প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : বাংলা রচনা

  সবুজ চৌধুরী ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সহকারী শিক্ষক, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা

সময়ের মূল্য

ভূমিকা : সময় অত্যন্ত দুর্লভ ঐশ্বর্য। সাধক লালন সাঁই বলেছিলেন, “সময় গেলে সাধন হবে না, দিন থাকতে দিনের সাধন কেন জানলে না।” মানব জীবনে সময়ের মূল্য অপরিসীম। কোনো মানদণ্ডে সময়ের গুরুত্বকে পরিমাপ করা যায় না। অনন্ত প্রসারিত সময়ের যাত্রাপথ। সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। তাই মানব জীবনে এই অমূল্য সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জীবনকে সার্থক করে গড়ে তুলতে হবে।

সময়ের গুরুত্ব : গ. ক. Gandhi বলেন , ‘Time is life, Life is time. Balance between life and time can help one reach the highest apex of success.’ জীবনের সব কর্মকাণ্ড যথা সময়ে সমাপ্ত করতে পারলে সফলতা সুনিশ্চিত। মানুষ তার ক্ষুদ্র জীবন পরিসরে বহন করে চলে অসংখ্য দায়িত্বভার। তাকে সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে বহুবিধ কাজ সমাপ্ত করতে হয়। জন্ম-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এ জীবনবিলাস শুধু দিন-মাস-বছরের একটা ধারাপাত মাত্র। গতিময় সে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আত্ম-প্রতিষ্ঠা করতে হয়। কথায় আছে -‘life is short but art

is long’. ক্ষণস্থায়ী এ জীবনে কাজের অন্ত নেই। তাই সময়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে।

সময়ের সদ্ব্যবহার : আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বলেছেন, “মানবজাতির প্রতি বিধাতার শ্রেষ্ঠ দান হচ্ছে মহামূল্য সময়।” এই সময়ের সদ্ব্যবহারই মানবের ভাগ্যাকাশে সফলতার অরুণোদয় ঘটায়। মানবজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ক্ষুদ্র সময়কে স্বর্ণের চেয়েও মূল্যবান ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে- ‘work while you work, play while you play, and that is the way to be happy and gay.’

ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য : পবিত্র বাইবেলে বলা হয়েছে, “এই পৃথিবীতে প্রত্যেক কাজের একটা উদ্দেশ্য, একটা কাল ও সময় আছে। জন্মাবার একটা সময় আছে, মরারও একটা সময় আছে।” সময় সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সর্বোত্তম সময় হচ্ছে ছাত্রজীবন। কর্মজীবনের পূর্ণ সফলতা নির্ভর করে ছাত্রজীবনের সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর। ‘Student life is the seed time of life.’ ছাত্রজীবনকে বলা হয় ভবিষ্যৎ রূপ ফসলের বীজ বপনের সময়, সুন্দর ও সার্থক জীবন গঠনের প্রস্তুতিপর্ব। তাই এখন থেকেই সময়ের কাজ সময়ে করতে শিখতে হবে। মনে রাখতে হবে সময়-শিক্ষার প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রই ছাত্রজীবন। উইলিয়াম শেক্সপিয়ার বলেছেন, “সময়ের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা নেই, তারাই পৃথিবীতে নিঃস্ব, বঞ্চিত ও পরমুখাপেক্ষী।” সুতরাং ছাত্রজীবন থেকেই সময় সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

পেশাগত জীবনে সময়ের মূল্য : যে কোনো পেশায় উন্নতির পূর্বশর্ত হল যথাযথ সময়জ্ঞান। যথা সময়ে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছানো, যথা সময়ে যথাযথ কাজ সম্পন্ন করা, যথা সময় কাজ উপস্থাপন করা- এ সবই পেশাগত জীবনে উন্নতিতে সহায়ক। কেউ যদি সময়কে যথার্থ ভাবে মূল্যায়ন করতে না পারে সে কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারবে না। কর্মকর্তা থেকে কর্মচারী, মালিক থেকে শ্রমিক সবার ক্ষেত্রেই সময় সচেতনতা সমান গুরুত্ব বহন করে।

বাঙালির সময়জ্ঞানের বিবর্তন : বাঙালি জাতি হিসেবে খুবই সৌখিন ও কর্মবিমুখ। স্বভাবতই আমাদের সময়জ্ঞান খুবই কম। প্রাচীনকাল থেকে গ্রামকেন্দ্রিক সমাজকাঠামো বিরাজমান থাকায় আমাদের জীবনে জটিলতা ছিল না। স্বল্প পরিশ্রমে সোনার ফসল ফলত। জীবনসংগ্রামের গতি ছিল মন্থর। মানুষের প্রচুর অলস সময় কাটত। ইংরেজদের আগমনের পর এদেশের মানুষের জীবনে প্রবল অভিঘাত লাগে। বাঙালি তখন শিল্পকেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থায় একটু একটু করে অভ্যস্থ হতে শুরু করে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতি টেউ লাগে জীবন ব্যবস্থায়। আর তখন থেকেই বাঙালি সময়ের সদ্ব্যবহার করা শিখতে শুরু করে।

সময় অবহেলার পরিণাম : কবি বলেছেন, -

“রাত্রে যদি সূর্য শোকে ঝরে অশ্রুধারা

সূর্য কভু নাহি ফেরে, ব্যর্থ হয় তারা।”

সময়ের অবহেলা মানে জীবনকে অবহেলা করা। জীবনের স্বল্পায়তনে আমরা যে পরম মূল্যবান সময় পাই তাকে যদি অলসতায় পার করি তাহলে তা চরম দুঃখের কারণ হয়ে উঠতে পারে। যে সময় একবার চলে যায় তাকে শত চেষ্টা করেও ফিরিয়ে আনা যায় না। সময়কে অবহেলায় কাটালে পরে বুকফাটা আর্তনাদ, ক্রন্দন, অনুতাপ করেও অবহেলিত সময় ফিরিয়ে আনা যাবে না। তাই সময়কে হেলায় কাটানো ঠিক নয়। যথা সময়ে যথা কার্য সম্পন্ন করতে হবে। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন বলেছেন, “যা তুমি আজ করতে পার তা কালকের জন্য ফেলে রেখো না।” কালকের বোঝা বাড়ানোর মানেই হচ্ছে সময়কে আবহেলা করা। মনে রাখতে হবে, “সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।”

উপসংহার : মহাকালের সময়স্রোতে জীবন নিতান্ত ক্ষণস্থায়ী স্বল্পদৈর্ঘ্য এক ধূমকেতু মাত্র। যার আলোকচ্ছটায় জগৎকে চমক দেয়ার ভার রয়েছে সময়ের ওপর। সময়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রই সবার দৃষ্টিগোচর হয়। তাই সময়জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জগতের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে হবে। সময়ের মূল্যবোধই দেশ, জাতি, সমাজ, রাষ্ট্রকে মেধা, মননে মহিমান্বিত করে তুলতে পারে। কবির ভাষায় -

“ঘড়ির কাঁটা ডাক দিয়েছে

ঘুম ভেঙে তুই ওঠ,

সাফল্য দেখ্ ছুটে পালাচ্ছে

দল বেঁধে তোরা ছুট।”

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×