বাংলা প্রথমপত্র * ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
jugantor
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি
বাংলা প্রথমপত্র * ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
বাংলা প্রথমপত্র

  ড. সনজিত পাল  

২২ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

রানার

- সুকান্ত ভট্টাচার্য

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

‘রানার’ কবিতার যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে :

‘রানার’ কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-কষ্টকে তুলে ধরেছেন। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য এসব শ্রমজীবী, স্বল্পবেতনভোগী ও আত্মনিবেদিত মানুষের জীবন সংগ্রাম এ কবিতার আলোচ্য বিষয়। এ কবিতাটি পড়ার সময় যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে তা তুলে ধরা হলো। রানার কেন ছুটে চলছে? রানারের ছুটে চলা বিপদ সংকুল পথের অবস্থা কেমন? কেন রানারকে রাতে ছুটতে হয়? রানার কেন লণ্ঠন হাতে রাখে? রানার কেন দুর্বার দুর্জয় গতিতে ছুটে চলে? রানার সূর্য ওঠাকে ভয় পায় কেন? কবি রানারের কোন কোন দুঃখের কথা বলেছেন? আকাশের তারারা রানারের প্রতি সহানুভূতি দেখায় কেন? পথের তৃণ কেন রানারের দুঃখ জানবে? রানারের দুঃখ কীভাবে কাটবে? কবি রানারকে কীসের শপথ করার কথা বলেছেন? রানারের স্ত্রী একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে কেন? কবি রানারকে ক্ষুধিত বলেছেন কেন? রাতের তারারা অবাক কেন? রানারের মাধ্যমে কবি কোন বার্তা দিতে চেয়েছেন? মানব সভ্যতার জাগরণে শ্রমজীবী মানুষের অবদান কতটুকু? কবিতায় রানারের ব্যক্তিজীবনের কোন কোন দিক বা মানবীয়গুণ প্রকাশ পেয়েছে?

অনুধাবন প্রশ্ন

১. রানার রাতে ঝুম্ঝুম্ ঘণ্টা বাজিয়ে ছুটছে কেন?

২. রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৩. ‘রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৪. ‘কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার’- ব্যাখ্যা কর।

৫. রানারকে দুর্বার দুর্জয় বলা হয়েছে কেন?

৬. ‘বোঝা আজ তার কাঁধে’- কীসের বোঝা এবং কেন?

৭. ‘তার জীবনের স্বপ্নের মতো পিছে সরে যায় বন’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৮. ‘অবাক রাতের তারারা, আকাশে মিটমিট করে চায়’- কেন?

৯. রানার হরিণের মতো সবেগে যায়- কেন? রানারের চলার গতিকে হরিণের গতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?

১০. ‘মাভৈঃ রানার!’- কেন বলা হয়েছে?

১১. ‘পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌঁছে দিয়েছে মেলে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১২. ‘জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১৩. রানারের প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে কেন?

১৪. ‘রাত শেষ হয়ে সূর্য উঠবে কবে?’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১৫. রানারের কাছে পৃথিবীটা কালো ধোঁয়া মনে হয় কেন?

১৬. রানার দস্যুর চেয়ে সূর্য ওঠাকে ভয় পায় কেন?

১৭. ‘এর জীবনের দুঃখ কেবল জানবে পথের তৃণ’- কেন বলা হয়েছে?

১৮. ‘এর কথা ঢাকা পড়ে থাকবেই কালো রাত্রির খামে’- ব্যাখ্যা কর।

১৯. ‘দরদে তারার চোখ কাঁপে মিটিমিটি’- ব্যাখ্যা কর।

২০. ভোরের আকাশ রানারকে সহানুভূতির চিঠি পাঠাবে কেন?

২১. ‘কী হবে এ বোঝা বয়ে?’/‘কী হবে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে?’- কেন বলা হয়েছে?

২২. ‘ভোর তো হয়েছে...এই দুঃখের কাল’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৩. ‘আলোর স্পর্শে কবে কেটে যাবে এ দুঃখের কাল?’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৪. ‘সময় হয়েছে নতুন খবর আনার’- ব্যাখ্যা কর।

২৫. ‘শপথের চিঠি...পিছনে ফেলে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৬. ‘পৌঁছে দাও ... অগ্রগতির মেলে’- ব্যাখ্যা কর।

২৭. ‘দেখা দেবে ...দেরি নেই আর’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৮. রানারের গতিকে দুর্দম বলা হয়েছে কেন?

সৃজনশীল প্রশ্নের দিকগুলো

১. রাতের অন্ধকার প্রতিকূল পরিবেশে রানারের ছুটে চলা।

২. রানারের দায়িত্বশীল, সময়ানুবর্তী, নির্লোভ মানসিকতা।

৩. শ্রমজীবী সংগ্রামী মানুষের দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা।

৪. সভ্যতার বিকাশ ও আধুনিকায়নে শ্রমজীবীদের অবদান।

৫. রানারের প্রতি রাতের তারা, পথের তৃণ ও ভোরের আকাশের সহনুভূতি।

৬. রানারের জীবন স্বপ্ন অপূর্ণ থাকা/জীবন থেকে স্বপ্ন চলে যাওয়া।

৭. নিজের জীবনের শ্রমকে অল্পদামে সরকারের কাছে বিক্রি করা।/ স্বল্পমূল্যের ক্রীতদাসের জীবন।

৮. জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখা।/ সুখের আশা করা।

৯. জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের সম্পদ রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ।

১০. আপনজনদের মনের অবস্থা।/ প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা।

মূলদিক : শ্রমজীবী মানুষের জীবন সংগ্রাম ও আগামীর সুখ স্বপ্নদেখা।

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

মো. মুজাম্মেল হক

সিনিয়র শিক্ষক

মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

শরিয়তের উৎস

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

৩২. ‘নিয়তের ওপরই কাজের সফলতা নির্ভর করে’- বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : ‘নিয়তের ওপরই কাজের সফলতা নির্ভর করে’- বলতে বোঝায়, মানুষের সব কাজ নিয়তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

মানুষের প্রতিটি কাজের পেছনে কোনো না কোনো উদ্দেশ্য থাকে। বিনা উদ্দেশ্যে কেউ কোনো কাজ করে না। কাজের সফলতা নিয়তের ওপর নির্ভর করে। নিয়ত সৎ হলে কাজে সুফল পাওয়া যায়। নিয়ত ভালো না হলে কাজের মাধ্যমে কল্যাণ লাভ করা যায় না। কাজেই সফলতার জন্য নিয়ত সঠিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

৩৩. প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা এসে কী বলেন?

হাদিসের আলোকে বুঝিয়ে দাও?

উত্তর : প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা দানকারীদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকে।

হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, বান্দারা প্রতিদিন সকালে উপনীত হলেই দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। এদের একজন বলেন, হে আল্লাহ দানকারীকে তুমি তার প্রতিদান দাও। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ সম্পদ আটককারীকে (কৃপণকে) ক্ষতিগ্রস্ত কর।

(বুখারি ও মুসলিম)

৩৪. ‘বৃক্ষরোপণ পুণ্যের কাজ’- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : বৃক্ষরোপণ করা ইসলামে একটি মহৎ কাজ। মহানবী (সা.) আমাদের বৃক্ষরোপণ ও কৃষিকাজ সম্পর্কে উৎসাহ প্রদান করেছেন।

বৃক্ষরোপণ মানবজীবনের জন্য খুবই প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হয়। পরিবেশ সংরক্ষিত হয়। মানুষের উৎপাদিত ফল, ফসলে পশু পাখি ও অন্য মানুষের হক রয়েছে। তাই মানুষের উৎপাদিত ফল ফসল থেকে কোনো প্রাণী কিছু ভক্ষণ করলে তা বিনষ্ট হয় না। বরং তা সদকা হিসাবে আবাদকারীর আমলনামায় লেখা হয়। এজন্য বৃক্ষরোপণকে পুণ্যের কাজ বলা হয়েছে।

৩৫. সর্বোত্তম মানুষ কারা?

উত্তর : যাদের দেখলে আল্লাহতায়ালার স্মরণ হয় তারা সর্বোত্তম মানুষ।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বোত্তম মানুষদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। বস্তুত সর্বোত্তম মানুষ হলেন তারা, যাদের দেখলে আল্লাহতায়ালার কথা স্মরণ হয়। ওইসব ব্যক্তি চাল চলন আচার ব্যবহার পোশাক পরিচ্ছদে ইসলামের একান্ত অনুসারী। তারা সদাসর্বদা আল্লাহতায়ালার জিকর ও প্রশংসায় লিপ্ত থাকেন। এরূপ লোকদের দেখলেই আল্লাহর স্মরণ এসে যায়। মানুষের মধ্যে এসব লোকই সর্বোত্তম।

৩৬. সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : আল্লাহর সৃষ্ট জীবের প্রতি ভালো আচরণই সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ। সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ মানে আল্লাহর সৃষ্টি সবকিছুর প্রতি অনুগ্রহ থাকতে হবে। আল্লাহতায়ালা সব কিছুর স্রষ্টা। আশরাফুল মাখলুকাত মানুষ যেমন তার সৃষ্টি তেমনি কীটপতঙ্গও তাঁর সৃষ্টি। তাই মানুষের প্রতি যেমন সদর আচরণ করতে হবে তেমনি অন্য সব সৃষ্টির প্রতিও সদয় হতে হবে। এটিই সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ।

৩৭. কিয়ামতের দিন বিস্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী শহিদদের সঙ্গে একত্রে থাকার কারণ কী?

উত্তর : ব্যবসায় বাণিজ্য একটি পবিত্র পেশা। আমাদের প্রিয়নবী (সা.)ও ব্যবসা করেছেন। সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী দুনিয়া ও আখিরাতে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী।

বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন শহিদের সঙ্গে থাকবেন। কেননা তাদের প্রতিনিয়ত নিজেদের সঙ্গে জিহাদ করে সৎভাবে ব্যবসা করতে হয়েছে। তারা পণ্য নকল করতে পারতেন। খারাপ পণ্য ভালো পণ্য হিসাবে চালিয়ে দিয়ে বেশি লাভ করতে পারতেন। ওজনে কম দিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু তারা সব প্রলোভবন ও মোহ থেকে মুক্ত হয়ে কুপ্রবৃত্তির সঙ্গে জিহাদ করে হালাল পথে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। এ কারণেই কিয়ামতের দিন বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ীরা শহিদদের সঙ্গে থাকবেন।

৩৮.‘শরিয়ত সংক্রান্ত বিষয়ে ইজমা একটি অকাট্য দলিল’- ব্যাখা কর।

উত্তর : শরিয়তের তৃতীয় উৎস হলো ইজমা। শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের পুণ্যবান মুজতাহিদগণের ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়।

ইজমা যে শরিয়তের একটি দলিল ও উৎস এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, মুসলিমরা যা ভালো মনে করে তা আল্লাহর কাছে ভালো। তিনি আরও বলেছেন আমার উম্মত কোনো ভ্রান্ত বিষয়ে একমত হবে না। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, ইজমা শরিয়তের একটি অকাট্য দলিল। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

৩৯. কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াস। ইসলামী শরিয়তের পূর্ণাঙ্গতার জন্য কিয়ামতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মানবজীবন ও সমাজ সতত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় জগতে নতুন নতুন সভ্যতা সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটে। ফলে নতুন নতুন জিজ্ঞাসা সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য কুরআন ও হাদিসের বিজ্ঞানসম্মত যে পদ্ধতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাই কিয়াস। এ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমেই শরিয়ত পরিপূর্ণ হয়। তাই কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক।

৪০. হারাম বর্জনীয় কেন?

উত্তর : মহান আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নিষিদ্ধ এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় হারাম বর্জনীয়। হারাম দ্রব্য আমাদের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা বর্জনীয়। আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য যা কিছু অকল্যাণকর তাই হারাম ঘোষণা করেছেন। হারাম খাদ্য গ্রহণের ফলে অন্যায় অশ্লীলতা ও অসৎ চরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মানবচরিত্রের সৎগুণাবলি নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ ইবাদতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই বলা যায় হারাম দ্রব্য আমাদের দেহ, মন ও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা বর্জনীয়।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

বাংলা প্রথমপত্র * ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

বাংলা প্রথমপত্র
 ড. সনজিত পাল 
২২ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

রানার

- সুকান্ত ভট্টাচার্য

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

‘রানার’ কবিতার যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে :

‘রানার’ কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-কষ্টকে তুলে ধরেছেন। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য এসব শ্রমজীবী, স্বল্পবেতনভোগী ও আত্মনিবেদিত মানুষের জীবন সংগ্রাম এ কবিতার আলোচ্য বিষয়। এ কবিতাটি পড়ার সময় যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে তা তুলে ধরা হলো। রানার কেন ছুটে চলছে? রানারের ছুটে চলা বিপদ সংকুল পথের অবস্থা কেমন? কেন রানারকে রাতে ছুটতে হয়? রানার কেন লণ্ঠন হাতে রাখে? রানার কেন দুর্বার দুর্জয় গতিতে ছুটে চলে? রানার সূর্য ওঠাকে ভয় পায় কেন? কবি রানারের কোন কোন দুঃখের কথা বলেছেন? আকাশের তারারা রানারের প্রতি সহানুভূতি দেখায় কেন? পথের তৃণ কেন রানারের দুঃখ জানবে? রানারের দুঃখ কীভাবে কাটবে? কবি রানারকে কীসের শপথ করার কথা বলেছেন? রানারের স্ত্রী একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে কেন? কবি রানারকে ক্ষুধিত বলেছেন কেন? রাতের তারারা অবাক কেন? রানারের মাধ্যমে কবি কোন বার্তা দিতে চেয়েছেন? মানব সভ্যতার জাগরণে শ্রমজীবী মানুষের অবদান কতটুকু? কবিতায় রানারের ব্যক্তিজীবনের কোন কোন দিক বা মানবীয়গুণ প্রকাশ পেয়েছে?

অনুধাবন প্রশ্ন

১. রানার রাতে ঝুম্ঝুম্ ঘণ্টা বাজিয়ে ছুটছে কেন?

২. রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৩. ‘রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৪. ‘কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার’- ব্যাখ্যা কর।

৫. রানারকে দুর্বার দুর্জয় বলা হয়েছে কেন?

৬. ‘বোঝা আজ তার কাঁধে’- কীসের বোঝা এবং কেন?

৭. ‘তার জীবনের স্বপ্নের মতো পিছে সরে যায় বন’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৮. ‘অবাক রাতের তারারা, আকাশে মিটমিট করে চায়’- কেন?

৯. রানার হরিণের মতো সবেগে যায়- কেন? রানারের চলার গতিকে হরিণের গতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?

১০. ‘মাভৈঃ রানার!’- কেন বলা হয়েছে?

১১. ‘পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌঁছে দিয়েছে মেলে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১২. ‘জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১৩. রানারের প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে কেন?

১৪. ‘রাত শেষ হয়ে সূর্য উঠবে কবে?’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১৫. রানারের কাছে পৃথিবীটা কালো ধোঁয়া মনে হয় কেন?

১৬. রানার দস্যুর চেয়ে সূর্য ওঠাকে ভয় পায় কেন?

১৭. ‘এর জীবনের দুঃখ কেবল জানবে পথের তৃণ’- কেন বলা হয়েছে?

১৮. ‘এর কথা ঢাকা পড়ে থাকবেই কালো রাত্রির খামে’- ব্যাখ্যা কর।

১৯. ‘দরদে তারার চোখ কাঁপে মিটিমিটি’- ব্যাখ্যা কর।

২০. ভোরের আকাশ রানারকে সহানুভূতির চিঠি পাঠাবে কেন?

২১. ‘কী হবে এ বোঝা বয়ে?’/‘কী হবে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে?’- কেন বলা হয়েছে?

২২. ‘ভোর তো হয়েছে...এই দুঃখের কাল’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৩. ‘আলোর স্পর্শে কবে কেটে যাবে এ দুঃখের কাল?’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৪. ‘সময় হয়েছে নতুন খবর আনার’- ব্যাখ্যা কর।

২৫. ‘শপথের চিঠি...পিছনে ফেলে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৬. ‘পৌঁছে দাও ... অগ্রগতির মেলে’- ব্যাখ্যা কর।

২৭. ‘দেখা দেবে ...দেরি নেই আর’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৮. রানারের গতিকে দুর্দম বলা হয়েছে কেন?

সৃজনশীল প্রশ্নের দিকগুলো

১. রাতের অন্ধকার প্রতিকূল পরিবেশে রানারের ছুটে চলা।

২. রানারের দায়িত্বশীল, সময়ানুবর্তী, নির্লোভ মানসিকতা।

৩. শ্রমজীবী সংগ্রামী মানুষের দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা।

৪. সভ্যতার বিকাশ ও আধুনিকায়নে শ্রমজীবীদের অবদান।

৫. রানারের প্রতি রাতের তারা, পথের তৃণ ও ভোরের আকাশের সহনুভূতি।

৬. রানারের জীবন স্বপ্ন অপূর্ণ থাকা/জীবন থেকে স্বপ্ন চলে যাওয়া।

৭. নিজের জীবনের শ্রমকে অল্পদামে সরকারের কাছে বিক্রি করা।/ স্বল্পমূল্যের ক্রীতদাসের জীবন।

৮. জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখা।/ সুখের আশা করা।

৯. জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের সম্পদ রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ।

১০. আপনজনদের মনের অবস্থা।/ প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা।

মূলদিক : শ্রমজীবী মানুষের জীবন সংগ্রাম ও আগামীর সুখ স্বপ্নদেখা।

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

মো. মুজাম্মেল হক

সিনিয়র শিক্ষক

মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

শরিয়তের উৎস

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

৩২. ‘নিয়তের ওপরই কাজের সফলতা নির্ভর করে’- বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : ‘নিয়তের ওপরই কাজের সফলতা নির্ভর করে’- বলতে বোঝায়, মানুষের সব কাজ নিয়তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

মানুষের প্রতিটি কাজের পেছনে কোনো না কোনো উদ্দেশ্য থাকে। বিনা উদ্দেশ্যে কেউ কোনো কাজ করে না। কাজের সফলতা নিয়তের ওপর নির্ভর করে। নিয়ত সৎ হলে কাজে সুফল পাওয়া যায়। নিয়ত ভালো না হলে কাজের মাধ্যমে কল্যাণ লাভ করা যায় না। কাজেই সফলতার জন্য নিয়ত সঠিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

৩৩. প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা এসে কী বলেন?

হাদিসের আলোকে বুঝিয়ে দাও?

উত্তর : প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা দানকারীদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকে।

হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, বান্দারা প্রতিদিন সকালে উপনীত হলেই দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। এদের একজন বলেন, হে আল্লাহ দানকারীকে তুমি তার প্রতিদান দাও। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ সম্পদ আটককারীকে (কৃপণকে) ক্ষতিগ্রস্ত কর।

(বুখারি ও মুসলিম)

৩৪. ‘বৃক্ষরোপণ পুণ্যের কাজ’- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : বৃক্ষরোপণ করা ইসলামে একটি মহৎ কাজ। মহানবী (সা.) আমাদের বৃক্ষরোপণ ও কৃষিকাজ সম্পর্কে উৎসাহ প্রদান করেছেন।

বৃক্ষরোপণ মানবজীবনের জন্য খুবই প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হয়। পরিবেশ সংরক্ষিত হয়। মানুষের উৎপাদিত ফল, ফসলে পশু পাখি ও অন্য মানুষের হক রয়েছে। তাই মানুষের উৎপাদিত ফল ফসল থেকে কোনো প্রাণী কিছু ভক্ষণ করলে তা বিনষ্ট হয় না। বরং তা সদকা হিসাবে আবাদকারীর আমলনামায় লেখা হয়। এজন্য বৃক্ষরোপণকে পুণ্যের কাজ বলা হয়েছে।

৩৫. সর্বোত্তম মানুষ কারা?

উত্তর : যাদের দেখলে আল্লাহতায়ালার স্মরণ হয় তারা সর্বোত্তম মানুষ।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বোত্তম মানুষদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। বস্তুত সর্বোত্তম মানুষ হলেন তারা, যাদের দেখলে আল্লাহতায়ালার কথা স্মরণ হয়। ওইসব ব্যক্তি চাল চলন আচার ব্যবহার পোশাক পরিচ্ছদে ইসলামের একান্ত অনুসারী। তারা সদাসর্বদা আল্লাহতায়ালার জিকর ও প্রশংসায় লিপ্ত থাকেন। এরূপ লোকদের দেখলেই আল্লাহর স্মরণ এসে যায়। মানুষের মধ্যে এসব লোকই সর্বোত্তম।

৩৬. সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : আল্লাহর সৃষ্ট জীবের প্রতি ভালো আচরণই সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ। সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ মানে আল্লাহর সৃষ্টি সবকিছুর প্রতি অনুগ্রহ থাকতে হবে। আল্লাহতায়ালা সব কিছুর স্রষ্টা। আশরাফুল মাখলুকাত মানুষ যেমন তার সৃষ্টি তেমনি কীটপতঙ্গও তাঁর সৃষ্টি। তাই মানুষের প্রতি যেমন সদর আচরণ করতে হবে তেমনি অন্য সব সৃষ্টির প্রতিও সদয় হতে হবে। এটিই সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ।

৩৭. কিয়ামতের দিন বিস্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী শহিদদের সঙ্গে একত্রে থাকার কারণ কী?

উত্তর : ব্যবসায় বাণিজ্য একটি পবিত্র পেশা। আমাদের প্রিয়নবী (সা.)ও ব্যবসা করেছেন। সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী দুনিয়া ও আখিরাতে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী।

বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন শহিদের সঙ্গে থাকবেন। কেননা তাদের প্রতিনিয়ত নিজেদের সঙ্গে জিহাদ করে সৎভাবে ব্যবসা করতে হয়েছে। তারা পণ্য নকল করতে পারতেন। খারাপ পণ্য ভালো পণ্য হিসাবে চালিয়ে দিয়ে বেশি লাভ করতে পারতেন। ওজনে কম দিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু তারা সব প্রলোভবন ও মোহ থেকে মুক্ত হয়ে কুপ্রবৃত্তির সঙ্গে জিহাদ করে হালাল পথে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। এ কারণেই কিয়ামতের দিন বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ীরা শহিদদের সঙ্গে থাকবেন।

৩৮.‘শরিয়ত সংক্রান্ত বিষয়ে ইজমা একটি অকাট্য দলিল’- ব্যাখা কর।

উত্তর : শরিয়তের তৃতীয় উৎস হলো ইজমা। শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের পুণ্যবান মুজতাহিদগণের ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়।

ইজমা যে শরিয়তের একটি দলিল ও উৎস এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, মুসলিমরা যা ভালো মনে করে তা আল্লাহর কাছে ভালো। তিনি আরও বলেছেন আমার উম্মত কোনো ভ্রান্ত বিষয়ে একমত হবে না। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, ইজমা শরিয়তের একটি অকাট্য দলিল। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

৩৯. কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াস। ইসলামী শরিয়তের পূর্ণাঙ্গতার জন্য কিয়ামতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মানবজীবন ও সমাজ সতত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় জগতে নতুন নতুন সভ্যতা সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটে। ফলে নতুন নতুন জিজ্ঞাসা সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য কুরআন ও হাদিসের বিজ্ঞানসম্মত যে পদ্ধতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাই কিয়াস। এ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমেই শরিয়ত পরিপূর্ণ হয়। তাই কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক।

৪০. হারাম বর্জনীয় কেন?

উত্তর : মহান আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নিষিদ্ধ এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় হারাম বর্জনীয়। হারাম দ্রব্য আমাদের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা বর্জনীয়। আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য যা কিছু অকল্যাণকর তাই হারাম ঘোষণা করেছেন। হারাম খাদ্য গ্রহণের ফলে অন্যায় অশ্লীলতা ও অসৎ চরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মানবচরিত্রের সৎগুণাবলি নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ ইবাদতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই বলা যায় হারাম দ্রব্য আমাদের দেহ, মন ও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা বর্জনীয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন