পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
jugantor
পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

  আফরোজা বেগম  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক

স্থান ও নিদর্শন

প্রশ্ন : দুটি প্রাচীন নিদর্শনের নাম লিখ।

উত্তর : বাংলাদেশ হলো প্রাচীন সভ্যতা তথা প্রাচীন নিদর্শনের পীঠস্থান। দুটি প্রাচীন নিদর্শনের নাম নিচে দেয়া হলো-

* মহাস্থান গড় * উয়ারী-বটেশ্বর

প্রশ্ন : প্রাচীন নিদর্শনগুলো কারা আবিষ্কার করেন?

উত্তর : প্রাচীন নিদর্শনগুলো নানা কারণে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। কালের করাল গ্রাসে ঐতিহ্যবাহী জনপদগুলো হয়ে পড়ে জনশূন্য। বহুকাল পর আবার লোকবসতি তথা লোকের আনাগোনা শুরু হয়। নতুনভাবে লোকজন তাদের বসতি স্থাপন করতে গিয়ে কখনো কখনো প্রাচীন মাটি সরে গিয়ে লোকচক্ষুর সামনে চলে আসে প্রাচীন নিদর্শনগুলোর ধ্বংসাবশেষ। আবার কখনো জনগণের আয়োজনে রাস্তা, রেলপথ ইত্যাদি নির্মাণকালে মাটি খুঁড়তে গিয়ে স্থানীয় জনগণের চোখেই সর্বপ্রথম প্রাচীন নিদর্শনগুলোর পরিচয় বা নমুনা ধরা পড়ে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্ন বিভাগ বা স্থানীয় জনপ্রশাসক যেমন- পুলিশ বা জেলা প্রশাসককে খবর দেয়।

সর্বশেষে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বা সরকারের প্রত্ন বিভাগের লোকজন প্রাচীন নিদর্শনগুলো আবিষ্কার করে।

প্রশ্ন : ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো কোথায় রাখা হয়?

উত্তর : বাংলাদেশ প্রাচীন সভ্যতায় পীঠস্থান। যুগে যুগে কালে কালে অনেক সমৃদ্ধ সভ্যতায় জন্ম হয়েছে এ প্রাচীন জনপদে। কালক্রমে হারিয়ে যাওয়া এসব ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন সভ্যতা বা স্থান থেকে বহু নিদর্শন পাওয়া যায়। এসব নির্দশন প্রাচীনকালে ঐতিহ্যের পরিচায়ক। তাই ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এসব নিদর্শনগুলো স্থানীয় প্রত্ন জাদুঘরে বা ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়। দেশ-বিদেশের সব দর্শনার্থীর জন্য এগুলো সেখানে যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়।

সুতরাং, ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো স্থানীয় প্রত্ন জাদুঘরে বা বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়।

প্রশ্ন : ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো পরিদর্শনের কারণগুলো লিখ।

উত্তর : প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ডে উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। তার কিছু কিছু ধ্বংসাবশেষ এখনো বিভিন্ন অঞ্চলে রয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে বগুড়ার মহাস্থানগড়, নওগাঁর পাহাড়পুর, কুমিল্লার ময়নামতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জের অদূরে সোনারগাঁ ও পানাম নগরী এবং ঢাকার লালবাগের কেল্লা, নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ এ দেশে সুলতানি ও মোগল শাসনামলের বহু মূল্যবান নিদর্শন বহন করছে। বাংলাদেশের পুরোটাই যেন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক উন্মুক্ত জাদুঘর। এ দেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ঐতিহাসিক গুরুত্ববহনকারী নানা নিদর্শন। এসব নিদর্শন আমাদের অতীত সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। আমরা এসব ঐতিহ্যে গৌরববোধ করি। এসব নিদর্শন আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধারণ, লালন করে। এগুলো আমাদের গর্ব। তাই আমরা পারিবারিকভাবে বা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এসব নির্দশন সম্পর্কে জানব ও এগুলো পরিদর্শন করব। এগুলো পরিদর্শন করলে-

* আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে

* জ্ঞান সমৃদ্ধ হবে।

* আমাদের জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে।

* অতীতের সংস্কৃতি ও সভ্যতা সম্পর্কে জানা যাবে। সুতরাং, ওপরের কারণে আমরা প্রাচীন নিদর্শনগুলো পরিদর্শন করব ও সেগুলোকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশ্ন : ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো আমাদের সংরক্ষণ করা উচিত কেন?

উত্তর : বাংলাদেশ প্রাচীন সভ্যতার পীঠস্থান। যুগে যুগে কালে কালে অনেক সমৃদ্ধ সভ্যতার জন্ম হয়েছে এ প্রাচীন জনপদে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হল বগুড়ার মাহস্থানগড়, নওগাঁর পাহাড়পুর, কুমিল্লার ময়নামতি, সোনারগাঁ, পানাম নগরী, লালবাগ কেল্লা, নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর। এসব নিদর্শন এ দেশের বিভিন্ন আমলের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করছে। আমরা এসব নিদর্শন থেকে অতীতের সংস্কৃতি ও সভ্যতা সম্পর্কে জানতে পারি। বাংলাদেশের পুরোটাই যেন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক উন্মুক্ত জাদুঘর। এসব ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ করলে এগুলো পরিদর্শন করে আমরা বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পরব না। এগুলো সংরক্ষণ করলে এগুলো সম্পর্কে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। এসব নির্দশনগুলো সংরক্ষণ করলে আজীবন এগুলো সুপ্রাচীন অতীতের জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে বেঁচে থাকবে আমাদের মাঝে, এতে সমৃদ্ধ হবে আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি।

প্রশ্ন : মহাস্থানগড়ের কয়েকটি ঐতিহাসিক

নিদর্শনের বর্ণনা দাও?

উত্তর : বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থানগড় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন।

নিদর্শন :

* বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহৎ নগর ‘পুন্ড্রনগর’-এর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এ নগর মৌর্য আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

* বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপি ‘ব্রাহ্মী শিলালিপি’ পাওয়া গেছে।

* এখানে পোড়ামাটির ফলক ও ভাস্কর্য, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, পাথর ও কাচের পুঁতি পাওয়া গেছে।

* এখানে ‘গোবিন্দ ভিটা’, ‘লখিন্দরের মেধ’ ও ‘গোকুল মেধ’ নামে ধর্মীয় পুরাকীর্তি রয়েছে।

* প্রাচীনকালের একটি দুর্গ ভাঙা অবস্থায় এখনো দেখতে পাওয়া যায়।

* দুর্গটির পূর্বদিকে করতোয়া নদী এবং অপর তিনদিকে চওড়া খাদের চিহ্ন রয়েছে।

* দুর্গের ভেতরে এখানে-সেখানে অনেক পাথরের খণ্ড রয়েছে। ‘খোদাই পাথর’ নামে পরিচিত এক টুকরা বিশেষ ধরনের পাথর পাওয়া গেছে। এ পাথর টুকরাটি প্রায় ৩.৩৫ মিটার লম্বা ও ০.৯১ মিটার চওড়া।

* মহাস্থানগড়ের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মোগল আমলে নির্মিত এক গম্বুজের একটি মসজিদ রয়েছে। এটি ‘মহাস্থান মসজিদ’ নামে পরিচিত। সুতরাং মহাস্থানগড় নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন সমৃদ্ধ একটি নগরী।

[মহাস্থানগড়ের নিদর্শনগুলো এখানকার জাদুঘর, রাজশাহী বরেন্দ্র জাদুঘর ও ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত আছে।]

পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

 আফরোজা বেগম 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক

স্থান ও নিদর্শন

প্রশ্ন : দুটি প্রাচীন নিদর্শনের নাম লিখ।

উত্তর : বাংলাদেশ হলো প্রাচীন সভ্যতা তথা প্রাচীন নিদর্শনের পীঠস্থান। দুটি প্রাচীন নিদর্শনের নাম নিচে দেয়া হলো-

* মহাস্থান গড় * উয়ারী-বটেশ্বর

প্রশ্ন : প্রাচীন নিদর্শনগুলো কারা আবিষ্কার করেন?

উত্তর : প্রাচীন নিদর্শনগুলো নানা কারণে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। কালের করাল গ্রাসে ঐতিহ্যবাহী জনপদগুলো হয়ে পড়ে জনশূন্য। বহুকাল পর আবার লোকবসতি তথা লোকের আনাগোনা শুরু হয়। নতুনভাবে লোকজন তাদের বসতি স্থাপন করতে গিয়ে কখনো কখনো প্রাচীন মাটি সরে গিয়ে লোকচক্ষুর সামনে চলে আসে প্রাচীন নিদর্শনগুলোর ধ্বংসাবশেষ। আবার কখনো জনগণের আয়োজনে রাস্তা, রেলপথ ইত্যাদি নির্মাণকালে মাটি খুঁড়তে গিয়ে স্থানীয় জনগণের চোখেই সর্বপ্রথম প্রাচীন নিদর্শনগুলোর পরিচয় বা নমুনা ধরা পড়ে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্ন বিভাগ বা স্থানীয় জনপ্রশাসক যেমন- পুলিশ বা জেলা প্রশাসককে খবর দেয়।

সর্বশেষে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বা সরকারের প্রত্ন বিভাগের লোকজন প্রাচীন নিদর্শনগুলো আবিষ্কার করে।

প্রশ্ন : ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো কোথায় রাখা হয়?

উত্তর : বাংলাদেশ প্রাচীন সভ্যতায় পীঠস্থান। যুগে যুগে কালে কালে অনেক সমৃদ্ধ সভ্যতায় জন্ম হয়েছে এ প্রাচীন জনপদে। কালক্রমে হারিয়ে যাওয়া এসব ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন সভ্যতা বা স্থান থেকে বহু নিদর্শন পাওয়া যায়। এসব নির্দশন প্রাচীনকালে ঐতিহ্যের পরিচায়ক। তাই ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এসব নিদর্শনগুলো স্থানীয় প্রত্ন জাদুঘরে বা ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়। দেশ-বিদেশের সব দর্শনার্থীর জন্য এগুলো সেখানে যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়।

সুতরাং, ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো স্থানীয় প্রত্ন জাদুঘরে বা বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়।

প্রশ্ন : ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো পরিদর্শনের কারণগুলো লিখ।

উত্তর : প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ডে উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। তার কিছু কিছু ধ্বংসাবশেষ এখনো বিভিন্ন অঞ্চলে রয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে বগুড়ার মহাস্থানগড়, নওগাঁর পাহাড়পুর, কুমিল্লার ময়নামতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জের অদূরে সোনারগাঁ ও পানাম নগরী এবং ঢাকার লালবাগের কেল্লা, নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ এ দেশে সুলতানি ও মোগল শাসনামলের বহু মূল্যবান নিদর্শন বহন করছে। বাংলাদেশের পুরোটাই যেন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক উন্মুক্ত জাদুঘর। এ দেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ঐতিহাসিক গুরুত্ববহনকারী নানা নিদর্শন। এসব নিদর্শন আমাদের অতীত সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। আমরা এসব ঐতিহ্যে গৌরববোধ করি। এসব নিদর্শন আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধারণ, লালন করে। এগুলো আমাদের গর্ব। তাই আমরা পারিবারিকভাবে বা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এসব নির্দশন সম্পর্কে জানব ও এগুলো পরিদর্শন করব। এগুলো পরিদর্শন করলে-

* আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে

* জ্ঞান সমৃদ্ধ হবে।

* আমাদের জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে।

* অতীতের সংস্কৃতি ও সভ্যতা সম্পর্কে জানা যাবে। সুতরাং, ওপরের কারণে আমরা প্রাচীন নিদর্শনগুলো পরিদর্শন করব ও সেগুলোকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশ্ন : ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো আমাদের সংরক্ষণ করা উচিত কেন?

উত্তর : বাংলাদেশ প্রাচীন সভ্যতার পীঠস্থান। যুগে যুগে কালে কালে অনেক সমৃদ্ধ সভ্যতার জন্ম হয়েছে এ প্রাচীন জনপদে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হল বগুড়ার মাহস্থানগড়, নওগাঁর পাহাড়পুর, কুমিল্লার ময়নামতি, সোনারগাঁ, পানাম নগরী, লালবাগ কেল্লা, নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর। এসব নিদর্শন এ দেশের বিভিন্ন আমলের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করছে। আমরা এসব নিদর্শন থেকে অতীতের সংস্কৃতি ও সভ্যতা সম্পর্কে জানতে পারি। বাংলাদেশের পুরোটাই যেন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক উন্মুক্ত জাদুঘর। এসব ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ করলে এগুলো পরিদর্শন করে আমরা বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পরব না। এগুলো সংরক্ষণ করলে এগুলো সম্পর্কে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। এসব নির্দশনগুলো সংরক্ষণ করলে আজীবন এগুলো সুপ্রাচীন অতীতের জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে বেঁচে থাকবে আমাদের মাঝে, এতে সমৃদ্ধ হবে আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি।

প্রশ্ন : মহাস্থানগড়ের কয়েকটি ঐতিহাসিক

নিদর্শনের বর্ণনা দাও?

উত্তর : বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থানগড় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন।

নিদর্শন :

* বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহৎ নগর ‘পুন্ড্রনগর’-এর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এ নগর মৌর্য আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

* বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপি ‘ব্রাহ্মী শিলালিপি’ পাওয়া গেছে।

* এখানে পোড়ামাটির ফলক ও ভাস্কর্য, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, পাথর ও কাচের পুঁতি পাওয়া গেছে।

* এখানে ‘গোবিন্দ ভিটা’, ‘লখিন্দরের মেধ’ ও ‘গোকুল মেধ’ নামে ধর্মীয় পুরাকীর্তি রয়েছে।

* প্রাচীনকালের একটি দুর্গ ভাঙা অবস্থায় এখনো দেখতে পাওয়া যায়।

* দুর্গটির পূর্বদিকে করতোয়া নদী এবং অপর তিনদিকে চওড়া খাদের চিহ্ন রয়েছে।

* দুর্গের ভেতরে এখানে-সেখানে অনেক পাথরের খণ্ড রয়েছে। ‘খোদাই পাথর’ নামে পরিচিত এক টুকরা বিশেষ ধরনের পাথর পাওয়া গেছে। এ পাথর টুকরাটি প্রায় ৩.৩৫ মিটার লম্বা ও ০.৯১ মিটার চওড়া।

* মহাস্থানগড়ের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মোগল আমলে নির্মিত এক গম্বুজের একটি মসজিদ রয়েছে। এটি ‘মহাস্থান মসজিদ’ নামে পরিচিত। সুতরাং মহাস্থানগড় নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন সমৃদ্ধ একটি নগরী।

[মহাস্থানগড়ের নিদর্শনগুলো এখানকার জাদুঘর, রাজশাহী বরেন্দ্র জাদুঘর ও ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত আছে।]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন