বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)

কম খরচে মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা

প্রিয় ক্যাম্পাস

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তাওহীদ মামুন

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) ক্যাম্পাসের দেয়ালগুলোয় পাবেন নানা আয়োজনের পোস্টার আর শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল লেখায় সাজানো দেয়ালিকা। এসব জিনিস এই সাক্ষ্য দেয় যে, এখানকার শিক্ষার্থীরা শুধু লেখাপড়াই করে না, তারা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ব্যাপক চর্চা করে। সারা বছরই ক্যাম্পাস মেতে থাকে নানা আয়োজনে। ফটোগ্রাফি ক্লাবের একটি আয়োজন শেষ তো ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের আরেকটি আয়োজনের শুরু হয়ে যায়। সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব কিংবা প্রোগ্রামিং ক্লাবগুলো বেশ সরব থাকে ক্যাম্পাসে। আর কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের গিটার এবং তবলার টুংটাং শব্দ তো আরও মনমাতানো।

ইংরেজি বিভাগের ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবে ঢুঁ মারলে যে কেউ চমকে যাবেন। মনে হতে পারে তিনি ভুল করে কম্পিউটার ল্যাবে ঢুকে পড়েছেন। এখানে কম্পিউটার দিয়ে ইন্টার-একটিভ পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখানো হয়। ইংরেজি বিভাগের দেয়ালে চোখ পড়লে তিনি দেখবেন ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস, ঐতিহ্যের চিত্র যত্ন করে সাঁটানো আছে। ইংরেজি বিভাগ নিয়মিত ইংরেজি সাহিত্যের সেরা নাটকগুলো মঞ্চস্থ করে। আবার আইন বিভাগের একটি কক্ষে প্রবেশ করলে দেখা যাবে শিক্ষার্থীরা এমনভাবে প্রাকটিস করছেন যেন সত্যিকারের আদালত বসেছে সেখানে। একে বলা হয় মুট কোর্ট। বড় সাইজের এজলাস আছে সেখানে। এজলাসে বিচারক বসেন এবং অর্ডার অর্ডার বলে বিচার কাজের সময় শৃঙ্খলা রক্ষা করেন। সাক্ষী-সামন্ত থাকে। থাকে উকিল মোক্তার এবং বাদী-বিবাদী সবাই।

সিএসই বিভাগের ক্লাসরুমগুলো বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার ল্যাবের চেয়ে কম নয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং চর্চা করেন। শিক্ষার্থীরা জানালেন, তারা কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করেন। শিক্ষকরা তাদের এ কাজে সাহায্য করেন। প্রতি বছর দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নিয়ে প্রোগ্রামিং ক্যাম্প করে থাকে এই বিভাগটি। ওই সময়টা যেন উৎসবে রূপ নেয় পুরো ক্যাম্পাস। পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের বিভিন্ন কৌশল শেখাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন দলকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এখানে।

বিইউবিটি’র টেক্সটাইল বিভাগের নাম সবার মুখে মুখে। এর একমাত্র কারণ এই বিভাগের সমৃদ্ধ ল্যাব। ছোট-বড় প্রায় ১২টি ল্যাব রয়েছে এই একটি বিভাগে। বিশাল আকারের মেশিনগুলো সদর্পে চলছে এখানে। শিক্ষার্থীরা এখানে তুলা থেকে সুতা তৈরি করছেন। সুতা থেকে কাপড় তৈরি করছেন এবং কাপড় কেটে প্যান্ট কিংবা টি-শার্ট তৈরি করছেন। প্রতিটি স্তরে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে। ভরপুর শিখছে। কোন শিক্ষার্থীকে তাই টেক্সটাইল বিষয়ে হাতে কলমে শিখতে বাইরের কারখানায় যেতে হয় না। টেক্সটাইল বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপলায়েড সায়েন্সেস এর ডিন ড. মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ চৌধুরী দাবি করেন, বিইউবিটি’র টেক্সটাইল ল্যাবগুলো অত্যাধুনিক এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমপর্যায়ের। শিক্ষার্থীদের চাকরির ক্ষেত্রে বাস্তব শিক্ষা খুবই কাজে লাগছে। তিনি জানান, এই বিভাগ থেকে পাস করে প্রায় সব শিক্ষার্থী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন টেক্সটাইল মিলে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। অনেকে সফল উদ্যোক্তা হয়েছে। বিভাগটি টেক্সটাইল সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা, সেমিনার ও কর্মশালা করে থাকে। সেখানে টেক্সটাইল খাতের বাঘা বাঘা ইঞ্জিনিয়াররা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতার বিনিময় করেন ।

বিবিএ’র শিক্ষার্থীরা গ্রুপ ডিসকাসন করে নিয়মিত তাদের অধ্যয়নের বিষয়গুলো ঝালাই করে নেন। কখনও বা বিজনেস ক্লাবের মাধ্যমে তারা পেশাগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করেন। এই তো সেদিন তারা করল ‘হোয়াই উই ফেইল’ শীর্ষক একটি সেমিনার। বিবিএ’র শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসাইন, জাহিদ আল নোমান ও ইবনাত বশিরার সঙ্গে কথা হয় ক্যাফেটরিয়ার সামনের করিডোরে দাঁড়িয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সামনের সপ্তাহে নতুন কী আয়োজন হাজির করা যায়, এসব নিয়েই আলাপ করছিলেন তারা। শিক্ষার্থীদের এসব আয়োজনের সুবিধার্থেই ক্যাম্পাসে আছে বেশ বড় মিলনায়তন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চ থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর মহড়াটা এখানেই সেরে নেন ছাত্রছাত্রীরা।

বিইউবিটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এখানে ১১টি বিভাগে মোট ১৭টি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। বিভাগগুলো হল- ম্যানেজমেন্ট, একাউন্টিং, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, ইংরেজি, ইকোনমিকস, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই), ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত ও পরিসংখ্যান এবং আইন। সবগুলো বিভাগের শিক্ষার্থীরাই বোধ হয় নিজেদের সেরা বলে দাবি করবেন।

আন্তঃবিভাগ বিতর্ক কিংবা খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় এই শিক্ষার্থীরা অবশ্য নিয়মিত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ পান। শিক্ষার্থীদের চাকরির জন্য তৈরি হতে আরও সাহায্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার গাইগ্যান্স অফিস। একজন পরিচালক রয়েছেন শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা প্রমাণ করার কৌশলগুলো জানাতে। ফলে চাকরি কিংবা ইন্টার্নশিপ পেতে তেমন অসুবিধা হয় না।

পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষগুলোর বিখ্যাত হয়ে ওঠার পেছনে যেসব কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হল আড্ডা। সিঁড়ি, ক্যাফেটরিয়া, উন্মুক্ত ছাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে মফিজ মামার চায়ের দোকান- আপাতত এসব জায়গায় আড্ডা জমে শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার ও কনফারেন্স কমপ্লেক্স রয়েছে। তার পাশে চওড়া ফুলেল বেলকনিতেও চলে আড্ডা। শহরের কোলাহলের মাঝখানে, ইট-কাঠ-পাথরের এই ক্যাম্পাসের সঙ্গে অনেকটা মায়া জড়িয়ে থাকে। যা কখনও কখনও বিরক্তিরও কারণ হয়। সেই মায়া ছেড়ে জোরে নিঃশ্বাস নিতে হয়। নিঃশ্বাস নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরেই রয়েছে বিশাল মাঠ। যেখানে একসঙ্গে কয়েকটি দল খেলতে পারে। বিশাল সেই খেলার মাঠ এখনও পুরোপুরি খেলার উপযুক্ত হয়নি কিন্তু তাকে বরণ করে নেয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জয়েন্ট রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আজমল হোসেন জানালেন, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিইউবিটি’র পড়ালেখার মানই এর বড় শক্তির জায়গা। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এখানে প্রতিটি বিভাগের পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে। গবেষণাকে উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় জার্নাল এবং গবেষণাকে এগিয়ে নিতে রয়েছে বিইউবিটি রিসার্চ সেন্টার। রয়েছে বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসি’র সহায়তায় আইকিউএসি সেল। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্ধারিত সময়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম স্থানান্তরের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বিইউবিটি তার মধ্যে একটি।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাত্র দু’একটিতে এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠেছে। বিইউবিটিও এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি। বিইউবিটি’র প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এখনও তাদের ক্যাম্পাস-জীবন মিস করেন। তাই সাবেকেরা মিলে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তুলেছেন। যেখানে সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩ হাজারের বেশি। তারা কাজের চাপ ও কর্মব্যস্ততার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন সব সময়। তারা বলেন, অ্যালামনাই থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাইবোনদের শিক্ষাপরবর্তী জীবন গড়ার ক্ষেত্রে রয়েছে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সযত্ন সহযোগিতার হাত।

হাতে কলমে শিক্ষাদানকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়

-প্রফেসর মো. আবু সালেহ, ভাইস চ্যান্সেলর, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)

বিইউবিটি’র একাডেমিক স্লোগান হল ‘কমিটেড টু একাডেমিক এক্সিলেন্স’। এক্ষেত্রে আমরা কোনরকম ছাড় দিই না। অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, আমাদের দেশে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। আবার উচ্চশিক্ষার ব্যয়ও সাধারণের নাগালের বাইরে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কম খরচে গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষাদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) গড়ে ওঠে। আমাদের দেশের অনেক ছেলেমেয়ে বড় স্বপ্ন দেখে না বা দেখতে জানে না। আমরা চাই, ওরা বড় স্বপ্ন দেখুক এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করুক। বিইউবিটি শুধু শিক্ষাই বিতরণ করে না। শিক্ষার সঙ্গে এখানে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা এবং মননশীলতা বিকাশের জন্য গুরুত্বসহকারে সহশিক্ষা কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলাবোধ, দেশাত্মবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিক গুণাবলী ইত্যাদি জাগ্রত করার প্রচেষ্টাও চলে। এই ক্যাম্পাস ধূমপানমুক্ত ও মাদকমুক্ত। জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে এখানে যেমন কড়াকড়িভাবে নজর রাখা হয় তেমনি ধর্মবিদ্বেষকেও সহ্য করা হয় না। আর শিক্ষার্থীদের নিরন্তর উৎসাহ দেয়া হয় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য। আর এ কারণেই হাতে কলমে শিক্ষাদানকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।