প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলা * বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলা

  সবুজ চৌধুরী ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সহকারী শিক্ষক, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা

- কাজী কাদের নওয়াজ

১। নিচের কবিতাংশ পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

বাদশাহ কহেন, ‘সে দিন প্রভাতে

দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে

নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,

পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।

নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে

ধুয়ে দিল নাক কেন সে চরণ, বড় ব্যথা পাই মনে।’

উচ্ছ্বাস ভরি শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে,

কুর্ণিশ করি বাদশাহে কহেন উচ্চরবে-

‘আজ হতে চির উন্নত হলো শিক্ষাগুরুর শির

সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর।’

ক) বাদশাহ কেন মনে ব্যথা পেয়েছেন?

খ) বাদশাহ আলমগীর কীভাবে শিক্ষাগুরুর শির চির উন্নত করেছিলেন?

গ) কবিতাংশটি নিজের ভাষায় লেখ।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

১। ক) উত্তর : বাদশাহ তার পুত্রের শিক্ষকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে মনে ব্যথা পেয়েছেন।

বাদশাহ আলমগীর ছিলেন একজন মহান উদার ব্যক্তি। তিনি তার পুত্রের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের জন্য একজন শিক্ষক রেখেছিলেন। কিন্তু একদিন তিনি দেখলেন তার পুত্র শিক্ষকের পায়ে পানি ঢালছে আর শিক্ষক নিজ হাতে পা ধৌত করছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন যে, তার পুত্র নিজ হাতে শিক্ষককে পা ধুয়ে দিবে। তার সন্তান তা না করায় তিনি তার নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা সম্মন্ধে সন্ধিহান ছিলেন। আর তাই তো তিনি মনে বড় ব্যথা পেয়েছিলেন।

খ) উত্তর : বাদশাহ আলমগীর শিক্ষকের উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান করে শিক্ষাগুরুর শির চির উন্নত করেছিলেন।

দিল্লির এক মৌলবি বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে শিক্ষা প্রদান করতেন। একদিন তিনি দেখলেন তার পুত্র শিক্ষকের পায়ে পানি ঢালছে আর শিক্ষক নিজ হাতে পা ধৌত করছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন যে, তার পুত্র নিজ হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে দিবে। সে নৈতিকতার শিক্ষা যেহেতু তার পুত্র পায়নি তাই সে শিক্ষককে নিরালায় ডাকলেন। এবং শিক্ষককে যথাযথ মর্যাদা সম্পর্কে তার পুত্রের জ্ঞানলাভের অপূর্ণতা সম্পর্কে বললেন। শিক্ষক তার আদর্শ দ্বারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাতীয় আকাক্সক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলেন। তাই শিক্ষকের স্থান সবার উপরে। শিক্ষককে সে স্থানে অধিষ্ঠিত করে বাদশাহ শিক্ষাগুরুর শির চির উন্নত করেছিলেন।

গ) উত্তর : বাদশাহ আলমগীর ছিলেন একজন মহান উদার শাসক। তিনি তার পুত্রের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের জন্য একজন শিক্ষক রেখেছিলেন। কিন্তু একদিন তিনি দেখলেন, তার পুত্র শিক্ষকের পায়ে পানি ঢালছে আর শিক্ষক নিজ হাতে পা ধৌত করছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন যে, তার পুত্র নিজ হাতে শিক্ষককে পা ধুয়ে দিবে। তার সন্তান তা না করায় তিনি তার নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা সম্বন্ধে সন্দিহান ছিলেন। তাই সে শিক্ষককে নিরালায় ডাকলেন এবং শিক্ষককে যথাযথ মর্যাদা সম্পর্কে তার পুত্রের জ্ঞানলাভের অপূর্ণতা সম্পর্কে বললেন। শিক্ষকের স্থান সবার উপরে। শিক্ষককে সে স্থানে অধিষ্ঠান করে বাদশাহ শিক্ষাগুরুর শির চির উন্নত করেছিলেন।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আফরোজা বেগম

সিনিয়র শিক্ষক,

উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা

বইয়ের ভেতরের প্রতিটি অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাইন শূন্যস্থান পূরণ হিসেবে দেয়া হল

অধ্যায়-৩ : বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন

১১. বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নির্মিত আহসান মঞ্জিল ছিল বাংলার নবাবদের রাজপ্রাসাদ। আঠারো শতকে তার পুত্র শেখ মতিউল্লাহ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রাসদটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেন। ১৮৩০ সালে খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে প্রাসদটি ক্রয় করে এটিকে আবার প্রাসাদে পরিণত করেন।

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রাসাদটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রাচীন ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৮৮ সালের টর্নেডোতে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু পরে তা আবার মেরামত করা হয়। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অধ্যায়-৪ : আমাদের অর্থনীতি : কৃষি ও শিল্প

১. বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ চাষাবাদ এবং ফসল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ একটি উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চল। মোট জাতীয় অর্থনীতির শতকরা প্রায় ২০ ভাগ আসে কৃষি থেকে।

১. ধান : ভাত বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। প্রায় সব অঞ্চলের জলবায়ু ও গভীর জলাভূমি ধান চাষের উপযোগী। বাংলাদেশে প্রধানত আউশ, আমন ও বোরো এ তিন ধরনের ধান চাষ হয়।

৩. গম : শীতকালে গমের চাষ করা হয়। বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে গান উৎপাদন বেশি হয়।

৪. ডাল : ছোলা, মসুর, মটর, মুগ, মাষকলাই, অড়হড় ইত্যাদি। বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে ডাল চাষ হয়। ডাল আমদানি করা হয়।

৫. আলু : আমাদের দেশের উর্বর দোআঁশ ও বেলে মাটি আলু চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। আলু দেশের বাইরে রফতানি করা হয়।

৬. তৈলবীজ : সরিষা, বাদাম বা তিসির বীজ পেষণ করে আমরা এই তৈল পেয়ে থাকি। তৈল আমদানি করা হয়।

৭. মসলা : খাবারকে সুস্বাদু করতে আমরা খাবারে বিভিন্ন ধরনের মসলা ব্যবহার করি। মসলা আমাদনি করতে হয়।

৮. পাট : পাট হল আমাদের প্রধান অর্থকরী ফসল। বিশ্বে ভারতের পরে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয়। পাটকে ‘সোনালি আঁশ’ বলা হয়। আমাদের জলবায়ু পাট চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।

৯. চা : বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রামে চা বেশি উৎপন্ন হয়। তবে বর্তমানে দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলাতেও চা চাষ হচ্ছে। চা রফতানি করে বাংলাদেশে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

১০. তামাক : রংপুর জেলায় তামাকের চাষ বেশি হয়। তামাকের বেশিরভাগ রফতানি করা হয়। তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

১১. বস্ত্রশিল্প : এ দেশে তৈরি মসলিন কাপড় জগৎ বিখ্যাত ছিল।

১২. পোশাকশিল্প : বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক রফতানি করার মাধ্যমে। বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় লাখ লাখ নারী ও পুরুষ কাজ করে।

১৩. পাটশিল্প : কাঁচামাল হিসেবে আমরা যেমন পাট রফতানি করি, তেমনি পাটজাত পণ্যও রফতানি করি। পাটজাত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে আবার বিদেশেও রফতানি করা হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×