সময়োপযোগী কর্মমুখী শিক্ষা কারিকুলামে অগ্রগামী : উপাচার্য
jugantor
প্রিয় ক্যাম্পাস ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি
সময়োপযোগী কর্মমুখী শিক্ষা কারিকুলামে অগ্রগামী : উপাচার্য

  তাওফিকুজ্জামান  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষতার সঙ্গে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে চলেছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। কোভিড মহামারির নেতিবাচক সময়কে বিবেচনা করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। চলতি ভর্তির ক্ষেত্রে অনার্স পর্যায়ে ৫০ ভাগ এবং মাস্টার্স পর্যায়ে ৪০ ভাগ টিউশন ফি ওয়েভার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ৪০টি বৃত্তিসহ রয়েছে আরও অনেক সুবিধা। দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে নির্মাণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের ছাত্রছাত্রী হোস্টেল।

সাভারের বিরুলিয়াতে আক্রান সড়কের পাশে আশুলিয়া মডেল টাউনে এক সবুজ øিগ্ধ পরিবেশে ঘেরা ইস্টার্নের স্থায়ী ক্যাম্পাস। ২০ বিঘা জমির ওপর আধুনিক স্থাপত্য বিন্যাসে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস। সামনে বিশাল সবুজ খেলার মাঠ। ক্যাম্পাসের চারপাশে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে বাহারি ফুল আর ফলের গাছপালা।

দেশের প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। কর্মমুখী শিক্ষা কারিকুলাম আর সময়োপযোগী মার্কেট ড্রাইভেন প্রোগ্রাম নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অগ্রগামী বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের স্নাতক কোর্সগুলো হল- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিএ, এলএলবি ও ইংলিশ এবং স্নাতকোত্তর কোর্সগুলো হল- এমবিএ, ইএমবিএ, এলএলএম ও এমএইন ইংলিশ (ইএলএল ও ইএলটি)। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে স্পোকেন ইংলিশ এবং চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সার্টিফিকেট কোর্স চালু রয়েছে। ইস্টার্নের ইইই প্রোগ্রামে আইইবি এক্রিডিটেশন রয়েছে। স্বল্প খরচে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারে।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. সহিদ আকতার হুসাইন দেশের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শিক্ষাবিদ হিসাবে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। উপাচার্যের নেতৃত্বে দেশি ও বিদেশি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা দক্ষ ও অভিজ্ঞ একদল প্রথিতযশা অধ্যাপক ও শিক্ষকবৃন্দ ইস্টার্নের শিক্ষার্থীদের হাতে আলোর মশাল তুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ক্লাসরুমের বাইরেও নানা বিষয়ে তারা শিক্ষার্থীদের নিবিড়ভাবে পারামর্শ দিয়ে থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অথবা বিভাগীয় প্রধানরা এখানে শিক্ষাদানে নিয়োজিত আছেন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন রয়েছে ইস্টার্নের টিচিং-লাইনে। শিক্ষকরা বেশিরভাগই পূর্ণকালীন, অনেকেরই পিএইচডি ডিগ্রি আছে। শিক্ষকদের আন্তরিক পরিচর্যায় শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট করছে, কর্মক্ষেত্র এবং দেশের জন্য একেকজন দক্ষ মানুষ হয়ে উঠছে।

ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস ডিজিটালাইজড। ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ ওয়েব বেজড। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় সব বই এখানে পায়। লাইব্রেরিতে পড়াশোনার জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জোন। শিক্ষার্থীরা এ লাইব্রেরি থেকে বাসায় বসে অনলাইনেও পড়াশোনা করতে পারে।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ল্যাব। এসব ল্যাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন হাতে-কলমে প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে তার সব আয়োজনই রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পুরো ক্যাম্পাসেই ইন্টারনেট ব্যবহার ফ্রি। প্রতিটি ক্লাসরুমেই আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষা-উপকরণের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে বিশ্বের ১৯টি দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতামূলক চুক্তি আছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা উন্নত দেশগুলোতে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে অথবা স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য সেখানে যেতে পারেন।

প্রতিটি ক্লাসের কার্যক্রম বছর জুড়ে বজায় থাকে বলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষার পরিবেশ খুব ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টিতে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায় অনুষদে বিজনেস কেস কম্পিটিশন, ইংরেজি বিভাগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়ে থাকে। নতুন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা হয়। ফলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে।

ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই মেধার স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। তাদের মেধার স্বীকৃতি হিসাবে ভাইস চ্যান্সেলর ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। সঙ্গে কৃতিত্বপূর্ণ রেজাল্টের জন্য ঘোষিত হয় বিভিন্ন স্তরের স্কলারশিপ।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও মেধাবী কিন্তু অতিদরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০০ ভাগ আর্থিক সহায়তা। এসব আর্থিক সহায়তার বাইরে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে- যা শিক্ষার্থী কর্মজীবনে প্রবেশ করে পরিশোধ করতে পারে। এ ছাড়া প্রতি বছর ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রদত্ত বিপুল স্কলারশিপ ফান্ড থেকে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মানের বিষয়ে আপসহীন থেকে দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট তৈরিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ব্যাপক সুনাম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ে সুনাম ও সুখ্যাতির সঙ্গে কর্মরত আছেন। গুগল ও মাইক্রোসফটসহ বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানেও ইস্টার্নের গ্রাজুয়েটরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটাতে এ ক্যাম্পাসে আছে ১৮টি ক্লাব ও ফোরাম। এগুলো হলো- কম্পিউটারিং ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরাম, আর্থ কেয়ার ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব, গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাব, জার্নালিস্ট ফোরাম, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, মুট কোর্ট সোসাইটি, সোশ্যাল বিজনেস অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ক্লাব, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি রাইটার্স ফোরাম ও ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ ক্লাব।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এদেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগও সীমিত। সে হিসাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব হচ্ছে ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা। আমরা মেধা ও শ্রম দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উন্নততর অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিশ্বের নামিদামি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সারিতে আমরা ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে নিয়ে যেতে চাই। জ্ঞান সৃষ্টি, আহরণ ও বিতরণে আমরা শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায়ও জোর দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারিকুলামেও পরিবর্তন আনছি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গাইডলাইন মেনে নতুন নতুন বিষয় আমাদের কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছি। কারণ আমরা পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করি, শুধু একপেশে গ্রন্থগত বিদ্যা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী ক্যারিয়ারিস্ট হতে পারবে না। শিক্ষার্থীরা যেন পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়, তার জন্য আমরা ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্সের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমার মনে হয় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ল্যাব বা গবেষণাগার স্থাপন করে অবদান রাখেন, তাহলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজটা আমাদের জন্য আরও সহজ হবে। ড. সহিদ আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য, আলোকিত দেশপ্রেমিক চৌকস গ্রাজুয়েট তৈরি করা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে মানবিক মূল্যবোধ শেখাই।’

প্রিয় ক্যাম্পাস ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি

সময়োপযোগী কর্মমুখী শিক্ষা কারিকুলামে অগ্রগামী : উপাচার্য

 তাওফিকুজ্জামান 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষতার সঙ্গে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে চলেছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। কোভিড মহামারির নেতিবাচক সময়কে বিবেচনা করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। চলতি ভর্তির ক্ষেত্রে অনার্স পর্যায়ে ৫০ ভাগ এবং মাস্টার্স পর্যায়ে ৪০ ভাগ টিউশন ফি ওয়েভার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ৪০টি বৃত্তিসহ রয়েছে আরও অনেক সুবিধা। দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে নির্মাণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের ছাত্রছাত্রী হোস্টেল।

সাভারের বিরুলিয়াতে আক্রান সড়কের পাশে আশুলিয়া মডেল টাউনে এক সবুজ øিগ্ধ পরিবেশে ঘেরা ইস্টার্নের স্থায়ী ক্যাম্পাস। ২০ বিঘা জমির ওপর আধুনিক স্থাপত্য বিন্যাসে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস। সামনে বিশাল সবুজ খেলার মাঠ। ক্যাম্পাসের চারপাশে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে বাহারি ফুল আর ফলের গাছপালা।

দেশের প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। কর্মমুখী শিক্ষা কারিকুলাম আর সময়োপযোগী মার্কেট ড্রাইভেন প্রোগ্রাম নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অগ্রগামী বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের স্নাতক কোর্সগুলো হল- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিএ, এলএলবি ও ইংলিশ এবং স্নাতকোত্তর কোর্সগুলো হল- এমবিএ, ইএমবিএ, এলএলএম ও এমএইন ইংলিশ (ইএলএল ও ইএলটি)। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে স্পোকেন ইংলিশ এবং চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সার্টিফিকেট কোর্স চালু রয়েছে। ইস্টার্নের ইইই প্রোগ্রামে আইইবি এক্রিডিটেশন রয়েছে। স্বল্প খরচে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারে।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. সহিদ আকতার হুসাইন দেশের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শিক্ষাবিদ হিসাবে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। উপাচার্যের নেতৃত্বে দেশি ও বিদেশি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা দক্ষ ও অভিজ্ঞ একদল প্রথিতযশা অধ্যাপক ও শিক্ষকবৃন্দ ইস্টার্নের শিক্ষার্থীদের হাতে আলোর মশাল তুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ক্লাসরুমের বাইরেও নানা বিষয়ে তারা শিক্ষার্থীদের নিবিড়ভাবে পারামর্শ দিয়ে থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অথবা বিভাগীয় প্রধানরা এখানে শিক্ষাদানে নিয়োজিত আছেন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন রয়েছে ইস্টার্নের টিচিং-লাইনে। শিক্ষকরা বেশিরভাগই পূর্ণকালীন, অনেকেরই পিএইচডি ডিগ্রি আছে। শিক্ষকদের আন্তরিক পরিচর্যায় শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট করছে, কর্মক্ষেত্র এবং দেশের জন্য একেকজন দক্ষ মানুষ হয়ে উঠছে।

ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস ডিজিটালাইজড। ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ ওয়েব বেজড। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় সব বই এখানে পায়। লাইব্রেরিতে পড়াশোনার জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জোন। শিক্ষার্থীরা এ লাইব্রেরি থেকে বাসায় বসে অনলাইনেও পড়াশোনা করতে পারে।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ল্যাব। এসব ল্যাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন হাতে-কলমে প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে তার সব আয়োজনই রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পুরো ক্যাম্পাসেই ইন্টারনেট ব্যবহার ফ্রি। প্রতিটি ক্লাসরুমেই আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষা-উপকরণের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে বিশ্বের ১৯টি দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতামূলক চুক্তি আছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা উন্নত দেশগুলোতে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে অথবা স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য সেখানে যেতে পারেন।

প্রতিটি ক্লাসের কার্যক্রম বছর জুড়ে বজায় থাকে বলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষার পরিবেশ খুব ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টিতে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায় অনুষদে বিজনেস কেস কম্পিটিশন, ইংরেজি বিভাগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়ে থাকে। নতুন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা হয়। ফলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে।

ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই মেধার স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। তাদের মেধার স্বীকৃতি হিসাবে ভাইস চ্যান্সেলর ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। সঙ্গে কৃতিত্বপূর্ণ রেজাল্টের জন্য ঘোষিত হয় বিভিন্ন স্তরের স্কলারশিপ।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও মেধাবী কিন্তু অতিদরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০০ ভাগ আর্থিক সহায়তা। এসব আর্থিক সহায়তার বাইরে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে- যা শিক্ষার্থী কর্মজীবনে প্রবেশ করে পরিশোধ করতে পারে। এ ছাড়া প্রতি বছর ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রদত্ত বিপুল স্কলারশিপ ফান্ড থেকে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মানের বিষয়ে আপসহীন থেকে দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট তৈরিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ব্যাপক সুনাম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ে সুনাম ও সুখ্যাতির সঙ্গে কর্মরত আছেন। গুগল ও মাইক্রোসফটসহ বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানেও ইস্টার্নের গ্রাজুয়েটরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটাতে এ ক্যাম্পাসে আছে ১৮টি ক্লাব ও ফোরাম। এগুলো হলো- কম্পিউটারিং ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরাম, আর্থ কেয়ার ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব, গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাব, জার্নালিস্ট ফোরাম, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, মুট কোর্ট সোসাইটি, সোশ্যাল বিজনেস অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ক্লাব, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি রাইটার্স ফোরাম ও ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ ক্লাব।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এদেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগও সীমিত। সে হিসাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব হচ্ছে ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা। আমরা মেধা ও শ্রম দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উন্নততর অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিশ্বের নামিদামি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সারিতে আমরা ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে নিয়ে যেতে চাই। জ্ঞান সৃষ্টি, আহরণ ও বিতরণে আমরা শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায়ও জোর দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারিকুলামেও পরিবর্তন আনছি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গাইডলাইন মেনে নতুন নতুন বিষয় আমাদের কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছি। কারণ আমরা পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করি, শুধু একপেশে গ্রন্থগত বিদ্যা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী ক্যারিয়ারিস্ট হতে পারবে না। শিক্ষার্থীরা যেন পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়, তার জন্য আমরা ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্সের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমার মনে হয় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ল্যাব বা গবেষণাগার স্থাপন করে অবদান রাখেন, তাহলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজটা আমাদের জন্য আরও সহজ হবে। ড. সহিদ আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য, আলোকিত দেশপ্রেমিক চৌকস গ্রাজুয়েট তৈরি করা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে মানবিক মূল্যবোধ শেখাই।’