অষ্টম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
jugantor
অষ্টম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

  মো. মুজাম্মেল হক  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক

মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

দ্বিতীয় অধ্যায় : অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন : ইবাদত বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো চূড়ান্তভাবে দ্বীনতা-হীনতা ও বিনয় প্রকাশ করা এবং নমনীয় হওয়া।

ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় জীবনের সব ক্ষেত্রে তার দাসত্ব বা আনুগত্য করাকে ইবাদত বলে। এক কথায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর নির্দেশিত পথের যে কোনো কাজ করাই ইবাদত।

প্রশ্ন : জাকাত বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : জাকাত আরবি শব্দ। এর আবিধানিক অর্থ বৃদ্ধি, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি।

ইসলামি পরিভাষায় ধনী ব্যক্তিদের নিসাব (নির্ধারিত) পরিমাণ সম্পদ থাকলে নির্দিষ্ট অংশ গরিব অভাবী লোকদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়াকে জাকাত বলে।

প্রশ্ন : ‘জাকাত অসহায় দরিদ্রের অধিকার’- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : জাকাত অসহায় ও দরিদ্রের অধিকার। ধনীদের শরিয়তের বিধান অনুসারে জাকাত আদায় করা একান্ত আবশ্যক।

জাকাত প্রদান করা দরিদ্রের প্রতি ধনী লোকদের কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং জাকাত হল দরিদ্র লোকের প্রাপ্য বা অধিকার। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে অবশ্যই দরিদ্র ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’

তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে। পরিণামে তাদের পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

প্রশ্ন : জাকাতের নিসাব বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : নিসাব আরবি শব্দ। এর অর্থ নির্ধারিত পরিমাণ।

শরিয়তের পরিভাষায় জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলে। সারা বছর জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর বছর শেষে যার হাতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকে তাকে বলে সাহিবে নিসাব বা নিসাবে মালিক।

প্রশ্ন : ‘উশর’ বলতে কী বোঝায়?

উশর হল উৎপন্ন শস্যের জাকাত।

ধান, গম, যব, খেজুর ইত্যাদি শস্য সেচ প্রদান ছাড়া বৃষ্টির পানিতে জন্মালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব ফসলের দশভাগের এক ভাগ জাকাত আদায় করতে হয়। একে উশর বলে। আর সেচ ব্যবস্থায় উৎপন্ন ফসলের বিশভাগের এক ভাগ জাকাত আদায় করতে হয়।

প্রশ্ন : জাকাতের মাসরিফ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : মাসরিফ আরবি শব্দ। এর অর্থ ব্যয় করার খাত।

শরিয়তের পরিভাষায় ইসলামি বিধান অনুযায়ী যাদের জাকাত দেয়া যায়, তাদের বলা হয় মাসরিফ। জাকাতের মাসরিফ অর্থাৎ কোন কোন খাতে জাকাতের অর্থ ব্যয় করতে হবে আল্লাহতায়ালা স্বয়ং তা নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্ধারিত এ খাত হলো আটটি। এ আটটি খাতেই জাকাত দেয়া সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য আবশ্যক।

প্রশ্ন : হজরত আবু বকর (রা.) জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন?

উত্তর : জাকাত ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন।

পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে সালাতের সঙ্গে জাকাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো মুসলমান জাকাত না দিলে সে আর পরিপূর্ণ মুসলমান থাকতে পারে না। আল্লাহ বলেন- ‘যারা জাকাত দেয় না এবং তারা পরকালও অস্বীকারকারী।’ জাকাত অস্বীকার করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করার শামিল। ইসলামি আইনের জাকাতদানের উপযুক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই জাকাত দিতে হবে। জাকাতের গুরুত্ব বিবেচনায় ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) জাকাতদানে অস্বীকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন।

প্রশ্ন : হজ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ পঞ্চম। হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা ইত্যাদি।

ইসলামি পরিভাষায় নির্দিষ্ট দিনগুলোয় নির্ধারিত পদ্ধতিতে আল্লাহর নৈকট্য সন্তুষ্টি লাভেল উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবাঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোয় বিশেষ কার্যাদি সম্পাদন করাকে হজ বলে। হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত মক্কা, মিনা, আরাফা এবং মুজদালিফায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করাও হজের অন্তর্ভুক্ত।

অষ্টম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

 মো. মুজাম্মেল হক 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক

মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

দ্বিতীয় অধ্যায় : অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন : ইবাদত বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো চূড়ান্তভাবে দ্বীনতা-হীনতা ও বিনয় প্রকাশ করা এবং নমনীয় হওয়া।

ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় জীবনের সব ক্ষেত্রে তার দাসত্ব বা আনুগত্য করাকে ইবাদত বলে। এক কথায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর নির্দেশিত পথের যে কোনো কাজ করাই ইবাদত।

প্রশ্ন : জাকাত বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : জাকাত আরবি শব্দ। এর আবিধানিক অর্থ বৃদ্ধি, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি।

ইসলামি পরিভাষায় ধনী ব্যক্তিদের নিসাব (নির্ধারিত) পরিমাণ সম্পদ থাকলে নির্দিষ্ট অংশ গরিব অভাবী লোকদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়াকে জাকাত বলে।

প্রশ্ন : ‘জাকাত অসহায় দরিদ্রের অধিকার’- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : জাকাত অসহায় ও দরিদ্রের অধিকার। ধনীদের শরিয়তের বিধান অনুসারে জাকাত আদায় করা একান্ত আবশ্যক।

জাকাত প্রদান করা দরিদ্রের প্রতি ধনী লোকদের কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং জাকাত হল দরিদ্র লোকের প্রাপ্য বা অধিকার। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে অবশ্যই দরিদ্র ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’

তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে। পরিণামে তাদের পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

প্রশ্ন : জাকাতের নিসাব বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : নিসাব আরবি শব্দ। এর অর্থ নির্ধারিত পরিমাণ।

শরিয়তের পরিভাষায় জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলে। সারা বছর জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর বছর শেষে যার হাতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকে তাকে বলে সাহিবে নিসাব বা নিসাবে মালিক।

প্রশ্ন : ‘উশর’ বলতে কী বোঝায়?

উশর হল উৎপন্ন শস্যের জাকাত।

ধান, গম, যব, খেজুর ইত্যাদি শস্য সেচ প্রদান ছাড়া বৃষ্টির পানিতে জন্মালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব ফসলের দশভাগের এক ভাগ জাকাত আদায় করতে হয়। একে উশর বলে। আর সেচ ব্যবস্থায় উৎপন্ন ফসলের বিশভাগের এক ভাগ জাকাত আদায় করতে হয়।

প্রশ্ন : জাকাতের মাসরিফ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : মাসরিফ আরবি শব্দ। এর অর্থ ব্যয় করার খাত।

শরিয়তের পরিভাষায় ইসলামি বিধান অনুযায়ী যাদের জাকাত দেয়া যায়, তাদের বলা হয় মাসরিফ। জাকাতের মাসরিফ অর্থাৎ কোন কোন খাতে জাকাতের অর্থ ব্যয় করতে হবে আল্লাহতায়ালা স্বয়ং তা নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্ধারিত এ খাত হলো আটটি। এ আটটি খাতেই জাকাত দেয়া সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য আবশ্যক।

প্রশ্ন : হজরত আবু বকর (রা.) জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন?

উত্তর : জাকাত ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন।

পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে সালাতের সঙ্গে জাকাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো মুসলমান জাকাত না দিলে সে আর পরিপূর্ণ মুসলমান থাকতে পারে না। আল্লাহ বলেন- ‘যারা জাকাত দেয় না এবং তারা পরকালও অস্বীকারকারী।’ জাকাত অস্বীকার করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করার শামিল। ইসলামি আইনের জাকাতদানের উপযুক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই জাকাত দিতে হবে। জাকাতের গুরুত্ব বিবেচনায় ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) জাকাতদানে অস্বীকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন।

প্রশ্ন : হজ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ পঞ্চম। হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা ইত্যাদি।

ইসলামি পরিভাষায় নির্দিষ্ট দিনগুলোয় নির্ধারিত পদ্ধতিতে আল্লাহর নৈকট্য সন্তুষ্টি লাভেল উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবাঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোয় বিশেষ কার্যাদি সম্পাদন করাকে হজ বলে। হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত মক্কা, মিনা, আরাফা এবং মুজদালিফায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করাও হজের অন্তর্ভুক্ত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন