প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলা * ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

বাংলা

  সবুজ চৌধুরী ২১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সহকারী শিক্ষক, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা

রচনা

বিজয় দিবস

ভূমিকা :

“মহান দিবস ১৬ই ডিসেম্বর

এ বিজয় বাঙালি জাতির অহংকার

সাগর সমান রক্ত করিয়া ক্ষয়

এই বাংলাকে করতে হয়েছে জয়।”

বিজয় অর্থ জয়লাভ। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি পাকিস্তানি অপশক্তিকে পারাজিত করে এ বিজয় অর্জন করেছিল। বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সুদীর্ঘ নয় মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হয়েছিল এ দিনটিতে। তাই বাঙালির জাতীয় জীবনে এ দিনটি এক গৌরবজনক ও অহংকারের দিন।

সংগ্রামের ইতিহাস : ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই বাঙালি নানাভাবে শোষিত হয়ে আসছিল। পাকিস্তানের কুচক্রী সরকার আমাদের দমনের নীলনকশা প্রণয়ন করেছিল। এদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, সভ্যতার ওপর নানাভাবে আঘাত হানছিল। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে আমাদেরকে বঞ্চিত করা হতো। এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন হয়। পাকিস্তানি অপশাসনের বিরুদ্ধে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাঙালির পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও ঘৃণা ক্রমান্বয়ে প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল। এই ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ, বিক্ষোভ থেকে বিদ্রোহ জন্ম নিলে বাঙালি হাতে অস্ত্র তুলে নেয় এবং ১৯৭১ সালে পাক হানাদারদের পরাজিত করে বিজয় অর্জন করে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ একক ভাবে জয়লাভ করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাকে সরকার গঠন করতে দেয়নি। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরের নাটক করে এদেশে গণহত্যা চালানোর নির্দেশ দান করে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ বাঙালির জীবনে এক কালরাত্রি। এ রাতে পাক হানাদার বাহিনী লাখ লাখ নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালিকে হত্যা করে। ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে এদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ :

“জয় বাংলা বাংলার জয়

হবে হবে হবে হবে নিশ্চয়,

কোটি প্রাণ একসাথে জেগেছে অন্ধরাতে

নতুন সূর্য ওঠার এইতো সময়।”

এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে সর্বাত্মক এ যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। সাধারণ বাঙালি হাতের কাছে যা কিছু পেয়েছে তাই নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। জল-স্থল-অন্তরীক্ষে সর্বক্ষেত্রে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ত্রিশ লক্ষ তাজা প্রাণ ঝরে পড়েছিল এ যুদ্ধে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জয়লাভ করে। ৯৩ হাজার সৈন্যসহ পাকিস্তানি সেনাপ্রধান নিয়াজি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমার্পণ করে। আর এরই মধ্য দিয়ে বাঙালি অর্জন করে তার কাক্সিক্ষত বিজয়।

বিজয়ের তাৎপর্য : প্রত্যেক অর্জনের পেছনেই কষ্টের ইতিহাস থাকে। আমাদের বিজয়ের পেছনেও এক সাগর রক্তপাতের বেদনার্ত ইতিহাস রয়েছে। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয় বাঙালির হৃদয়ের গভীরে অত্যন্ত শ্রদ্ধার আসন করে নিয়েছে। বিজয় দিবস যেমন বাঙালির আনন্দের দিন তেমনি অবনত চিত্তে শহিদদের স্মরণ করারও দিন।

বিজয় দিবসের করণীয় : মহান বিজয় দিবসের দিন আমাদের দেশে সরকারি ছুটি পালিত হয়। এ দিনটিকে যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালনের জন্য সরকার ও বিভিন্ন মহল থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। এ দিনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ, শহরে আলোকসজ্জা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। এ দিনে আমরা স্মৃতিসৌধে সবাই মিলে ফুল দিয়ে শহিদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানাই। সব বাঙালি যেন এক সঙ্গে বলে উঠি-

“সত্যের সাথে সুন্দরের পথে

জীবনের বিনিময়ে পেয়েছি বিজয়

এ বিজয় রাখব ধরে

কলিজার তাজা খুনে কিনেছি বিজয়

এ বিজয় রাখব ধরে।”

উপসংহার : আজ আমাদের বিজয় দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে। “জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন।” তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা যেমন বিজয় অর্জন করেছেন তেমনি বিজয়ের মান রক্ষা করার কাজটি আমাদের সবার। বিজয়ের প্রকৃত অর্থকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে এবং অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

মো. ফোরকান আহমেদ

সহকারী শিক্ষক,

মুনলাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ

ও অন্য নবীদের পরিচয়

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

৯৩. আমরা কার জীবনাদর্শ মেনে চলব? উত্তর : মহানবী (সা.)-এর

৯৪. পৃথিবীর আদি মানব কে? উত্তর : হজরত আদম (আ.)

৯৫. কে আদমকে সেজদা করল না? উত্তর : জিন আজাজীল

৯৬. আজাজীল কীসের তৈরি? উত্তর : আগুনের

৯৭. আজাজীল শয়তান হয়ে গেলে তার নাম কী হল? উত্তর : ইবলিশ

৯৮. আদম (আ.)-এর সঙ্গিনী ছিল কে? উত্তর : হজরত হাওয়া (আ.)

৯৯. আল্লাহ কেন অসন্তুষ্ট হলেন?

উত্তর : আদম ও হাওয়া (আ.) নিষিদ্ধ ফল খাওয়ায়

১০০. নূহ (আ.) কত বছর দ্বীনের দাওয়াত দেন?

উত্তর : দীর্ঘ সাড়ে নয়শ’ বছর

১০১. নূহ (আ.)-এর দাওয়াতে কতজন নারী-পুরুষ সায় দিল?

উত্তর : মাত্র আশিজন

১০২. নূহ (আ.)-এর সময়ের মহাপ্লাবন কতদিন স্থায়ী হয়েছিল?

উত্তর : ৪০ দিন

১০৩. নূহ (আ.)-এর ছেলে কে? উত্তর : কেনান

১০৪. নূহ (আ.)-এর নৌকা কোন পাহাড়ে এসে থামল? উত্তর : জুদি

১০৫. নূহ (আ.) কেমন ছিলেন? উত্তর : সত্য ও ন্যায়ে আপসহীন

১০৬. হজরত ইবরাহীম (আ.) কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর : ইরাক দেশের বাবেল শহরে এক পুরোহিত পরিবারে

১০৭. হজরত ইবরাহীম (আ.) বাল্যকাল থেকেই কিসের বিরোধী ছিলেন?

উত্তর : মূর্তিপূজার

১০৮. হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর সময় বাদশাহ কে ছিলেন? উত্তর : নমরূদ

১০৯. নমরূদ কেমন বাদশাহ ছিলেন? উত্তর : নির্মম ও অত্যাচারী বাদশাহ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×