ্লানি কমাতে চায় নগেন। এজন্য শ্রাদ্ধের দিন রাত্রে মামার তৈলচিত্রের পায়ের কাছে আন্দাজে স্পর্শ করলে বৈদ্যুতিক শক খেয়ে জ্ঞান হারায়। মামার অশরীরী আত্মা এ কাজ করছে বলে নগেন মনে করে।

উদ্দীপকে কৃষক গণি মিয়ার বড় ছেলে ফটিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। গণি মিয়া কবিরাজের কাছ থেকে পানি পড়া এনে ছেলেকে খাওয়ান। তাবিজ এনে দরজায় ঝুলিয়ে রাখেন, বাড়ির সকলকে বলেন খোঁড়া কোনো প্রাণী দেখলে যেন তাড়িয়ে দেয়। তার ধারণা ডেঙ্গু জ্বর খোঁড়া প্রাণীর রূপ ধরে বাড়িতে প্রবেশ করে। ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন যেমন বৈদ্যুতিক শক খেয়ে তাকে মামার অশরীরী শক্তি বা প্রেতাত্মা মনে করেছে, তেমনি উদ্দীপকের গণি মিয়াও কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে খোঁড়া প্রাণীকে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক ভেবেছেন। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের গণি মিয়ার ধারণাটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের ভূতে বিশ্বাসের দিকটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

উত্তর- ঘ : আমি মনে করি বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে রবিন পরাশর ডাক্তারের যথার্থ প্রতিনিধি।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে পরাশর ডাক্তার একজন বিজ্ঞানমনস্ক ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। নগেন বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার ঘটনাটিকে অদৃশ্য শক্তির কাজ বলে ধরে নিলে পরাশর ডাক্তার বিষয়টি যাচাই করে এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দেন।

উদ্দীপকে কৃষক গণি মিয়ার বড় ছেলে ফটিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। গণি মিয়া কবিরাজের কাছ থেকে পানি পড়া আনেন, তাবিজ এনে দরজায় ঝুলিয়ে দেন। সবাইকে বলেন কোনো খোঁড়া প্রাণী দেখলে যেন তাড়িয়ে দেয়। তার ধারণা খোঁড়া প্রাণীর রূপ ধরে ডেঙ্গু জ্বর বাড়িতে ঢোকে। কিন্তু গণি মিয়ার অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছোট ছেলে রবিন বাবার ভুল বুঝতে পারে। সে তার বিজ্ঞান বইয়ের ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার উদাহরণ দিয়ে বাবার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে বিজ্ঞানমনস্ক পরাশর ডাক্তার নগেনের ভূতের ভয়ের রহস্য উন্মোচন করে দেন। পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে নগেনের বিশ্বাস ও কুসংস্কারকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে কৃষক গণি মিয়ার অন্ধবিশ্বাস ভুল প্রমাণ করে কুসংস্কারের বিপক্ষে বিজ্ঞানের প্রমাণ দিয়েছে রবিন। একজন ডাক্তার আরেকজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র হলেও রবিনকে পরাশর ডাক্তারের যথার্থ প্রতিনিধি বলে আমার মনে হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×