অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান
jugantor
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান

  মো. আমিনুল ইসলাম  

২১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক

মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

মহাকাশ ও উপগ্রহ

*** বিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক উপগ্রহ সম্পর্কে পড়াতে গিয়ে দুই ধরনের উপগ্রহের কথা বলেন-মানুষের তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘মানব কল্যাণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।’ দ্বিতীয়টি প্রাকৃতিক উপগ্রহ।

ক. কৃত্রিম উপগ্রহ কাকে বলে?

খ. মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব ব্যাখ্যা কর।

গ. দ্বিতীয় উপগ্রহ পৃথিবীর চারপাশে কীভাবে প্রদক্ষিণ করে-ব্যাখ্যা কর।

ঘ. প্রথম উপগ্রহের ক্ষেত্রে শিক্ষকের উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর : ক. মানুষের পাঠানো যেসব মহাকাশ যান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে তাদের কৃত্রিম উপগ্রহ বলে।

উত্তর : খ. মহাবিশ্বের উপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে তার মধ্যে বহুল পরিচিত হলো-‘বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব’। বাংলায় একে ‘মহাবিস্ফোরণ’ তত্ত্ব বলা হয়। বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং এ তত্ত্বের পক্ষে গ্রহণযোগ্য যুক্তি দেন। এ তত্ত্বমতে মহাবিশ্ব এক সময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন অবস্থায় ছিল যা অতি দ্রুত প্রসারিত হয়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান রূপ ধারণ করে।

উত্তর : গ. উদ্দীপকের ২য় উপগ্রহটি হলো প্রাকৃতিক উপগ্রহ। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলো চাঁদ। চাঁদ যেভাবে পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করে তা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-

পৃথিবীর চারদিকে ঘোরার জন্য কেন্দ্রমুখী বল বা টানের প্রয়োজন হয়। উপগ্রহের ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল বা অভিকর্ষ বলই কেন্দ্রমুখী বল জোগায়। চাঁদ হলো এমন উপগ্রহ যা পৃথিবী গ্রহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ টানের প্রভাবে চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করে। নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরার জন্য চাঁদের প্রয়োজনীয় দ্রুতির প্রয়োজন হয়। চাঁদ নিজের অক্ষ বরাবর প্রায় ২৭ দিনে একবার ঘুরে এবং একই পৃথিবীতে চারদিকেও একবার ঘুরে আসতে চাঁদের প্রায় ২৭ দিন সময় লাগে। চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই চাঁদ শুধু সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। আমরা চাঁদের শুধু আলোকিত অংশই দেখতে পাই। তখন আমরা একে পূর্ণিমার চাঁদ বলি। আর যখন আমরা চাঁদের আলোর আলোকিত অংশ একেবারেই দেখতে পাই না তখন একে অমাবস্যার চাঁদ বলি।

উত্তর : ঘ. উদ্দীপকের প্রথম উপগ্রহটি কৃত্রিম উপগ্রহ। এ কৃত্রিম উপগ্রহ যে মানবকল্যাণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে তা শিক্ষক ক্লাসে পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বলেন। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

যোগাযোগ উপগ্রহ : আমরা প্রতিনিয়ত মোবাইল টেলিফোন ফ্যাক্স ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন সম্পর্কের মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। তা ছাড়া টেলিভিশন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের ঘটনা দেখতে ও শুনতে পাই। এগুলো সম্ভব হয় ডিস এরিয়েলের মাধ্যমে। যে দেশ থেকে কথা বলা হয় সে দেশের ডিশ এরিয়েল একটি সংকেত কৃত্রিম উপগ্রহে প্রেরণ করে এবং এই সংকেত কৃত্রিম উপগ্রহটি অপর দেশের ডিশ এরিয়েল পাঠিয়ে দেয়। যেখান থেকে যার সঙ্গে কথা বলছি তার টেলিফোনে পৌঁছায়। এভাবে সংকেত টেলিভিশন থেকে টেলিভিশনে প্রেরণের ফলে আমরা টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতে পাই।

আবহাওয়া উপগ্রহ : যে উপগ্রহ আবহাওয়া সংক্রান্ত খবর রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছায় তাকে আবহাওয়া উপগ্রহ বলে। আবহাওয়া উপগ্রহের সাহায্যে আমরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাই। ফলে অনেক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সামরিক বা গোয়েন্দা উপগ্রহ : যে উপগ্রহ গোয়েন্দাদের কাজের জন্য সামরিক বাহিনীতে ব্যবহার করা হয় তাকে সামরিক উপগ্রহ বলে। প্রতিপক্ষ যোদ্ধারা কোথায় লুকিয়ে আছে গোপনে তারা কোথাও অনুপ্রবেশ করছে কিনা, কোনো গোপন আক্রমণ হচ্ছে কিনা ইত্যাদি খবর সংগ্রহের জন্য এ উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়।

পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ : সমুদ্রের কোথায় কোন জাহাজ থেকে তেল চুইয়ে পরিবেশ দূষণ করছে, কোন শহরের বায়ু দূষিত ও ময়লা, কোন মাঠে ফসল ভালো, কোন ফসলের রোগবালাই আক্রমণ করেছে, কোথায় আগুন লেগেছে ইত্যাদি জানতে এ উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়।

নৌপরিবহণ উপগ্রহ : বিশাল সমুদ্রে নৌকা, জাহাজ, স্টিমার ইত্যাদি নৌযান কোন অবস্থানে আছে, কোন দিকে যাচ্ছে ইত্যাদি অবস্থান জনতে এ উপগ্রহের সহায়তা নেওয়া হয়।

জ্যোতির্বিদ্যা বিষয় উপগ্রহ : এ উপগ্রহে রাখা টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্র মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিভিন্ন অজানা তথ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দিয়ে থাকে।

তাই বলা যায় শিক্ষকের উক্তিটি যৌক্তিক।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান

 মো. আমিনুল ইসলাম 
২১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক

মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

মহাকাশ ও উপগ্রহ

*** বিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক উপগ্রহ সম্পর্কে পড়াতে গিয়ে দুই ধরনের উপগ্রহের কথা বলেন-মানুষের তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘মানব কল্যাণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।’ দ্বিতীয়টি প্রাকৃতিক উপগ্রহ।

ক. কৃত্রিম উপগ্রহ কাকে বলে?

খ. মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব ব্যাখ্যা কর।

গ. দ্বিতীয় উপগ্রহ পৃথিবীর চারপাশে কীভাবে প্রদক্ষিণ করে-ব্যাখ্যা কর।

ঘ. প্রথম উপগ্রহের ক্ষেত্রে শিক্ষকের উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর : ক. মানুষের পাঠানো যেসব মহাকাশ যান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে তাদের কৃত্রিম উপগ্রহ বলে।

উত্তর : খ. মহাবিশ্বের উপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে তার মধ্যে বহুল পরিচিত হলো-‘বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব’। বাংলায় একে ‘মহাবিস্ফোরণ’ তত্ত্ব বলা হয়। বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং এ তত্ত্বের পক্ষে গ্রহণযোগ্য যুক্তি দেন। এ তত্ত্বমতে মহাবিশ্ব এক সময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন অবস্থায় ছিল যা অতি দ্রুত প্রসারিত হয়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান রূপ ধারণ করে।

উত্তর : গ. উদ্দীপকের ২য় উপগ্রহটি হলো প্রাকৃতিক উপগ্রহ। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলো চাঁদ। চাঁদ যেভাবে পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করে তা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-

পৃথিবীর চারদিকে ঘোরার জন্য কেন্দ্রমুখী বল বা টানের প্রয়োজন হয়। উপগ্রহের ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল বা অভিকর্ষ বলই কেন্দ্রমুখী বল জোগায়। চাঁদ হলো এমন উপগ্রহ যা পৃথিবী গ্রহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ টানের প্রভাবে চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করে। নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরার জন্য চাঁদের প্রয়োজনীয় দ্রুতির প্রয়োজন হয়। চাঁদ নিজের অক্ষ বরাবর প্রায় ২৭ দিনে একবার ঘুরে এবং একই পৃথিবীতে চারদিকেও একবার ঘুরে আসতে চাঁদের প্রায় ২৭ দিন সময় লাগে। চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই চাঁদ শুধু সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। আমরা চাঁদের শুধু আলোকিত অংশই দেখতে পাই। তখন আমরা একে পূর্ণিমার চাঁদ বলি। আর যখন আমরা চাঁদের আলোর আলোকিত অংশ একেবারেই দেখতে পাই না তখন একে অমাবস্যার চাঁদ বলি।

উত্তর : ঘ. উদ্দীপকের প্রথম উপগ্রহটি কৃত্রিম উপগ্রহ। এ কৃত্রিম উপগ্রহ যে মানবকল্যাণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে তা শিক্ষক ক্লাসে পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বলেন। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

যোগাযোগ উপগ্রহ : আমরা প্রতিনিয়ত মোবাইল টেলিফোন ফ্যাক্স ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন সম্পর্কের মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। তা ছাড়া টেলিভিশন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের ঘটনা দেখতে ও শুনতে পাই। এগুলো সম্ভব হয় ডিস এরিয়েলের মাধ্যমে। যে দেশ থেকে কথা বলা হয় সে দেশের ডিশ এরিয়েল একটি সংকেত কৃত্রিম উপগ্রহে প্রেরণ করে এবং এই সংকেত কৃত্রিম উপগ্রহটি অপর দেশের ডিশ এরিয়েল পাঠিয়ে দেয়। যেখান থেকে যার সঙ্গে কথা বলছি তার টেলিফোনে পৌঁছায়। এভাবে সংকেত টেলিভিশন থেকে টেলিভিশনে প্রেরণের ফলে আমরা টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতে পাই।

আবহাওয়া উপগ্রহ : যে উপগ্রহ আবহাওয়া সংক্রান্ত খবর রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছায় তাকে আবহাওয়া উপগ্রহ বলে। আবহাওয়া উপগ্রহের সাহায্যে আমরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাই। ফলে অনেক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সামরিক বা গোয়েন্দা উপগ্রহ : যে উপগ্রহ গোয়েন্দাদের কাজের জন্য সামরিক বাহিনীতে ব্যবহার করা হয় তাকে সামরিক উপগ্রহ বলে। প্রতিপক্ষ যোদ্ধারা কোথায় লুকিয়ে আছে গোপনে তারা কোথাও অনুপ্রবেশ করছে কিনা, কোনো গোপন আক্রমণ হচ্ছে কিনা ইত্যাদি খবর সংগ্রহের জন্য এ উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়।

পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ : সমুদ্রের কোথায় কোন জাহাজ থেকে তেল চুইয়ে পরিবেশ দূষণ করছে, কোন শহরের বায়ু দূষিত ও ময়লা, কোন মাঠে ফসল ভালো, কোন ফসলের রোগবালাই আক্রমণ করেছে, কোথায় আগুন লেগেছে ইত্যাদি জানতে এ উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়।

নৌপরিবহণ উপগ্রহ : বিশাল সমুদ্রে নৌকা, জাহাজ, স্টিমার ইত্যাদি নৌযান কোন অবস্থানে আছে, কোন দিকে যাচ্ছে ইত্যাদি অবস্থান জনতে এ উপগ্রহের সহায়তা নেওয়া হয়।

জ্যোতির্বিদ্যা বিষয় উপগ্রহ : এ উপগ্রহে রাখা টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্র মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিভিন্ন অজানা তথ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দিয়ে থাকে।

তাই বলা যায় শিক্ষকের উক্তিটি যৌক্তিক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন