একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র
jugantor
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র

  আবদুল কুদ্দুস  

১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাষক, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা

যৌক্তিক বিভাগ

উদ্দীপক

রীনা ও বীনা দুই বান্ধবী। রীনা প্রথমে আনারসকে টক, মিষ্টি ও রসালো প্রভৃতি গুণে ভাগ করল এরপর সে আনারস গাছকে এর কাণ্ড, পাতা ও কাঁটার ভিত্তিতে ভাগ করে। তখন বীনা বলল, ব্যবসায়ীদেরও আমরা বর্তমানে মুনাফালোভী ও অমুনাফালোভী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি।

ক. যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মটি কী?

খ. যৌক্তিক বিভাগকে কেন মানসিক বিভাগ বলে?

গ. বীনার উক্তিতে যৌক্তিক বিভাগের কোন বিষয়টির ইঙ্গিত এসেছে?

ঘ. রীনার বিভাজনে যে দুটি বিষয় এসেছে সেগুলোর তুলনামূলক আলোচনা কর।

উত্তর : ক.

যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মটি হচ্ছে, যৌক্তিক বিভাগে সর্বদাই একটা জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের বিভাজন করতে হবে, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে নয়।

উত্তর : খ.

যৌক্তিক বিভাগকে মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়, কারণ যে শ্রেণি বা জাতিকে বিভাজন করা হয় তাকে বস্তুগতভাবে আমাদের সামনে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয় না এবং তা সম্ভবও নয়। বরং আমরা বিষয়টিকে স্পষ্ট করার জন্য এবং জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে একই সময় একটি নীতির ভিত্তিতে একাধিক শ্রেণিতে ভাগ করি। যেমন সমগ্র প্রাণী জাতিকে মেরুদণ্ডের ভিত্তিতে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীতে ভাগ করা।

উত্তর : গ.

বীনার উক্তিতে দ্বিকোটিক বিভাগের ইঙ্গিত এসেছে।

একটি জাতিকে তার অন্তর্গত বিরুদ্ধ উপজাতিতে ভাগ করার প্রক্রিয়াকে দ্বিকোটিক বিভাগ বলে। এ ধরনের বিভাগের ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তম জাতিকে মাত্র দুটি উপজাতিতে বিভক্ত করা হয়। এদের মধ্যে একটি ইতিবাচক এবং অন্যটি নেতিবাচক। বীনা ‘ব্যবসায়ী’ নামক জাতিবাচক পদটিকে মুনাফালোভী ও অমুনাফালোভী নামে বিভক্ত করে, যেখানে পদ দুটি পরস্পর বিরুদ্ধ পদ এবং একটি ইতিবাচক অপরটি নেতিবাচক। প্রাণী জাতিকে মানুষ ও অমানুষে ভাগ করা কিংবা মানুষকে সৎ ও অসৎ হিসেবে ভাগ করলে দ্বিকোটিক বিভাগ হয়।

দ্বিকোটিক শব্দটি ইংরেজি Dichotomy শব্দের প্রতিশব্দ, যা আবার গ্রিক ফরপযধ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ দুটি অংশে ভাগ করা (cutting into two parts)। ব্রিটিশ দার্শনিক ও যুক্তিবিদ জেরেমি বেনথাম দ্বিকোটিক বিভাগ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন। এর সুবিধা হল কোনো জাতি বা তার উপজাতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান না থাকলেও এ ধরনের বিভাজন করা সম্ভব। যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেখানে নির্দিষ্ট ছয়টি নিয়ম না মেনে সঠিক বিভাজন করা সম্ভব হয় না, কিন্তু দ্বিকোটিক বিভাগে নিয়ম না মেনেও সঠিকভাবে বিভাজন করা যায়। তবে এর অসুবিধা হল এই বিভাগের প্রতিটি ধাপে যে নঞর্থক পদ ব্যবহার করা হয় তা খুবই অনির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট। আবার এতে কোনো জাতির অন্তর্গত সব উপজাতি সম্পর্কেও কিছু জানা যায় না। তাই প্রকৃতপক্ষে একে কোনো বিজ্ঞানসম্মত বিভাগ বলা যায় না।

উত্তর : ঘ.

উদ্দীপকে নির্দেশিত রীনার বিভাজনে যে দুটি বিষয় এসেছে সেগুলো হল গুণগত বিভাগ ও অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি। নিচে এ দুটি অনুপপত্তির তুলনামূলক আলোচনা করা হল।

যে বিভাগে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণাবলিতে বিভক্ত করা হয় তাকে গুণগত বিভাগ বলে। এখানে রীনা প্রথমত আনারস সম্পর্কে বলেছে, এর স্বাদ, টক, মিষ্টি ও রসালো। এখানে একই আনারসের গুণ হিসেবে এর বিভিন্ন স্বাদের উল্লেখ এসেছে। যেহেতু আনারসকে গুণের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে তাই এগুলো গুণগত বিভাগ। একইভাবে এক খণ্ড কাচকে তার ঘনত্ব, স্বচ্ছতা, কাঠিন্য ইত্যাদি গুণে বিভক্ত করলে তা হবে গুণগত বিভাগ। এ ধরনের বিভাজনের জন্য কোনো নিয়মের প্রয়োজন হয় না এবং কোনো নিয়ম এতে প্রয়োগও করা যায় না।

আবার যে বিভাগে বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়, তাকে অঙ্গগত বিভাগ বলে। অর্থাৎ কোনো জাতিকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতিতে বিভাজন না করে বরং একটি বস্তু বা ব্যক্তিকে তার বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করলে তখন অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। এখানে রীনা আনারস গাছের কাণ্ড, পাতা ও কাঁটার ভিত্তিতে আনারস গাছকে ভাগ করে। আনারস গাছ একটি বিশেষ ফলের গাছের নাম। আনারস গাছকে যেভাবে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়েছে সেটি অঙ্গগত বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে যদি কোনো মানুষকে তার হাত, পা, চেহারা ইত্যাদি অঙ্গে ভাগ করা হয় তখন তা হবে অঙ্গগত বিভাগ।

যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুযায়ী বিভাজ্য পদটিকে শ্রেণিবাচক পদ হতে হবে। আবার পঞ্চম নিয়মে বলা হয়েছে, বিভাজ্য শ্রেণির নাম বিভক্ত উপশ্রেণির প্রতিটির সঙ্গে যুক্ত হবে। রীনা প্রথমবার আনারসের যে গুণের উল্লেখ করেছে সে ভিত্তিতে যদি আনারসকে ভাগ করা হয় তাহলে প্রকৃতপক্ষে কোনো শ্রেণিবাচক পদের বিভাজন হবে না। কারণ, আনারস গাছ কোনো শ্রেণিবাচক পদ নয় আর এর বিভিন্ন কাণ্ড, পাতা প্রভৃতির প্রকৃতপক্ষে কোনো বিভাজনই হয় না। তাই এটি প্রথম নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি। আবার, সেখানে বিভক্ত অংশগুলোতেও আনারসের উল্লেখ নেই। তাই এতে পঞ্চম নিয়মেরও লঙ্ঘন হয়েছে।

তবে একই ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট হলেও দুটি অনুপপত্তি সম্পূর্ণ দুধরনের। যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে এসব বিষয় সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল করতে হয়।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র

 আবদুল কুদ্দুস 
১৯ আগস্ট ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাষক, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা

যৌক্তিক বিভাগ

উদ্দীপক

রীনা ও বীনা দুই বান্ধবী। রীনা প্রথমে আনারসকে টক, মিষ্টি ও রসালো প্রভৃতি গুণে ভাগ করল এরপর সে আনারস গাছকে এর কাণ্ড, পাতা ও কাঁটার ভিত্তিতে ভাগ করে। তখন বীনা বলল, ব্যবসায়ীদেরও আমরা বর্তমানে মুনাফালোভী ও অমুনাফালোভী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি।

ক. যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মটি কী?

খ. যৌক্তিক বিভাগকে কেন মানসিক বিভাগ বলে?

গ. বীনার উক্তিতে যৌক্তিক বিভাগের কোন বিষয়টির ইঙ্গিত এসেছে?

ঘ. রীনার বিভাজনে যে দুটি বিষয় এসেছে সেগুলোর তুলনামূলক আলোচনা কর।

উত্তর : ক.

যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মটি হচ্ছে, যৌক্তিক বিভাগে সর্বদাই একটা জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের বিভাজন করতে হবে, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে নয়।

উত্তর : খ.

যৌক্তিক বিভাগকে মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়, কারণ যে শ্রেণি বা জাতিকে বিভাজন করা হয় তাকে বস্তুগতভাবে আমাদের সামনে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয় না এবং তা সম্ভবও নয়। বরং আমরা বিষয়টিকে স্পষ্ট করার জন্য এবং জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে একই সময় একটি নীতির ভিত্তিতে একাধিক শ্রেণিতে ভাগ করি। যেমন সমগ্র প্রাণী জাতিকে মেরুদণ্ডের ভিত্তিতে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীতে ভাগ করা।

উত্তর : গ.

বীনার উক্তিতে দ্বিকোটিক বিভাগের ইঙ্গিত এসেছে।

একটি জাতিকে তার অন্তর্গত বিরুদ্ধ উপজাতিতে ভাগ করার প্রক্রিয়াকে দ্বিকোটিক বিভাগ বলে। এ ধরনের বিভাগের ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তম জাতিকে মাত্র দুটি উপজাতিতে বিভক্ত করা হয়। এদের মধ্যে একটি ইতিবাচক এবং অন্যটি নেতিবাচক। বীনা ‘ব্যবসায়ী’ নামক জাতিবাচক পদটিকে মুনাফালোভী ও অমুনাফালোভী নামে বিভক্ত করে, যেখানে পদ দুটি পরস্পর বিরুদ্ধ পদ এবং একটি ইতিবাচক অপরটি নেতিবাচক। প্রাণী জাতিকে মানুষ ও অমানুষে ভাগ করা কিংবা মানুষকে সৎ ও অসৎ হিসেবে ভাগ করলে দ্বিকোটিক বিভাগ হয়।

দ্বিকোটিক শব্দটি ইংরেজি Dichotomy শব্দের প্রতিশব্দ, যা আবার গ্রিক ফরপযধ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ দুটি অংশে ভাগ করা (cutting into two parts)। ব্রিটিশ দার্শনিক ও যুক্তিবিদ জেরেমি বেনথাম দ্বিকোটিক বিভাগ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন। এর সুবিধা হল কোনো জাতি বা তার উপজাতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান না থাকলেও এ ধরনের বিভাজন করা সম্ভব। যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেখানে নির্দিষ্ট ছয়টি নিয়ম না মেনে সঠিক বিভাজন করা সম্ভব হয় না, কিন্তু দ্বিকোটিক বিভাগে নিয়ম না মেনেও সঠিকভাবে বিভাজন করা যায়। তবে এর অসুবিধা হল এই বিভাগের প্রতিটি ধাপে যে নঞর্থক পদ ব্যবহার করা হয় তা খুবই অনির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট। আবার এতে কোনো জাতির অন্তর্গত সব উপজাতি সম্পর্কেও কিছু জানা যায় না। তাই প্রকৃতপক্ষে একে কোনো বিজ্ঞানসম্মত বিভাগ বলা যায় না।

উত্তর : ঘ.

উদ্দীপকে নির্দেশিত রীনার বিভাজনে যে দুটি বিষয় এসেছে সেগুলো হল গুণগত বিভাগ ও অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি। নিচে এ দুটি অনুপপত্তির তুলনামূলক আলোচনা করা হল।

যে বিভাগে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণাবলিতে বিভক্ত করা হয় তাকে গুণগত বিভাগ বলে। এখানে রীনা প্রথমত আনারস সম্পর্কে বলেছে, এর স্বাদ, টক, মিষ্টি ও রসালো। এখানে একই আনারসের গুণ হিসেবে এর বিভিন্ন স্বাদের উল্লেখ এসেছে। যেহেতু আনারসকে গুণের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে তাই এগুলো গুণগত বিভাগ। একইভাবে এক খণ্ড কাচকে তার ঘনত্ব, স্বচ্ছতা, কাঠিন্য ইত্যাদি গুণে বিভক্ত করলে তা হবে গুণগত বিভাগ। এ ধরনের বিভাজনের জন্য কোনো নিয়মের প্রয়োজন হয় না এবং কোনো নিয়ম এতে প্রয়োগও করা যায় না।

আবার যে বিভাগে বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়, তাকে অঙ্গগত বিভাগ বলে। অর্থাৎ কোনো জাতিকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতিতে বিভাজন না করে বরং একটি বস্তু বা ব্যক্তিকে তার বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করলে তখন অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। এখানে রীনা আনারস গাছের কাণ্ড, পাতা ও কাঁটার ভিত্তিতে আনারস গাছকে ভাগ করে। আনারস গাছ একটি বিশেষ ফলের গাছের নাম। আনারস গাছকে যেভাবে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়েছে সেটি অঙ্গগত বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে যদি কোনো মানুষকে তার হাত, পা, চেহারা ইত্যাদি অঙ্গে ভাগ করা হয় তখন তা হবে অঙ্গগত বিভাগ।

যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুযায়ী বিভাজ্য পদটিকে শ্রেণিবাচক পদ হতে হবে। আবার পঞ্চম নিয়মে বলা হয়েছে, বিভাজ্য শ্রেণির নাম বিভক্ত উপশ্রেণির প্রতিটির সঙ্গে যুক্ত হবে। রীনা প্রথমবার আনারসের যে গুণের উল্লেখ করেছে সে ভিত্তিতে যদি আনারসকে ভাগ করা হয় তাহলে প্রকৃতপক্ষে কোনো শ্রেণিবাচক পদের বিভাজন হবে না। কারণ, আনারস গাছ কোনো শ্রেণিবাচক পদ নয় আর এর বিভিন্ন কাণ্ড, পাতা প্রভৃতির প্রকৃতপক্ষে কোনো বিভাজনই হয় না। তাই এটি প্রথম নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি। আবার, সেখানে বিভক্ত অংশগুলোতেও আনারসের উল্লেখ নেই। তাই এতে পঞ্চম নিয়মেরও লঙ্ঘন হয়েছে।

তবে একই ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট হলেও দুটি অনুপপত্তি সম্পূর্ণ দুধরনের। যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে এসব বিষয় সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল করতে হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন