বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
jugantor
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

  আফরোজা বেগম  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড

কলেজ উত্তরা, ঢাকা

ব্রিটিশ শাসন

প্রশ্ন : বাংলার শিক্ষা ও অর্থনীতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব কী ছিল?

উত্তর : ১৭৫৭ সালের পলাশি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। বাংলার শিক্ষা ও অর্থনীতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব ছিল নিম্নরূপ :

শিক্ষা : * ইংরেজদের মাধ্যমে এ দেশে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন হয়। * শিক্ষা বিস্তারে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। * ছাপাখানার বিকাশে জ্ঞান বিস্তারের সুযোগ বাড়ে। * আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষার ফলে এ দেশে ক্রমে একটা ইংরেজি শিক্ষিত শ্রেণি গড়ে ওঠে। এদের একাংশের মধ্যে নতুন চেতনার বিকাশ ঘটতে থাকে। * এরা নিজেদের সমাজে বহুকাল ধরে প্রচলিত নানা কুসংস্কার, কুপ্রথা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন। এদের হাত ধরেই উনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে। যার ফলে সামাজিক সংস্কারসহ শিক্ষা, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটে। নবজাগরণের কয়েকজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রমুখ।

অর্থনীতি : এ দেশ ইংরেজ শাসনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শোষণ ও নিজেদের লাভ। প্রায় ২০০ বছরের এ শাসনকালে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ এ দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়। বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি ও এককালের তাঁতশিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। বাংলার শিল্প, বাণিজ্যও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসংখ্য কারিগর বেকার হয়ে যায়।

সুতরাং বাংলার শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব অনেকটা ইতিবাচক হলেও বাংলার অর্থনীতিতে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত নাজুক ও হতাশাজনক।

প্রশ্ন : ১৮৫৭-এর সিপাহী বিদ্রোহের গুরুত্ব বর্ণনা কর? অথবা, ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ফলাফল কী ছিল?

উত্তর : সিপাহী বিদ্রোহ : পলাশি যুদ্ধের ঠিক ১০০ বছর পর ১৮৫৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে বাঙালি সিপাহীরা স্ব স্ব ব্যারাকে যে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়েছিল তা-ই ইতিহাসে সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

গুরুত্ব : ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অনেক ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

যেমন : * এ বিপ্লব স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র সংগ্রাম হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। * বাংলায় শুরু হয়ে ইংরেজ অধিকৃত ভারতের অন্যান্য এলাকার সিপাহীদের মধ্যেও এ বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম বাংলার ব্যারাকপুরে সিপাহী ‘মঙ্গল পান্ডের’ নেতৃত্বে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়। ইংরেজরা কঠোরভাবে দমন করল। বিদ্রোহীরা পরাজিত হলেও এ বিদ্রোহের ফলেই কোম্পানির শাসনের অবসান হয়। শুরু হয় ব্রিটিশ রাজ তথা রানী ভিক্টোরিয়ার শাসন। * ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ ওঠে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। * সিপাহী বিপ্লবের পর মুসলমানদের প্রতি ইংরেজ সরকারের নীতির পরিবর্তন আসতে থাকে। মুসলমানদের একটি অংশ মনে করে, ইংরেজদের অসহযোগিতা করলে সব ক্ষেত্রে তারা পিছিয়েই থাকবে। তাই এ সিপাহী বিপ্লবের পর থেকে ভারতবর্ষে সবাই শিক্ষা বিস্তারে তৎপর হন। শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা, স্বকীয়তা ইত্যাদি বোধের উদয় হয়। ফলে পরে কংগ্রেস দল, মুসলিম লীগ, স্বরাজ পার্টিসহ নানা রাজনৈতিক দল সৃষ্টি হয়।

সুতরাং ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার দ্বার উন্মুক্ত করতে, শিক্ষা বিস্তার করতে এই সিপাহী বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাপক।

প্রশ্ন : ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীর, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরাম কী অবদান রেখেছিলেন?

উত্তর : ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীর, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরামের অবদান উল্লেখযোগ্য।

তিতুমীর ইংরেজ ও জমিদারদের শোষণ ও অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে বর্তমান ভারতের পশ্চিমবাংলার চব্বিশপরগনা জেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি হলেন বাংলার সশস্ত্র সংগ্রামে স্বাধীনতার প্রথম শহিদ।

স্বরাজ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, সশস্ত্র যুব বিদ্রোহের এক পর্যায়ে সশস্ত্র আন্দোলনে ক্ষুদিরাম, মাস্টার দা সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা চিরস্মরণীয়। ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেয়ার কারণে ক্ষুদিরাম ও মাস্টার দাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। সফল অভিযান শেষে ইংরেজদের হাতে ধরা পড়া এড়ানোর জন্য প্রীতিলতা স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীর, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরামের অসামান্য অবদান রয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

 আফরোজা বেগম 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড

কলেজ উত্তরা, ঢাকা

ব্রিটিশ শাসন

প্রশ্ন : বাংলার শিক্ষা ও অর্থনীতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব কী ছিল?

উত্তর : ১৭৫৭ সালের পলাশি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। বাংলার শিক্ষা ও অর্থনীতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব ছিল নিম্নরূপ :

শিক্ষা : * ইংরেজদের মাধ্যমে এ দেশে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন হয়। * শিক্ষা বিস্তারে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। * ছাপাখানার বিকাশে জ্ঞান বিস্তারের সুযোগ বাড়ে। * আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষার ফলে এ দেশে ক্রমে একটা ইংরেজি শিক্ষিত শ্রেণি গড়ে ওঠে। এদের একাংশের মধ্যে নতুন চেতনার বিকাশ ঘটতে থাকে। * এরা নিজেদের সমাজে বহুকাল ধরে প্রচলিত নানা কুসংস্কার, কুপ্রথা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন। এদের হাত ধরেই উনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে। যার ফলে সামাজিক সংস্কারসহ শিক্ষা, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটে। নবজাগরণের কয়েকজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রমুখ।

অর্থনীতি : এ দেশ ইংরেজ শাসনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শোষণ ও নিজেদের লাভ। প্রায় ২০০ বছরের এ শাসনকালে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ এ দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়। বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি ও এককালের তাঁতশিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। বাংলার শিল্প, বাণিজ্যও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসংখ্য কারিগর বেকার হয়ে যায়।

সুতরাং বাংলার শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব অনেকটা ইতিবাচক হলেও বাংলার অর্থনীতিতে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত নাজুক ও হতাশাজনক।

প্রশ্ন : ১৮৫৭-এর সিপাহী বিদ্রোহের গুরুত্ব বর্ণনা কর? অথবা, ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ফলাফল কী ছিল?

উত্তর : সিপাহী বিদ্রোহ : পলাশি যুদ্ধের ঠিক ১০০ বছর পর ১৮৫৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে বাঙালি সিপাহীরা স্ব স্ব ব্যারাকে যে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়েছিল তা-ই ইতিহাসে সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

গুরুত্ব : ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অনেক ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

যেমন : * এ বিপ্লব স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র সংগ্রাম হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। * বাংলায় শুরু হয়ে ইংরেজ অধিকৃত ভারতের অন্যান্য এলাকার সিপাহীদের মধ্যেও এ বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম বাংলার ব্যারাকপুরে সিপাহী ‘মঙ্গল পান্ডের’ নেতৃত্বে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়। ইংরেজরা কঠোরভাবে দমন করল। বিদ্রোহীরা পরাজিত হলেও এ বিদ্রোহের ফলেই কোম্পানির শাসনের অবসান হয়। শুরু হয় ব্রিটিশ রাজ তথা রানী ভিক্টোরিয়ার শাসন। * ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ ওঠে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। * সিপাহী বিপ্লবের পর মুসলমানদের প্রতি ইংরেজ সরকারের নীতির পরিবর্তন আসতে থাকে। মুসলমানদের একটি অংশ মনে করে, ইংরেজদের অসহযোগিতা করলে সব ক্ষেত্রে তারা পিছিয়েই থাকবে। তাই এ সিপাহী বিপ্লবের পর থেকে ভারতবর্ষে সবাই শিক্ষা বিস্তারে তৎপর হন। শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা, স্বকীয়তা ইত্যাদি বোধের উদয় হয়। ফলে পরে কংগ্রেস দল, মুসলিম লীগ, স্বরাজ পার্টিসহ নানা রাজনৈতিক দল সৃষ্টি হয়।

সুতরাং ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার দ্বার উন্মুক্ত করতে, শিক্ষা বিস্তার করতে এই সিপাহী বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাপক।

প্রশ্ন : ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীর, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরাম কী অবদান রেখেছিলেন?

উত্তর : ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীর, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরামের অবদান উল্লেখযোগ্য।

তিতুমীর ইংরেজ ও জমিদারদের শোষণ ও অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে বর্তমান ভারতের পশ্চিমবাংলার চব্বিশপরগনা জেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি হলেন বাংলার সশস্ত্র সংগ্রামে স্বাধীনতার প্রথম শহিদ।

স্বরাজ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, সশস্ত্র যুব বিদ্রোহের এক পর্যায়ে সশস্ত্র আন্দোলনে ক্ষুদিরাম, মাস্টার দা সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা চিরস্মরণীয়। ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেয়ার কারণে ক্ষুদিরাম ও মাস্টার দাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। সফল অভিযান শেষে ইংরেজদের হাতে ধরা পড়া এড়ানোর জন্য প্রীতিলতা স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীর, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরামের অসামান্য অবদান রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন