এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয়পত্র

  নির্মল ইন্দু সরকার ১৯ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাস্টার ট্রেইনার, প্রভাষক, সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

গ. উদ্দীপকে মনিরুজ্জামান মেয়াদি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন। যে জীবন বিমাপত্র একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য খোলা হয়। মেয়াদ শেষে বিমাগ্রহীতাকে লাভসহ বিমাগ্রহীতা মারা গেলে তবে মনোনীত ব্যক্তিকে বিমাদাবি পরিশোধ করা হয়। উদ্দীপকে মনিরুজ্জামান নিজের অবর্তমানে পরিবারের কথা বিবেচনা করে ১৮ বছর মেয়াদি একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন, যা জীবন বিমাপত্রের মেয়াদি বিমার বৈশিষ্ট্য। মূলত মেয়াদি জীবন বিমাপত্র দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। সাধারণত ৫ বছর থেকে অধিক সময়ের জন্য এ বিমাপত্র গৃহীত হয়ে থাকে এবং এতে বিমা প্রিমিয়ামের পরিমাণও কম হয়। সুতরাং মনিরুজ্জামানের গৃহীত বিমাপত্রটির দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় তা মেয়াদি জীবন বিমাপত্র।

ঘ. উদ্দীপকে মনিরুজ্জামানের মৃত্যুতে তার পরিবার কর্তৃক সম্পূর্ণ বিমার টাকা দাবি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। মেয়াদি জীবন বিমাপত্রের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়দের মধ্যে বিমাকৃত ব্যক্তি মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তিকে বিমাকৃত অর্থ দেয়া হয়। তবে উক্ত মেয়াদের মধ্যে বিমাকৃত ব্যক্তি মারা না গেলে মেয়াদশেষে তাকে বিমাকৃত অর্থ প্রদান করা হয়।

উদ্দীপকে মনিরুজ্জামান নিজের অবর্তমানে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নিজের জীবনের ওপর একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। জীবন বিমাপত্রটির মেয়াদ ১৮ বছর। অর্থাৎ মনিরুজ্জামানের গৃহীত বিমাপত্রটি একটি মেয়াদি জীবন বিমাপত্র। তবে শুধু তিনটি বিমা প্রিমিয়াম কিস্তি পরিশোধ করে মনিরুজ্জামান মারা যান। মনিরুজ্জামান তার অবর্তমানে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমাপত্রটি গ্রহণ করেছিলেন। তাই তার মৃত্যুতে তার পরিবারের দ্বারা বিমাদাবি উপস্থাপন যৌক্তিক। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে বিমা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিমামূল্য পরিশোধ করবে কিনা। মেয়াদি বিমাপত্রের বিমাদাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বিমাদাবি পূরণে বাধ্য থাকে। তাই মনিরুজ্জামানের জীবন বিমাপত্রটি মেয়াদি বিমাপত্র হওয়ায় তার পরিবার বিমার সম্পূর্ণ মূল্য পাওয়ার যৌক্তিক দাবিদার।

১৬. ‘অগ্রগতি’ নামে একটি লঞ্চ পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। লঞ্চটির মালিক এর মূল্য ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বিমা করেছিলেন। তিনি বিমাদাবি পেশ করেন। বিমা প্রতিষ্ঠান দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়। বিমা প্রতিষ্ঠান উদ্ধারকৃত লঞ্চটি দাবি করায় লঞ্চ মালিক তা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তীতে তা দিতে বাধ্য হয়।

ক. বিমা কী? ১

খ. বিমাযোগ্য স্বার্থ বিমা ব্যবসায়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকের আলোকে বিমাগ্রহীতা কোন ধরনের নৌ বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরেও লঞ্চ মালিকের উদ্ধারকৃত লঞ্চ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি কি যৌক্তিক ছিল? মতামত দাও।

উত্তর-ক : বিমা হচ্ছে এক ধরনের চুক্তি, যার মাধ্যমে এক পক্ষ অপর পক্ষকে প্রতিদানের বিনিময়ে (প্রিমিয়াম) কোনো দুর্ঘটনায় ক্ষতিজনিত ঝুঁকি বহন করার অঙ্গীকার করে।

উত্তর-খ : বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার স্বার্থ থাকায় বিমা ব্যবসায়ে বিমাযোগ্য স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ। বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থকে বিমাযোগ্য স্বার্থ বলে। আইনানুযায়ী বিমা একটি বৈধ ব্যবসায়। অসুস্থ মৃতপ্রায় কোনো ব্যক্তির জীবন বা অন্যের সম্পত্তি বিমা করে বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় করা গেলে তা জুয়াখেলা হতো। কিন্তু বিমার ক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থ থাকে। এই স্বার্থকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করতেই বিমার উদ্ভব হয়।

উত্তর-গ : উদ্দীপকে বিমাগ্রহীতা মূল্যায়িত নৌ বিমাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এক্ষেত্রে বিমা চুক্তির সময় বিষয়বস্তুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়। উক্ত মূল্যের ওপর বিমাপত্র সংগ্রহ করা হয়। বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী বিমা মূল্যের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ করে থাকে। উদ্দীপকে অগ্রগতি নামের একটি লঞ্চ পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। তবে লঞ্চটি বিমা করা ছিল। সেটির মালিক এর মূল্য ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বিমা করেছিলেন। তিনি বিমাদাবি উপস্থাপন করলে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ করে। এক্ষেত্রে অগ্রগতি লঞ্চের মালিক বিমাকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। তাই বলা যায়, অগ্রগতি লঞ্চের মালিক মূল্যায়িত নৌ বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন।

উত্তর-ঘ : বিমার স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি অনুযায়ী লঞ্চ মালিকের উদ্ধার করা লঞ্চ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো অযৌক্তিক ছিল। এ নীতি অনুযায়ী বিমাগ্রহীতার দাবি (সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ) পরিশোধের পর উদ্ধার করা সম্পদের মালিকানা বিমাকারী লাভ করে। সম্পত্তি বিমার ক্ষেত্রে এ ধরনের নীতি প্রযোজ্য হয়। উদ্দীপকে অগ্রগতি নামের একটি লঞ্চ ৫০ লাখ টাকায় বিমা করা হয়। কিন্তু লঞ্চটি পদ্মা নদীদে ডুবে যায়। বিমাকারী প্রতিষ্ঠান এর সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ করে। পরবর্তীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়। সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণের ফলে অগ্রগতি লঞ্চের ওপর এর প্রকৃত মালিকের আর কোনো অধিকার নেই। এখন লঞ্চের উদ্ধার করা অংশের মালিক হয়েছে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান। তাই উদ্ধার করা লঞ্চটি হস্তান্তরে এটির মালিকের অস্বীকৃতি জানানো বিমা নীতি অনুযায়ী যৌক্তিক হয়নি।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত