একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. সনজিত পাল

শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

চাষার দুক্ষু

-রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন শুধু নারীদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে সাহিত্য রচনা করেননি। তিনি মেহনতী কৃষকদের অবস্থা নিয়েও সাহিত্য রচনা করেছেন। ‘চাষার দুক্ষু’- তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তৎকালিন সময়ে দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের অর্থনৈতিক বঞ্চনার মর্মন্তুদ দলিল এই প্রবন্ধ। বিজ্ঞান সভ্যতার ফলে কলকাতা কেন্দ্রিক নাগরিক জীবনের উন্নতি হলেও ভারতবর্ষের আপামর কৃষকের অবস্থা কতটা শোচনীয় তা তিনি এ প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন। অতীতের ‘গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ’- প্রবাদটি এখন আর কৃষকদের জন্য মানায় না। সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তারা নিজের পেটের ভাত জোটাতে পারে না, পরনের কাপড় জোটাতে পারে না। তাদের অবস্থা এতটাই করুণ ছিল যে, পান্না ভাত খাওয়ার জন্য লবণ পর্যন্ত জোটাতে পারেনি। কৃষকদের এরূপ অবস্থার জন্য লেখিকা সভ্যতার নামে একশ্রেণির মানুষের বিলাসিতাকে দায়ী করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন এই বিলাসিতায় আক্রান্ত হয়ে কৃষক পরিবার কিভাবে নিজেদের কুটির শিল্পকে ধ্বংস করে পরনির্ভরশীল হয়েছে। কুটির শিল্পকে ধ্বংস করে দিয়ে বাংলার আত্মনির্ভরশীল গ্রাম-সমাজকে চরম সংকটে ফেলেছে ইংরেজ শাসকরা। কৃষকের এই মুমূর্ষু অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য লেখিকা গ্রামে গ্রামে পাঠশালা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। গ্রামীণ কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার এবং আরও প্রসারিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধটি পড়ার সময় যে দিকগুলো ভালো করে খেয়াল করতে হবে-

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধটি পড়ার সময় লেখিকার অসাধারণ পাণ্ডিত্য, যুক্তিবাদী বর্ণনা ও দূরদর্শী চিন্তার বিস্ময়কর অগ্রগতির দিকে বেশি নজর দিতে হবে। লেখিকা কেন প্রবন্ধের শুরুতে সভ্যতার অগ্রগতির বর্ণনা করেছেন? কেন বাংলার কৃষক সমাজ আজ খেতে পায় না, কাপড় পরতে পায় না? কেন বাংলার সমাজ থেকে কুটির শিল্প হারিয়ে গেছে? বাংলার কুটির শিল্প ধ্বংসের পেছনে ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী কীরূপ ভূমিকা পালন করেছে? অনুকরণপ্রিয়তা কিভাবে জাতিকে পরনির্ভরশীল করে তোলে? কেন লেখিকা উড়িষ্যার কৃষকদের কথা, রংপুরের কৃষকদের কথা, আসামের মানুষের কথা তুলে ধরেছেন? এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য লেখিকা কী পরামর্শ দিয়েছেন।

অনুধাবন প্রশ্ন:

১. ভারতবাসী অসভ্য বর্বর যখন ছিল, তখন তাদের অবস্থা কেমন ছিল?

২. ‘আমাদের সভ্যতা ও ঐশ্বর্য রাখিবার স্থান নাই’- কেন বলা হয়েছে?

৩. ‘সে ডাহা নিমকহারাম’- কে এবং কেন?

৪. লেখক ধান ভানিতে শিবের গান গাইলেন কেন?

৫. ‘আল্লাহতায়ালা এত অবিচার কীরূপে সহ্য করিতেছেন’- কোন প্রসঙ্গে, কেন বলা হয়েছে?

৬. ‘ধান্য তার বসুন্ধরা যার’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৭. ‘এখন যে আমরা সভ্য হইয়াছি’- কেন বলা হয়েছে?

৮. লেখক কৃষক কন্যা জমিরনের উদাহরণ কেন দিয়েছেন?

৯. বঙ্গদেশীয় রমণীরা নিজেদের বস্ত্রের চাহিদা কীভাবে মেটাত?

১০. সভ্যতার সঙ্গে দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে লেখিকা কী বলেছেন- বর্ণনা কর।

১১. ‘কৃষক ধীরে ধীরে সর্বস্বহারা হইয়া পরিতেছে’- কীভাবে?

১২. অনুকরণ প্রিয়তাকে ভূতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?

১৩. ‘আমরা তো সুসভ্য হইয়া এন্ডি কাপড় পরিত্যাগ করিয়াছি’- ব্যাখ্যা কর।

১৪. সভ্যতা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দেশি শিল্পসমূহ ক্রমশ বিলুপ্ত হইয়াছে- কেন/ কীভাবে?

১৫. লেখিকা অধিক হারে কার্পাসের চাষ করার কথা বলেছেন কেন?

১৬. লেখিকার মতে চাষার দারিদ্র্য কীভাবে ঘুচিবে?

১৭. চাষাকে সমাজের মেরুদণ্ড বলা হয়েছে- কেন?

সৃজনশীল প্রশ্নের দিকসমূহ :

১. সভ্যতার জাগরণের মাধ্যমে কৃষকের দারিদ্র্য বৃদ্ধি।

২. কুটির শিল্পকে ধ্বংস করার মধ্যদিয়ে আত্মনির্ভরশীল গ্রাম-সমাজে চরম সংকট দেখা দেয়া।

৩. বিলাসিতা দারিদ্র্যকে ডেকে এনেছে।

৪. কৃষকের দারিদ্র্যময় অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ।

৫. গ্রামীণ কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ।

৬. দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের বঞ্চনার মর্মন্তুদ দলিল।

৭. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি হলেও কৃষক সমাজ আজও অবহেলিত, নিগৃহীত ও দুর্ভিক্ষআক্রান্ত।

৮. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতবর্ষের উন্নতি।

৯. ভোগ-বিলাসী মনোভাব/ অলসতা/ কর্মবিমুখ ত্যাগ করে হাতে কাজ তুলে নেয়ার আহ্বান।